যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান বিশ্বনেতাদের

ফন্ট সাইজ:

আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা তাদেরকে আলোচনায় ফিরে যাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানও রোববার একই অনুরোধ জানায়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা থামাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডন বলছে, কয়েক সপ্তাহের লড়াইয়ের পর দুই পক্ষ দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়ে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসে। তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আবারো সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার রোববার বলেন, উভয় পক্ষের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভবিষ্যতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ ও যোগাযোগে সহায়তা করে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং-ও একই আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনায় ফিরে যাওয়া।

তিনি ইসলামাবাদের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। রোববার ইসহাক দার সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাদা ফোনালাপে একই বিষয় জোর দিয়ে তুলে ধরেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মুখপাত্র আনোয়ার আল আনৌনি বলেন, যুদ্ধ সমাধানে কূটনীতি অপরিহার্য। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রাসেলস অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি উভয় পক্ষকে আলোচনায় থাকার এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে সাক্ষাতে তার মনে হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্ব যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, সফল হতে গেলে সবারই কিছু কঠিন ছাড় দিতে হবে। কিন্তু তা ব্যর্থতা ও যুদ্ধের যন্ত্রণার তুলনায় কিছুই নয়। বৃটেনের মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ইসলামাবাদের আলোচনা স্থবির হয়ে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়া এবং এই যুদ্ধের টেকসই সমাপ্তি না দেখা সত্যিই হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, কূটনীতিতে আপনি সফল না হওয়া পর্যন্ত ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই এই আলোচনা সফল না হলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব কমে যায় না।

ওদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনায় কোনো তাড়াহুড়ো দেখাচ্ছে না। আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যৌক্তিক চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং দ্রুত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নইলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন