সমস্যার আবর্তে পঞ্চগড় নেসকো

সমস্যার আবর্তে পঞ্চগড় নেসকো

ফন্ট সাইজ:

নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও কীভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে লাইনম্যান মারা গেল তা ১০ দিনেও উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এতে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতকারী লাইনম্যান ও সাধারণ মানুষ। এ দুর্ঘটনার জন্য নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ পরস্পরকে দায়ী করেছে। গত ৫ই এপ্রিল বিকালে শাহীন আলম নামের এক লাইনম্যান পুরাতন পঞ্চগড় গোলচত্বর এলাকায় নেসকোর ১১ হাজার কেভি লাইনে ত্রুট সারানোর জন্য পোলের উপরে ওঠেন। কাজ শুরু করার সময় আকস্মিকভাবে বিদ্যুতায়িত হয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। কাজ করার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছে। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রায় ৩০ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। এতে মানুষ নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও ওই সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু ছিল। পল্লী বিদ্যুতের ক্রসিং লাইনের তার বাতাস বা অন্য কোনো কারণে নেসকোর লাইনের তারের সঙ্গে লাগলে বিদ্যুতায়িতর ঘটনা ঘটে। এদিকে, বৃষ্টি, বর্জ্রপাতসহ নানা কারণে নেসকোর লাইনের কোথাও কোনো ক্রটি হলে তা শনাক্ত করে সারাতে লেগে যাচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। প্রয়োজনীয় জনবল ও যানবাহনের অভাবে ফল্ট ক্রটির স্থান চিহ্নিত করতে অনেক সময় লাগার জন্য গ্রাহকরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। পঞ্চগড় জেলায় নেসকোর গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৪৩ হাজার। ৪১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে গ্রাহকদের লাইন। এছাড়া ৩৩ হাজার কেভি লাইন সাড়ে ২৭ কিলোমিটার ও ১১ হাজার কেভি লাইন রয়েছে ৮৬ কিলোমিটার। এ বিশাল এলাকার বিদ্যুৎ লাইন ও গ্রাহকদের সমস্যা দেখার জন্য ১ জন উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) সহ আরও কমপক্ষে ২ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, ৩ জন লাইনম্যান ও ১টি গাড়ি প্রয়োজন। এ বিষয়ে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হলেও কিভাবে লাইনম্যান বিদ্যুতায়িত হলো তা আমরা এখনো উদ্ঘাটন করতে পারিনি। তবে পল্লী বিদ্যুতের ক্রসিং লাইনের কারণে সে বিদ্যুতায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত অপরিকল্পিত ক্রসিং বিদ্যুৎ লাইন আমি অন্য জেলায় দেখিনি। আমি মৌখিকভাবে ক্রসিং লাইন সরিয়ে নেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে বলেছি। কোথাও কোনো সমস্যা হলে লাইনম্যানরা এখন থেকে নিজেদের সেফটি নিশ্চিত করে কাজ করবে। নেসকো কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে পঞ্চগড় পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাজহারুল আলম বিরক্তিভাব প্রকাশ করে বলেন, লাইনম্যান কোন লাইনের বিদ্যুতে মারা গেছে তা তদন্ত কমিটিকে জিজ্ঞাসা করেন। আমাদের লাইনের কোনো সমস্যা নেই। নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের উভয়রই ক্রসিং লাইন রয়েছে। যে পোলে লাইনম্যান মারা গেছে সে পোল থেকে আমাদের একটি ক্রসিং লাইনের দুরত্ব ৬ কিলোমিটার। তাহলে আমাদের লাইনের বিদ্যুতে কিভাবে তার মৃত্যু হয়। এটা নেসকোর সমস্যা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন