প্রথম আলো
‘বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমছে, দুশ্চিন্তা কমল দেশে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করেছে। যেকোনো সময় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এ প্রণালি দিয়ে। এটি চালু হলে জ্বালানির সরবরাহ বাড়বে। এর ফলে দাম আরও কমতে পারে। বাংলাদেশেও জ্বালানি খাতে দুশ্চিন্তা কমেছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলছে, যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সরকারি পরিশোধনাগারের উৎপাদন বন্ধের পথে। দ্বিগুণ দামে পরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আনা হতো, সেটার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দ্বিগুণের বেশি দামে খোলাবাজার থেকে কেনা হচ্ছে এলএনজি। যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, এটা অবশ্যই স্বস্তির খবর। আটকে থাকা ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল চলে আসছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম কমতে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। এতে আমদানি খরচ কমবে, ডলার সাশ্রয় হবে এবং ভর্তুকি কমবে। সব মিলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি নিয়ে আসবে।
এদিকে বিবিসির খবর বলছে, যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়। যদিও যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় দাম এখনো বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল গড়ে ৭০ ডলার, যা একপর্যায়ে ১১৯ ডলারে ওঠে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বিশ্লেষকেরা বলেন, যুদ্ধবিরতির কারণে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহে এখনকার মতো সংকট থাকবে না।যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কারণ, যুদ্ধে জ্বালানি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংঘাত আরও বাড়ালে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঝুঁকি নিতে চাননি।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আলফাসেন্সের বিশ্লেষক জ্যাভিয়ার স্মিথ বিবিসিকে বলেন, জ্বালানির দাম আরও বাড়লে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো হবে। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
এশিয়ার দেশগুলোর ক্ষতি বেশি
বিবিসি বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। কেননা এ অঞ্চলের দেশগুলোই উপসাগরীয় জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় গত কিছুদিনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও কোম্পানি নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফিলিপাইনের কথাই বলা যায়। দেশটির জ্বালানি আমদানির ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ বন্ধের পর প্রথম দেশ হিসেবে গত ২৪ মার্চ তারা জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। দেশটিতে পেট্রলের দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছিল।
অন্যদিকে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এশিয়া অঞ্চলের অনেক বিমান সংস্থা ভাড়া বাড়িয়েছে; সেই সঙ্গে অনেক উড়ান বাতিল হয়েছে।
জাপানের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনমিকসের গবেষক ইচিরো কুতানি বিবিসিকে বলেন, উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোর অনেকেরই নিজস্ব পরিশোধনাগার বা পর্যাপ্ত তেল মজুত নেই। ফলে তেলের দামের অভিঘাত তাদের গায়েই বেশি লেগেছে। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি এশিয়ার জন্য স্বস্তির খবর। এ ব্যবস্থা কার্যকর থাকলে তেলের দাম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে, তবে সময় লাগবে।
বাংলাদেশে আপাতত স্বস্তি
যুদ্ধবিরতির খবর বাংলাদেশের জন্য আপাতত স্বস্তি এনেছে। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরে তেল ও এলএনজি নিয়ে বাংলাদেশমুখী দুটি ট্যাংকার (জাহাজ) প্রায় এক মাস ধরে আটকে ছিল। যুদ্ধবিরতির সুযোগে এই দুই ট্যাংকার এখন বাংলাদেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্বালানি তেল আমদানি করে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ সংস্থার দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারটি রওনা দেবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকেও আসবে একটি ট্যাংকার। তাঁরা আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের দেশ থেকে যেসব জাহাজ আসেনি, সেগুলো এ মাসে আনার চেষ্টা চলছে। গত মাসে ডিজেলের ছয়টি জাহাজ সূচি অনুসারে আসেনি। এসব জাহাজ এ মাসে আসতে পারে। এ ছাড়া আশা করা যায়, এখন নিয়মিত সূচি অনুযায়ী জাহাজ আসবে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এলএনজি নিয়েও কিছুটা স্বস্তিজনক খবর আছে। যুদ্ধবিরতির পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা এলএনজিবাহী ‘লিব্রেথা’ ট্যাংকারটিও এখন বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হতে পারবে। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিল কাতার ও ওমান। উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পারলে দেশ দুটি এলএনজি সরবরাহ শুরু করতে পারে। অবশ্য এপ্রিলের চাহিদা পূরণে খোলাবাজার থেকে সরকার এলএনজি কেনা বাড়িয়েছে। মে মাসের জন্যও ইতিমধ্যে কেনা শুরু করেছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, যুদ্ধবিরতির খবর বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম কমতে শুরু করেছে। গড়ে প্রতি ইউনিট ২০ ডলারে কিনতে হচ্ছিল। গতকাল বিশ্ববাজারে এটি কমে ১৬ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমেছে (কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ)। মে মাসের জন্য খোলাবাজার থেকে কম দামে এলএনজি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘অবশেষে ট্রাম্পের দম্ভই চূর্ণ’। খবরে বলা হয়, ইরানের সভ্যতা মুছে দিতে চেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ নিয়তির নির্মম পরিহাস-উলটো এখন ট্রাম্পই বিপাকে। তার দম্ভই চূর্ণ হলো। সময় নির্ধারণ করে যখন একটি দেশের মানুষকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছিলেন-খোদ যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের অনেকে তার সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছিলেন বলে অপসারণের দাবি জোরালো হয়।
এদিকে ট্রাম্পের দেশ ও জাতি ধ্বংসকারী নজিরবিহীন হুমকির টাইমলাইন পার হতে যখন মাত্র ১০ মিনিট বাকি ছিল তখন অপরাজেয় অকুতোভয় বিপ্লবী জাতি ইরানের শর্ত মেনেই ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধ স্থগিত করার ঘোষণা দেন। শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের এভাবে পিছু হটার মধ্য দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে নিজের সভ্যতা ও অর্জনকে নিজেই মুছে দিয়েছেন। এমনটিই মনে করেন পর্যবেক্ষক মহল।
টানা ৪০ দিনের প্রলয়ংকরী যুদ্ধ। ৫ হাজার ৩শর বেশি মানুষের প্রাণহানি। লক্ষাধিক স্থাপনা ধ্বংস ও বিপুল সম্পদের ক্ষতি। বাজছিল পারমাণবিক বিপর্যয়ের সাইরেন। হুংকার ছিল সভ্যতা ধ্বংসের। ঠিক এমন এক খাদের কিনারা থেকে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াল বিশ্ব। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যে উড়ল যুদ্ধবিরতির শান্তির পতাকা। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের এক ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। পাকিস্তানের নিবিড় মধ্যস্থতায় এই ‘অসম্ভব’ চুক্তি আলোর মুখ দেখল। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে বোমারু বিমান ও মিসাইলের গর্জন। আগামীকাল শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসছে দুই দেশের সরাসরি শান্তি বৈঠক। তবে এই দুই সপ্তাহ পর কী হবে, তা নিয়ে এখনো চরম উৎকণ্ঠায় পুরো বিশ্ব।
যুদ্ধবিরতির চুক্তির মূল শর্ত হলো-ইরান অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সব ধরনের সামরিক হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখবে। যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ‘প্রিয় ভাই’ সম্বোধন করে ‘অক্লান্ত পরিশ্রমের’ জন্য তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরাঘচির সেই বার্তাটি নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শেয়ার করেছেন। এর পরপরই বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লেখেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সব জায়গায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা এখনই কার্যকর হবে।’ তবে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে তারা রাজি। তবে এর মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত হবে না। এর জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকে অন্তর্ভুক্ত করা না হলে এই চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যেতে পারে।
কালের কণ্ঠ
‘দেশের অর্থনীতি এখন নড়বড়ে’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন নড়বড়ে অবস্থায়। এর জন্য দায়ী দুর্বল প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের গভীর ভগ্নদশা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সম্মিলিত চাপ। তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক পতন, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানে ধীরগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সঙ্গে রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈশ্বিক সংঘাতের প্রভাব সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ নিয়ে এত সব আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উঠে আসে। এ সময় বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জেঁ পেম, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ধ্রুব শর্মা, সিনিয়র এক্সটারনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেহরিন এ মাহবুবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে আসে, টানা তিন বছর অর্থনৈতিক গতি কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে ৩.৯ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী প্রবণতা। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংকিং খাত, কম রাজস্ব আদায় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের স্থবিরতা অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। এর ফলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি ও প্রবাস আয় হ্রাস এবং বৈদেশিক লেনদেনে চাপ তৈরি হচ্ছে।
এতে করে দেশের সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসা পরিবেশের জটিলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা, উচ্চ ঋণব্যয় এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ও চাপের মুখে পড়েছে। কারণ রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়ায় সরকারের উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হচ্ছে এবং অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থানে রয়ে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। ফলে তাদের জীবনমানের ওপর চাপ বাড়ছে এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ইরানে হামলা: যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি এলেও শঙ্কা কাটেনি’। খবরে বলা হয়, অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাতে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমা ফেলা থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেন। এটা উভয় পক্ষের সম্মতিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ‘একটি পুরো সভ্যতাকে এক রাতে হত্যা’র আলটিমেটাম শেষ হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। ইরান বলেছে, এ দুই সপ্তাহ আইআরজিসির তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে। তবে গতকাল দুটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করলেও পুরোপুরি উন্মুক্ত না করার অভিযোগ উঠেছে।
ইরানে হামলা বন্ধ হলেও সার্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনে গতকাল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায়। ১০ মিনিটের ব্যবধানে শতাধিক বিমান হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৬৫ জন। এ অবস্থায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে বিষয়টি জানান। তিনি এভাবে চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি থেকে বের হওয়ার হুমকিও দেন। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে লেবাননকেও যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তাঁর দেশ ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, কিন্তু লেবানন এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে হোয়াইট হাউস। গতকাল এক ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার ভিত্তিতে এ যুদ্ধবিরতি হয়। একটি স্থায়ী পদক্ষেপের জন্য শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস। প্রতিনিধি দলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
এর আগে যুদ্ধবিরতিকে বিজয় দাবি করে মঙ্গলবার রাতেই ইরানজুড়ে হাজার হাজার মানুষ আনন্দ মিছিল করে। বিপরীতে ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ৪০ দিনের লড়াইয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।
গতকাল বুধবার ভোর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে দিনের শুরুতেই লেবাননে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। অন্যদিকে হামলা হয়েছে আরব আমিরাত ও বাহরাইনেও। তবে তেহরান বলছে, তাদের সেনাবাহিনীর কমান্ড বিকেন্দ্রীকরণের অবস্থায় থাকায় সমন্বয়ে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের ‘একটি সভ্যতাকে হত্যা’র হুমকির পর মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট পদ থেকে তাঁর অপসারণের দাবি জানাচ্ছেন। ট্রাম্পকে পদচ্যুত করতে তারা মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীকেও সামনে আনছেন। সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রেসিডেন্ট মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রেসিডেন্ট পদে অযোগ্য হন, তাহলে তাঁকে অপসারণ করা যাবে।
ইত্তেফাক
‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিল পাশ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাশ হয়। পাশ হওয়া বিলে অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।
এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন বলা ছিল, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে তপশিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এটিকে আইনে রূপ দিতে গতকাল জাতীয় সংসদে বিল পাশ হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাশের জন্য উত্থাপন করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এ সময় আপত্তি জানিয়ে বলেন, এ-সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট তারা তিন থেকে চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছেন। এটা পুরো পড়তে পারেননি। এটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আইনটি পাশের জন্য তাদের আরেকটু সময় দেওয়া হোক।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে গ্রাহ্য করতে পারতেন। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে পাশ করার প্রস্তাব করেন। এ সময় তিনি বলেন, বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসীবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য। বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনটাও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তী সময়ে ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তপশিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। বিলে আরো বলা হয়েছে, উক্ত সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যে কোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য যে কোনো মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসমক্ষে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ হবে।
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ পাশ :জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। রাষ্ট্রপতি গত ২৫ জানুয়ারি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’ জারি করেছিলেন। বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা আইনত বারিত (নিষিদ্ধ) হবে। বিলে আরো বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত কোনো আইনজীবী এই প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করবেন। এই আবেদনের পর আদালত ঐ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম নেবেন না। তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা ক্ষেত্রমতে খালাসপ্রাপ্ত হবেন।
বিলে আরো বলা হয়, এই বিধান সত্ত্বেও কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন এই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে যে ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, সে ক্ষেত্রে কমিশন ঐ প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন না। তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্ত কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে আগে কমিশনের অনুমোদন নেবেন।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘নিষিদ্ধই থাকছে আ’লীগের কার্যক্রম’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিলটি পাস হয়। সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন বিল ২০২৬ উত্থাপন করলে সর্বসম্মতভাবে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
এদিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা মোট পাঁচটি অধ্যাদেশ বিল পাস করা হয়। এর মধ্যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে এই বিলটিও রয়েছে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। যেখানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তা এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল।
ওই অধ্যাদেশ জারির পরদিন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গেজেট জারি করা হয়েছিল। পাস হওয়া বিলে সেই অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
পাস হওয়া অন্য চারটি বিল হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ ও ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
এর মধ্যে ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) বিল’ পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম থেকে ‘শেখ হাসিনা’র নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো সরাসরি পাসের প্রক্রিয়ায় যায়।
বণিক বার্তা
‘বিদ্যুতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারের কাছে দেশী-বিদেশী কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়া বিল ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কোম্পানিভেদে বর্তমানে সর্বনিম্ন ছয় থেকে সর্বোচ্চ ১৪ মাস পর্যন্ত বিল বকেয়া পড়েছে।
বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ বকেয়া অর্থের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। একদিকে তারা জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের চাপও বেড়ে চলেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই বকেয়া সমস্যা শুরু হয়, যা ক্রমেই জটিল হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কিছু অর্থ পরিশোধ করা হলেও গত বছরের জুলাই থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আবারো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র মিলিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মার্চের বিল জমা দেয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সেটি যুক্ত হলে তা আরো বাড়বে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুল পরিমাণ এ বকেয়া আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পিক সময়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বাড়তে পারে লোডশেডিং।
বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো মার্চের বিল জমা দেয়া শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে আরো অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বিল জমা পড়বে। তবে যে হারে বিল পরিশোধ হচ্ছে তা দিয়ে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ যেমন হচ্ছে না, অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি ও কোম্পানি পরিচালনার অর্থ জোগান দেয়া যাচ্ছে না।
দেশের বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং নতুন কেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই এর সঙ্গে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা করে বাড়তি ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নতুন উৎপাদন ইউনিটগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রাথমিক জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপ সামাল দিতেই মূলত জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত এ অর্থ প্রয়োজন।
শীর্ষ একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিপিডিবির কাছে তাদের বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এ বকেয়া মূলত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই জমতে শুরু করে। বেশ কয়েকবার বিশেষ বন্ড ইস্যু করে বকেয়া কমিয়েও এনেছিল সরকার। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে বিল পরিশোধ আবারো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ফলে কেন্দ্রগুলোর বকেয়া আবারো বাড়তে শুরু করে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘জ্বালানিতে স্বস্তির আশা’। খবরে বলা হয়, অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিকভাবে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির আশা করা হচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু সময়। সেক্ষেত্রে যদি কোনো কারণে আবার যুদ্ধ লেগে যায় তাহলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ইরানের ওপর মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের আঁচ লাগে জ্বালানি খাতে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে। জ্বালানি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা। তেল পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ভোক্তাকে। সরকার প্রায় দ্বিগুণ দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেল আমদানি করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। তেলের সরবরাহও কমেছে। অন্যদিকে সরকারের আমদানি ব্যয় হয়েছে আকাশচুম্বী। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছিল।
এমন অবস্থায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির খবর স্বস্তি এনে দিয়েছে। কিন্তু কতটা স্বস্তি এলো? জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিঃসন্দেহে স্বস্তির।’ এই যুদ্ধ স্থায়ী বন্ধ হলেও সেটা বড় আনন্দের।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে যেসব এলএনজিবাহী জাহাজ আসতে পারেনি সেগুলো বিকল্প উপায়ে সংগ্রহ করেছি। আজও (গতকাল) খোলা বাজার (স্পট মার্কেট) থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় যেসব এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’
সংকটের মধ্যেও এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে উল্লেখ করে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান বলেন, সেজন্য চড়া দামে খোলা বাজার থেকে আমদানি করতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সরবরাহব্যবস্থা আরও সহজ হবে। কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো এর উচ্চ মূল্য নিয়ে।
সহযোগীদের খবর
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমছে, দুশ্চিন্তা কমল দেশে
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ০৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
