রায়পুরে মেঘনায় চলছে ইলিশ শিকার, তীরেই হচ্ছে বিক্রি

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর বেশ কয়েকটি এলাকায় ইলিশ শিকারে মেতেছেন কিছু জেলে। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই শিকার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা। অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ মাছ শিকারের বিষয়ে তাদের দাবি, ঋণের চাপ ও সরকারি সহায়তা না মেলায় জেলেরা নদীতে নামতে বাধ্য হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাটকা রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকায় গত ১লা মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২ মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মৎস্য অধিদপ্তর। যা আগামী ২০শে এপ্রিল শেষ হবে। কিন্তু দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান এবং কঠোর তৎপরতা থাকলেও রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে ফাঁকা হয়ে যায় নদীর তীরবর্তী এলাকা। তখন মাছ শিকারে দলবেঁধে নেমে পড়েন জেলেরা। আড়ত মালিকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রায়পুর শহরসহ আশপাশের এলাকায় ইলিশের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে বাজারে দামও চড়া। মাঝারি আকারের ইলিশ ১১০০ থেকে ২০০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের সাজু মোল্লার মাছঘাট, আলতাফ মাস্টার ঘাট, সøুইসগেট, রাহুল ঘাট ও টুনুর চর এলাকা এবং রায়পুর-চরভৈরবী সীমান্তসহ বিভিন্ন পয়েন্টে রাতে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ শিকার চলছে। কয়েকজন আড়ত মালিক বলেন- নববর্ষ সামনে রেখে অনেক জেলে নদীতে নামছেন। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের উৎপাদন বন্ধ না হলে জাটকা নিধনও বন্ধ হবে না। উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হাসনাইন বলেন- তাদের জনবল কম। তবু নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান কাউছার জানান-নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ শিকার করলে তাদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন তৎপর। সংশ্লিষ্ট, মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, পুলিশ বিভাগকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন