বিশ্বকাপ ফুটবল যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখনও সেই একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্রাজিল ভক্তদের মনে, নেইমার কি সেলেসাও স্কোয়াডে জায়গা পাবেন? ফুটবল মাঠ অথবা ড্রেসিংরুম পেরিয়ে এই আলোচনা গড়িয়েছে খোদ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ভবন পর্যন্ত। ব্রাজিলের ৮০ বছর বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা সম্প্রতি জানিয়েছেন, নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে নেয়া উচিত কি না, সে বিষয়ে তার কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বৃটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের তথ্যমতে, নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক লাইভ ব্রডকাস্টে লুলা বলেন, “আনচেলোত্তির সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়। তিনি আমাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার কি মনে হয়, নেইমারকে (দলে) ডাক দেয়া উচিত?’ আমি তখন তাকে বলি, ‘নেইমার যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তবে তার ফুটবলের সামর্থ্য এখনও আছে। তবে বড় প্রশ্ন হলো, সে আসলে বিশ্বকাপ খেলতে কতটা ক্ষুধার্ত?’” পেশাদারত্বের দিক থেকে নেইমারকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা লিওনেল মেসির উদাহরণ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন তিনি। লুলা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘শুধু নামের ওপর ভিত্তি করে সে জাতীয় দলে সুযোগ প্রত্যাশা করতে পারে না। তাকে মাঠে পারফর্মেন্স করেই জায়গা অর্জন করতে হবে।’
তবে মাঠের পারফর্মেন্সের চেয়েও বর্তমানে মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বেশি আলোচিত নেইমার। সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে একটি ম্যাচে রেফারি সাভিও পেরেরা সাম্পাইওকে উদ্দেশ্য করে ‘লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ মন্তব্যের কারণে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হন তিনি। যদিও পরে এক ভিডিও বার্তায় সাবেক বার্সেলোনা তারকা দাবি করেন, তিনি শব্দটির আক্ষরিক অর্থ না জেনেই মজা করে বলেছিলেন এবং কোনো নারীকে তার অপমান করার উদ্দেশ্য ছিল না।
চোট ও ফিটনেসগত সমস্যায় গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। আগামী ১৮ই মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন আনচেলোত্তি। জাতীয় দলের ফেরার লক্ষ্যে আজ সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে এক গোল করেন ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা নেইমার। যদিও কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলাতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে সান্তোস। ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে ম্যাচের পর সমর্থকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান নেইমার। সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে মাঠ ছাড়েন তিনি।
