‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেয়া হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করেন তারা। অধ্যাদেশটি থেকে ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও অন্যান্য ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট নিষিদ্ধের বিধান সংক্রান্তের মতো ধারা বাতিল হলে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে জনগণ।
তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের দাবি, নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে নতুন সরকার ও সংসদ যেন এই জনবান্ধব অধ্যাদেশটি কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া বা বিলম্ব ছাড়াই দ্রুত পাস করে। তাদের মতে, একটি শক্তিশালী, সময়োপযোগী ও প্রমাণভিত্তিক তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নই এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি, যা দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩০শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশিত হয়, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার কর্তৃক অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত “স্পেশাল কমিটি ফর রিভিউ দি অর্ডিনেন্স” অধ্যাদেশটি পর্যালোচনা করে ধারা ২(গ) ও ধারা ৬(গ) সংশোধন করে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।
এরই প্রেক্ষিতে ৭ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করা হয়। তবে বিলটি উত্থাপিত হলেও সেদিন পাস হয়নি। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী আইনের ধারা ২(গ)-এর ব্যাখ্যা থেকে ‘ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম’ এবং ‘হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্ট’-এর সংজ্ঞা বাদ দেয়া হয় এবং ধারা ৬(গ), যা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ও অন্যান্য ইমার্জিং টোব্যাকো প্রডাক্ট নিষিদ্ধের বিধান সংক্রান্ত, সেটিও বাতিল করা হয়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিলটি অধিকতর সংশোধনের জন্য রেখে পরবর্তী সময়ে পাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উক্ত আইন থেকে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ধারা ৬(ছ), যেখানে বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, কৌটা, খালি বা নমুনা মোড়ক প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে, এবং ধারা ৭(ক), যেখানে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান না রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত এই দুটি ধারাও বাতিল করার চেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারা বাদ দেয়া হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য ব্যাহত হবে।
জনবান্ধব তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটির কোনো প্রকার কাটাছেঁড়া ছাড়া সংসদে পাসের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২ মাস আগে
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৬ঃ৪৭ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
