চট্টগ্রামে সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’য় এই ঘটনা ঘটে। সংসদ সদস্যের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহকে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে দু’টি গাড়ি নিয়ে তিনি সাবেক মেয়রের বাড়িতে পৌঁছানোর পর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে হঠাৎ করে সেখানে জড়ো হন ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীরা। একপর্যায়ে তারা বাড়ির মূল ফটক ঘিরে ফেলে বিক্ষোভ করে হাসনাত আবদুল্লাহকে অবরুদ্ধ করে রাখেন, ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অবরুদ্ধকারীরা হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, কেন তিনি ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, ‘পরীক্ষিত দোসরের’ সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী, এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন, যার মধ্যে ছিল—‘আওয়ামী লীগের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’।

পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

আকবর শাহ থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকজন ব্যক্তি বাসার সামনে এসে স্লোগান দিলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়নি। ঘটনাটি বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি।’

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এর বেশি কিছুই নয়। আগামীর রাজনীতি হবে এমন সৌহার্দপূর্ণ।’

সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে তিনি আমার বাসায় আসেন। বাসায় তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে মনোনয়ন পাননি তিনি।

শহিদুল ইসলাম

১ মাস আগে

পতিত হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন তখন সংসদে যে ভাষায় কথা বলতেন বর্তমান বিরোধী দলে সে ভাষায় কথা বলেন।স্বৈরাচার ভর করেছে।

মন্তব্য করুন