সুযোগ পেলে মুহূর্তেই ট্রাম্পকে হত্যা করতেন মোজতবা খামেনি: ইয়ান ব্রেমার

সুযোগ পেলে মুহূর্তেই ট্রাম্পকে হত্যা করতেন মোজতবা খামেনি: ইয়ান ব্রেমার

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনিশ্চিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, ইসলামাবাদে শনিবারের বৈঠক ভেস্তে যেতে পারে। এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইয়ান ব্রেমার। তার মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রতিশোধের তাড়নায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারেন। শুক্রবার এনডিটিভির ম্যানেজিং এডিটর শিব অরুরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ব্রেমার বলেন, সুযোগ পেলে খামেনি মুহূর্তেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করতেন।

ব্রেমার বলেন, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেয়ার দাবি তোলে এবং তেহরানকে লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো মিত্রদের সমর্থন বন্ধ করতে চাপ দেয়, তাহলে আলোচনা ভেঙে যেতে পারে। উল্লেখ্য, ইয়ান ব্রেমার একজন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, লেখক। বৈশ্বিক রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে ইসরাইলি হামলা এড়াতে ইরান সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণ করে। এতে স্থানীয় কমান্ডারদের হাতে ক্ষমতা যায়। ফলে যুদ্ধবিরতি মানা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ কিছু কমান্ডার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)-এর পূর্ণ সমর্থন পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রেমার জানান, হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে, তাও ইরানের অনুমতি নিয়ে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি চললেও যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে এবং আরও একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইরানে বা হরমুজ প্রণালিতে স্থল অভিযান চালানোর বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে। ব্রেমারের ভাষায়, যদি কেউ সংশয়বাদী হন, তাহলে বলতে পারেন- ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তার সেনারা পুরোপুরি পৌঁছানো পর্যন্ত তেলের দাম কম রাখা এবং বাজারের মনোভাব ইতিবাচক রাখা।

ব্রেমার বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ক্ষমতায় এসেছেন তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার পর। তাই তার সিদ্ধান্তে প্রতিশোধ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, তিনি শুধু কৌশলগত ভুল করছেন না, তিনি ক্ষুব্ধ। প্রতিশোধ নেয়া এবং আমেরিকাকে কষ্ট দেয়া- এই মানসিকতাই তাকে পরিচালিত করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে এমন কোণঠাসা করেছে যে, তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ আর পুরোপুরি যুক্তিসংগত থাকছে না, যা একটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

ইসরাইল প্রসঙ্গে ব্রেমার বলেন, দেশটি এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্ভবত যুদ্ধবিরতি ভাঙার চেষ্টা করবে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রধান মিত্র এবং বিপুল আর্থিক সহায়তা দেয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের মধ্যে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ‘ইসরাইল-ফার্স্ট’ যুদ্ধ, ‘আমেরিকা-ফার্স্ট’ নয়। যা ট্রাম্প ও তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ভারত প্রসঙ্গে ব্রেমার বলেন, দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল কিনে যাচ্ছে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, চীন ও সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক এসব কারণে ইসলামাবাদ এই ভূমিকা নিতে পেরেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এতে ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের অবস্থান বদলায় না। তার ভাষায়, ভারতের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কাছে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। সব মিলিয়ে ব্রেমার মনে করেন, বিশ্ব এখন বহুমেরুকেন্দ্রিক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠছে।

লিমা

২ মাস আগে

একজন মানুষের জন্য সারাবিশ্বের মানুষের অশান্তি তাকে জিবি ত রাখা বোকামী।

আল মাহমুদ যুবায়ের

২ মাস আগে

সে তো একটা পাজি শিয়াল

রাশেদ

২ মাস আগে

হাহাহা পাকিস্তানের সাফল্যের জন্য ভারতের জ্বালা পোড়া শুরু হয়েছে।

Rana

২ মাস আগে

এই চক্র আর ভালো হইল না, গোমূত্র খায় আর হুক্কা হুয়া করে আর মনে মনে ভাবে "আমিও বিশাল কিছু একটা"

Susanta bikash barua

২ মাস আগে

সারা বিশ্ববাসীর উচিৎ ইরানকে বাইপোলার করা।

মন্তব্য করুন