পশ্চিমবঙ্গকে তিনটি টুকরো করার ছক করছে বিজেপি। মেশাতে পারে বিহার-ওড়িশার সঙ্গে। রোববার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘এই নির্বাচন হল মরণপণ লড়াই। আমি বিজেপি এবং অন্যান্য দলের ভোটারদের কাছে অনুরোধ করব, যাতে তারা অন্য কোনও দলকে ভোট না দেয়।
এসআইআরের নামে বিজেপি বাংলার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ভয় দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে ৯০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।' মমতা এদিন নির্বাচনি প্রচার সভায় বলেন, 'একদিকে ওরা ধর্মের কথা বলে, অন্যদিকে ওরা ৬০ লাখ হিন্দু ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। ৩০ লক্ষ মুসলিম ভোটারের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতিদের উপর প্রতিদিন অত্যাচার চালানো হচ্ছে।’
পশ্চিমবঙ্গকে টুকরো করার পরিকল্পনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা সোচ্চার হয়েছেন। রোববার বাঁকুড়ার ছাতনার শালচুড়া ফুটবল মাঠের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো বলেন, ‘ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে ওরা বাংলার কিছু জেলাকে বিহার এবং ওড়িশার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারে। আমাদের মানুষের উপর তখন আরও বেশি অত্যাচার হবে।
তিনি বলেন, ’আমাদের সরকার ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করতে দেবে না। আমরা এনআরসি কার্যকর করতে দেব না। বিহারে ওরা প্রথমে ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। এখন ওরা বলছে, এই মানুষগুলো রেশন পাবে না। তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হচ্ছে।’
একইসুরে এদিন পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখবেন ১৫ তারিখে ওরা ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে আসছে। এর মানে জানেন? ওরা নিজেদের স্বার্থে বাংলাকে ভাগ করতে চায়। ওরা বোঝে না যে মানুষ অনেক কিছু ভাবে, কিন্তু হয় সেটাই যা ওপরওয়ালা চান। আপনারা এসব করলে ২০২৬ সালে বিজেপি সরকার উল্টে যাবে—তারা-চাঁদ, মহাবিশ্ব এবং সারা দেশ তাই বলছে। মমতা বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে এর বদলা নেব।’ বিজেপির সব কালাকানুন বাতিল করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, 'বাংলায় কথা বললেই আমাদের অনুপ্রবেশকারী বানিয়ে দেয়? আমরা সবাই এই দেশে জন্মেছি। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন, তারা ভারতের বৈধ নাগরিক। যারা ২০২৪ সালে এসেছেন, তারা বিজেপি করার কারণে নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা যুগ যুগ ধরে এখানে বাস করছেন, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষ যাঁরা অসুস্থ, তাঁদেরও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে।'
