মহম্মদপুরে আটক ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে রহস্য, তদন্তের দাবি

ফন্ট সাইজ:

মাগুরার মহম্মদপুরের চরপাড়া এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক আকুব্বর মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও নিহতের পরিবারের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ঘটনাটি এখন সারা দেশে আলোচিত ও সমালোচিত। এ ছাড়া জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও ক্ষোভ। এ ঘটনায় মৃত আকুব্বরের পরিবারের দাবিÑ ঘটনার দিন রোববার সকালে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আকুব্বরকে ডিএনসি’র একটি টিমের লোকেরা ধমক দিয়ে ডেকেই তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। ঘুম থেকে উঠিয়েই হাতকড়া পরিয়ে তাকে মারধর করায় তার মৃত্যু হয়। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবিÑ তাকে আটকের পর ধস্তাধস্তির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানাবিধ ছবি এবং ভিডিওতে দেখা যায় ওই আকুব্বরের হাতকড়া পরিহিত আটককৃত ছবি। হাতকড়াসহ আটককৃত ওই ছবি এবং আটকের পর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ওই পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জোরালো করছে। এখন সাধারণ জনতার মুখে একটিই কথাÑ আটকের পরে হাতকড়া পরানোর পর যেহেতু মৃত্যুর রহস্য নিয়ে সেহেতু প্রশ্ন থাকেই। অন্যদিকে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটকের পাল্টাপাল্টি দাবি জেলার ডিএনসি করলেও পরিবারের অভিযোগ এটি একটি হত্যাকাণ্ড। নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১১টার দিকে কিছু লোকজন এসে তাকে বিছানা থেকে তোলে। পরে কোনো কথা ছাড়াই তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারতে মারতে পাশের বাগানের দিকে নেয়া হয়। পরে আবার মারতে মারতে বাড়িতে আনা হয়। এ সময় সে অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে একটু পানি খেতে চেয়েছিল। পানি তো খেতেই দেয়নি বরং তাকে আমার চোখের সামনেই মারতে থাকে। স্বামীর মৃত্যু মারধরের কারণেই হয়েছে। ডিএনসি’র এ মাদকবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বদানকারী, মাগুরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক শাহারা ইয়াসমিন বলেন, আকুব্বরের ঘর তল্লাশি করে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারা যান। মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, আকুব্বরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। তবে অভিযানের সময় আসলে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সাধারণ জনতার কথাÑ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যেকোনো অপরাধে অপরাধীকে আটক ও বিচার করার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে, কিন্তু আটকের পর হাতকড়া পরানোর পরে হেফাজতে থাকাকালীন অবস্থায় মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। মৃত্যুর এ ঘটনাটি নিয়ে একদিকে প্রশাসনের দাবি ‘অসুস্থতাজনিত মৃত্যু’, অন্যদিকে নিহতের পরিবার স্থানীয় ও স্বজনদের দাবি ‘পিটিয়ে হত্যার’ অভিযোগ। তবে ঘটনার চাক্ষুস সাক্ষী মো. সাদ্দাম হোসেন, শাবানাসহ স্থানীয়রা মানবজমিনকে বলেনÑ তাদের চেখের সামনেই প্রচণ্ডভাবে মারপিট করা হয়েছিল আকুব্বরকে। বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন ও আসল সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এখন শুধু সময়েরই দাবি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন