গত বাছাইয়ের রানার্সআপ বাংলাদেশ এবার পঞ্চম

গত বাছাইয়ের রানার্সআপ বাংলাদেশ এবার পঞ্চম

ফন্ট সাইজ:

হংকংকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে জায়গা নিশ্চিতের শেষ ম্যাচেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ব্যাংককের রয়েল থাই এয়ারফোর্স টার্ফে চাইনিজ তাইপেকে ৩-২ গোলে হারায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ জয়ে এশিয়ান কাপ হকি বাছাইপর্বে গত আসরে দ্বিতীয় হওয়া দলটি এবার পঞ্চম হয়ে দেশে ফিরছে।
গ্রুপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ফেভারিট হিসেবে নেমে ৪-৩ গোলের কষ্টার্জিত জয় পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে তো র‌্যাঙ্কিংয়ে আট ধাপ পিছিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বসে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। উজবেকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ হয় আশিকুজ্জামানের শিষ্যদের। স্থান নির্ধারণী সেমিফাইনালে হংকংয়ের বিপক্ষে লড়াই করে জয় পেতে হয় বাংলাদেশকে। গতকাল পঞ্চম স্থান নির্ধারণীতে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষেও ঘাম ঝরাতে হয় আশরাফুল-রাব্বিদের। সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে বাংলাদেশকে লিড এনে দেন আশরাফুল ইসলাম। এগিয়ে যাওয়ার উল্লাসে মাত্র চার মিনিট পর গোল হজম করে বাংলাদেশ। ফিল্ড গোল করে চাইনিজ তাইপেকে সমতায় ফেরান জে উয়েই চেং। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথম কোয়ার্টার। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে পেনাল্টি কর্নার থেকে ফের গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৯৬তম ম্যাচ খেলতে নামা আশরাফুল। বাছাইপর্বের এবারের আসরে এটি তার ৭ম গোল। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ করে বাংলাদেশ। তবে তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে আবারো সমতায় ফেরে চাইনিজ তাইপে। ফিল্ড গোল করে দলটিকে সমতায় ফেরান লো হাও কাই। ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন যুব বিশ্বকাপে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা মেহেরাব হোসেন সামিন। ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ করে বাংলাদেশ। চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে চাইনিজ তাইপের আক্রমণভাগ। চারটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করলেও গোল করতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত জয় দিয়ে বাছাইপর্ব মিশন শেষ হয় বাংলাদেশের। এ নিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে হারালো লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। বাছাইপর্বে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন বাংলাদেশের আশরাফুল ইসলাম। ইন্দোনেশিয়ার অলিয়া আল আর্দের সমান ৭ গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা চারজনের একজন লাল-সবুজ ডিফেন্ডার আমিরুল ইসলাম। টুর্নামেন্টে তিনি ৪ গোল করেন।
দুই দশক ধরে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব খেলা বাংলাদেশ এবারই প্রথম ফাইনালে যেতে পারেনি। ২০০৬ সালে ঘরের মাঠে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ২০১০ ও ২০১৪ সালে শিরোপা ধরে রাখে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে হারিয়ে বাছাইপর্বে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় ওমান। ২০২২ সালেও ওমানের কাছে ফাইনাল হেরে দেশ ফেরে বাংলাদেশ। এবার দেশে ফেরা হচ্ছে অশনিসংকেত নিয়ে। রানার্সআপ থেকে নেমে পঞ্চম হয়ে। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের আচি ও নাগোয়াতে পর্দা উঠবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের। এ প্রতিযোগিতায় হকি ইভেন্টে ১১ বার অংশ নেয় বাংলাদেশ। ১৯৭৮ ও ২০১৮ সালে ষষ্ঠ হওয়াই বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন