ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসলামাবাদে দীর্ঘ শান্তি আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ফেরার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাকে ফোন করেন। নেতানিয়াহুর মতে, এই ফোনালাপ এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভেঙে যাওয়ার কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি সোমবার জেরুজালেমে এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেন, রোববার আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে তার বিমান থেকেই আমাকে ফোন করেন। তিনি প্রতিদিনের মতোই বিস্তারিতভাবে আলোচনা অগ্রগতির বিষয়ে আমাকে জানান। তবে এবার তিনি ‘আলোচনায় বিস্ফোরণ’-এর কথাও বলেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, এই ‘বিস্ফোরণ’ এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। কারণ তারা ইরানের চুক্তি লঙ্ঘন সহ্য করতে পারেনি। তার ভাষায়, আলোচনায় বসার শর্ত ছিল- তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেয়া। কিন্তু ইরান তা করেনি। তিনি বলেন, আমেরিকানরা এটা মেনে নিতে পারেনি। তাই আলোচনায় ভাঙন ঘটে।
নেতানিয়াহু জানান, জেডি ভ্যান্স পরিষ্কারভাবে বলেছেন- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময়- সম্ভব হলে কয়েক দশক ইরানের ভেতরে কোনো সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম না থাকা নিশ্চিত করা। নেতানিয়াহু বলেন, এটাই তাদের মূল লক্ষ্য, এবং অবশ্যই আমাদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের এই ‘চুক্তি লঙ্ঘনের’ কারণেই ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করি এবং আমরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছি। তিনি আরও দাবি করেন, জেরুজালেম ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো দূরত্ব আছে এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তার মতে, আমাদের মধ্যে এমন সমন্বয় আগে কখনো ছিল না- না রাষ্ট্রের ইতিহাসে, না ইহুদি জাতির ইতিহাসে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের সঙ্গে আমাদের সমন্বয় রয়েছে।
লেবানন পরিস্থিতি
মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু লেবাননের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, আগের দিন দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি বলেন, তারা অসাধারণ কাজ করছে দৃঢ় মনোবল ও সংকল্প নিয়ে। তার মতে, সেনারা সীমান্ত থেকে শত্রুদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে এবং একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে, যা ভবিষ্যৎ হামলার ঝুঁকি কমাবে।
ইরানের ভিন্ন দাবি
তবে ইরানের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে লিখেছেন, ইসলামাবাদ বৈঠকের মধ্যেই নেতানিয়াহুর ফোন যায় জেডি ভ্যান্সের কাছে। সেটাই আলোচনার লক্ষ্য বদলে দেয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করেছে, যা তারা যুদ্ধে অর্জন করতে পারেনি। আরাঘচি দাবি করেন, ইরান সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলনকে তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের জাতির স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রস্তুত আছি।

Refatullah
২ মাস আগেIsrail and USA both are enemy of Islam ,also their colabaretor gulf countries.
Bas
২ মাস আগেWhy Muslim people go to USA mr Refatullah?