দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে স্বস্তির নিশ্বাস দেখা যাচ্ছে। একটি ধ্বংসযজ্ঞের ভিতর থেকে আবার শান্তির ফুল ফুটছে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বনেতারা এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের অনেকেই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
এক্সে দেয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় পাকিস্তানের ভূমিকাও প্রশংসা করে জানায়, এই চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংঘাতে জড়িত সব দেশের সদিচ্ছা ও প্রজ্ঞার ফলেই এই চুক্তি সম্ভব হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে রূপ দিতে হবে। যা শুধু ইরান নয়, বরং ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনের জন্যও কার্যকর হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজাররিক এক বিবৃতিতে বলেন, মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানান। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ প্রধান সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে চলার এবং যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি স্থায়ী ও বিস্তৃত শান্তির পথ তৈরি হয়।
নিউজিল্যান্ডও যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের ভূমিকাকে প্রশংসা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে যেকোনো উদ্যোগকেই আমরা স্বাগত জানাই। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও টেকসই সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে কাজে লাগিয়ে এমন সংলাপ শুরু করতে হবে, যা বিরোধের মূল কারণগুলো সমাধান করবে এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াবে।
পাকিস্তানে বৃটিশ হাইকমিশনার জেন ম্যারিয়ট যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তান যে নীরব কিন্তু কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে, তার জন্য ধন্যবাদ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকিকে ‘উপযুক্ত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আমরা সবসময় উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছি এবং সেটিই এখন ঘটেছে, যা একটি ভালো বিষয়। তিনি আরও বলেন, এটি ইতিবাচক খবর। আমরা দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছি। আমরা এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান দেখতে চাই।

Zakiul Islam
২ মাস আগেওরা সীমান্তে মানুষ হত্যা করে আর আমাদের মেরুদণ্ড হীন মন্ত্রী দিল্লী তে বৈঠক করতে যায় ।