নানা অভিযোগ নিয়ে ইসিতে তুলি

নানা অভিযোগ নিয়ে ইসিতে তুলি

ফন্ট সাইজ:

দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ, নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে অনিয়মের বিষয়ে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির মনোনীত পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিলের পর সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগের কথা জানান তিনি। এসময় ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিত চেয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেন বিএনপি এই প্রার্থী।

এসময় তুলি বলেন, গতকাল রাত থেকে আজকে পর্যন্ত ক্লিয়ার করা হয়নি ১৪ আসনের প্রত্যেকটা কেন্দ্রের ফলাফল কী হয়েছে। এটার মানেটা কী? ১১ তারিখ রাত থেকে আজকে পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করে আছি। আমাদের ভোট গ্রহণ সাড়ে চারটায় শেষ। কিছু কেন্দ্রের নম্বর আমরা পাচ্ছি, বাদবাকি এই ১৫৩টি কেন্দ্রের এই নাম্বার আমাদের সামনে আনা হয়নি, লুকিয়ে রাখা হয়েছে কেন? এগুলোর জবাব জনগণের সামনে আনতে হবে পরিচ্ছন্নভাবে ক্লিয়ার করতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। কারণ আমরা জানি, আমরা দেখেছি কতজন ভোটার ভোট দিতে এসেছে এবং প্রত্যেকটা মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলেছে যে তারা ধানের শীষকে ভালোবাসে, বা আমরা দেখতে পেয়েছি জনগণের ঢল।

​তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, শুধুমাত্র একটা আসন, যেখানে সকাল থেকে আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলাম। আমাদের পোলিং এজেন্টদের বসতে দিচ্ছিলো না কিছু কেন্দ্রে। প্রশাসনের আংশিক অংশ দ্বারা এবং একটা বিশেষ দলের, জামাত-ই-ইসলামীর মানুষজন এসে আমাদের কর্মীদের মারধর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রের সামনে থেকে।

​তুলি অভিযোগ করে আরো বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভেতরে এমন এত স্লো ছিল ভোট গ্রহণটা, একটি কেন্দ্রের দোতলা-তিনতলায় আমরা নিজেরা গিয়েছি, দেখেছি। প্রত্যেকের কমপ্লেইন- দুই ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা তাদেরকে দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে। ৫০০ ভোটার দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা দারুস সালামের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ছিলো। এরকম আমরা প্রত্যেকটা কেন্দ্রভিত্তিক অভিযোগ পেয়েছি। আমার পোলিং এজেন্টকে মাঝ সময়ে আনসার দ্বারা তার স্বাক্ষর নিতে আসা হয়েছে। কেন আমার নির্বাচন শেষ না হওয়ার আগে তাদেরকে স্বাক্ষর দিতে বলা হচ্ছিল?

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন একটা নির্বাচন চাই। ১৫ বছর পরে যখন আমরা এখানে দাঁড়িয়ে, সেই নির্বাচনে কেন এত অসঙ্গতি? আমরা এটা জানতে চাই। এই একটা আসনে কেন এমনভাবে কুক্ষিগতভাবে এই কাজগুলো করা হলো? এটাকে ইমিডিয়েট অ্যাকশন নিতে হবে, আমাদেরকে জানাতে হবে। স্থগিত করে পুনর্নির্বাচন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।


নানা অভিযোগের কথা জানিয়ে সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন,
একটি নিরপেক্ষ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সকল অভিযোগ তদন্ত করা হোক। আরপিও ১৯৭২ এর আর্টিকেল ৭৩, ৭৪ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারার আওতায় দায়ী ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হোক। ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার্থে আমরা আপনাদের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন