ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নিরপেক্ষ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ। তিনি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ১০ এপ্রিল মিট দ্য প্রেসে ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি এবং বৃহত্তর আলোচনাকে ঘিরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ সক্রিয় রয়েছে। রাষ্ট্রদূত শেখ বলেন, পাকিস্তান তার দীর্ঘদিনের ইতিবাচক ঐতিহ্য বজায় রেখে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখছে।
তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান আঞ্চলিক অংশীদারদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব), মিশর, তুরস্কসহ অন্যান্য দেশ। ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলোর মধ্যে ‘গঠনমূলক মনোভাব’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, পাকিস্তান মূলত একজন সহায়কের ভূমিকা পালন করছে, আর চূড়ান্ত সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপরই বর্তায়। তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়ই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে। এছাড়া তিনি বলেন, এই মুহূর্তে অর্থবহ অগ্রগতি অর্জনের জন্য কূটনীতিকে পূর্ণ সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। শান্তি আলোচনার জন্য এতে ওয়াশিংটন ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে তেহরান ১০ দফা পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে এই কৌশলগত জলপথে অধিক নিয়ন্ত্রণ, ট্রানজিট ফি চালু, আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রম বন্ধ এবং সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছে এবং উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আনতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে।
