সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না হওয়ায় জনভোগান্তির অন্ত নেই। বছরের পর বছর থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বসতবাড়ি, দোকানপাট মূল্যবান সম্পদ পুড়ে বিনষ্ট হওয়ার ধারাবাহিক ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে জানমাল রক্ষায় জনস্বার্থে গোয়াইনঘাট সদরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কোনো সেবা কার্যক্রম না থাকায় বছরের পর বছর থেকে উপজেলার সর্বত্রই মাঝে মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আগুনে মানুষজনের বসতভিটা, দোকানপাট, আসবাবপত্র, মূল্যবান সম্পদ ভস্মীভূত হচ্ছে। শুধু তাই নয় জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল পিকনিক স্পটসমূহে বেড়াতে আসা সাঁতার না জানা পর্যটক দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে আসছে। গোয়াইনঘাট জুড়ে কোথাও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে জরুরিভিত্তিতে অগ্নিনির্বাপণ, জানমাল রক্ষায় পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলা কিংবা সিলেট শহরের মতো দূরবর্তী এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহযোগিতা নিতে হয়। সিলেট-৪ সীমান্ত জনপদের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দু’টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করলেও একই আসনে আয়তনে মেহেরপুর জেলার চেয়ে গোয়াইনঘাটে এখনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন গড়ে উঠেনি। জনগণের জানমাল রক্ষায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে সরকারের সাবেক মন্ত্রী স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ইমরান আহমদের প্রচেষ্টায় গোয়াইনঘাট বাইপাস বাসস্ট্যান্ডে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হয়। এই লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিপূর্বে উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রশাসনের তরফে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু ভালোমানের ও আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে ন্যূনতম ০.৬৭ একর ভূমি প্রয়োজন। প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে ৬ই এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের গোয়াইনঘাট ফায়ার স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে ০.৬৭ একর জমি বন্দোবস্ত/অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের চিঠি চালাচালিতে আটকে থাকায় উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বাস্তবায়িত না হওয়ায় উপজেলা জুড়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকাতে প্রতি বছর বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উপজেলার ১০নং পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ গোলাম কিবরিয়া হেলাল জানান, গোয়াইনঘাটে দীর্ঘদিন থেকে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন বাস্তবায়নের দাবি চলমান ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে সরকার গোয়াইনঘাটে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে গোয়াইনঘাট বাইপাস এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ করে কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সরকারের সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদ। জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা লেঙ্গুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ লুৎফুল হক খোকন জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরাসরি বিষয়টি ওয়াকিবহাল আছেন এবং অচিরেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী জানান, প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক ও উদ্যোগী হয়েছেন। ইতিপূর্বে ০.৩৩ শতাংশ জমিতে উক্ত ভবন কাজ করার কথা ছিল জনস্বার্থে তা আধুনিক ও ভালোমানের আকারে গড়ে তুলতে সরকার উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে ০.৩৩ শতাংশের স্থলে .৬৭ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ সাপেক্ষে উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জেনেছি। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে অবশিষ্ট প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণে আমাদের বরাবরে চিঠি এসেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে বলে মনে করি।
যে কারণে আটকে আছে গোয়াইনঘাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি
১০ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
