ইতিহাসের শিক্ষক পড়ান আইসিটি

ইতিহাসের শিক্ষক পড়ান আইসিটি

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম শাহাবুদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে ৪ জন শিক্ষক তাদের নির্ধারিত বিষয় বাদ দিয়ে অন্য বিষয় নিয়ে কোচিং শিক্ষার্থীদের পাঠদান করান। ইতিহাসের শিক্ষক কোচিংয়ে তার কলেজের শিক্ষার্থীদের দেদারছে পড়াচ্ছেন আইসিটি। রসায়নের শিক্ষক পড়াচ্ছেন উচ্চতর গণিত, জীববিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সকল বিষয়। সরজমিন বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব ঘটনায় দুই মাস আগে কলেজের শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং থেকে বিরত থাকার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ চিঠি দেন। তবে কোনো শিক্ষক মানছেন না তার কথা। জানা যায়, আছিম শাহাবুদ্দিন মহাবিদ্যালয় কয়েক বছর আগেও পরীক্ষার রেজাল্টের দিক দিয়ে ছিল উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানের সেরা। এনটিআরসি থেকে নিয়োগ নিয়ে আসা শিক্ষকরা কলেজের কোনো নিয়ম না মানায় পাসের হারে ধস নামতে শুরু করে। ইতিহাসের শিক্ষক আল আমীন শেখ কলেজের দক্ষিণ পাশে টিনশেডের ঘর ভাড়া নিয়ে পড়ান আইসিটি। সকাল ৬টা থেকে বাড়ি থেকে আসা শিক্ষার্থীরা কলেজে ক্লাস না করেই চলে যান। একই টিনশেডের অপর রুমে ইংরেজি পড়ান কলেজের ইংরেজি শিক্ষক মো. সালিম। প্রতিদিন তিনি সকাল ৭টা থেকে ৮টা, ৮ টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ক্লাস নিয়ে থাকেন। কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিমায়েত হোসেনের কোচিং সেন্টারের নাম ‘হিমায়েত স্যার সায়েন্স একাডেমি’ ওই কোচিং সেন্টারে বাংলা বাদে অন্য সকল বিষয় পড়ান তিনি। সকল বিষয়ে নিজেকে অভিজ্ঞ মনে করা ওই শিক্ষক জানান- কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানো যাবে না এমন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। সকল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে পড়ান এমন প্রশ্নের উত্তর তিনি দিতে পারেননি। ইতিহাসের শিক্ষক হয়ে কোচিং সেন্টারে আইসিটি শিক্ষার্থীদের কীভাবে পড়ান জানতে চাইলে আল আমীন শেখ বলেন- আমার আইসিটির ওপর প্রশিক্ষণ আছে। ইংরেজি শিক্ষক মো. সালিম জানান, তিনি আর কোচিংয়ে পড়াবেন না। কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষে সকাল ৭টা থেকে শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ান বাংলা বিভাগের শাহাদত হোসেন। তিনি জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিয়েই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে থাকেন। এ ছাড়া ওই কলেজের অর্থনীতির শিক্ষক সানজিদা শারমিন সরকার সানি ও বাংলার শিক্ষক দূর্বা বিশ্বাসও কোচিং করান বলে কলেজের সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। এদিকে, সকাল ৮টার মধ্যে যে সকল শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের পড়া শেষ হয়। তারা বাড়িতে না গিয়ে টি স্টলসহ বাজারে আড্ডা দিয়ে থাকে। কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, ভোর ৬টায় বাড়ি থেকে আসা মেয়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং শেষ করে জটলা করে আড্ডা দিচ্ছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাউকে কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। আছিম শাহাবুদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১২০০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ২৮ জন। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৯৫ জন, ফেল করেছে ২২৭ জন। বেশি ফেল করেছে আইসিটি ও ইংরেজিতে। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন জানান- ইতিহাসের শিক্ষক আইসিটি পড়ান এটা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা। আমি কোচিং, প্রাইভেট থেকে বিরত থাকতে চিঠি দেবো এবং বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন