চাঁদপুর-৫ আসনে ৪৫ বাজার খাজনামুক্ত ঘোষণা, নিষিদ্ধ চাঁদাবাজি

চাঁদপুর-৫ আসনে ৪৫ বাজার খাজনামুক্ত ঘোষণা, নিষিদ্ধ চাঁদাবাজি

ফন্ট সাইজ:

চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। তার উদ্যোগে ১লা বৈশাখ থেকে শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলার মোট ৪৫টি বাজারে কোনো ধরনের খাজনা আদায় করা হবে না। একইসঙ্গে বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ডে ইজারা ও চাঁদাবাজির প্রচলিত প্রথাও বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার হাজীগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি বলেন- আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। বাজার, বাসস্ট্যান্ড কিংবা সিএনজি স্ট্যান্ড- কোথাও সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের হয়রানি বা চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। কেউ যদি খাজনা বা ইজারার নামে মানুষকে হয়রানি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে তিনি গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন ও সুধীজনদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সভায় সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের প্রথম বক্তব্যে তিনি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিষয়টি তুলে ধরেন। সাধারণত বাজার ইজারা না দিলে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে ভিন্নধর্মী সমাধান করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বাজার ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পর সংসদ সদস্য নিজ উদ্যোগে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সমপরিমাণ রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে না, আবার কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও খাজনা দিতে হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন- সাধারণত ইজারা বাতিলের ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কিন্তু এখানে নিয়ম মেনে নির্ধারিত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি’র নেতারাও। এদিকে বাজারে খাজনা বন্ধের ঘোষণায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এখন থেকে অতিরিক্ত অর্থের চাপ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ফসল ও পণ্য কেনাবেচা করা সম্ভব হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন