বাংলাদেশের গুণী সংগীতশিল্পীরা সমবেত হয়েছিলেন এক মঞ্চে, এক আয়োজনে। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে বগুড়ার পাঁচতারকা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট মমোইনে ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। এ যেন সংগীত জগতের তারাদের এক মহামিলনমেলা। মমোইনের উন্মুক্ত চত্বরে বিশাল মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন, চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর এবং টিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম। এরপর আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার নাম ঘোষণা করেন অভিনেত্রী এবং নির্মাতা আফসানা মিমি। করতালির মধ্যদিয়ে কনকচাঁপাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা স্মারক এবং চেক তুলে দেন ফরিদুর রেজা সাগর। তথ্যমন্ত্রী জহিরউদ্দীন স্বপন, ড. হোসনে আরা বেগম এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, ইমপ্রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মজুমদার, পরিচারক জহিরউদ্দীন মাহমুদ মামুন, পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু।
এ ছাড়াও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয় শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়াকে। তার নাম ঘোষণা করেন অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। মঞ্চে উপস্থিত অতিথিগণ তাকে উত্তরীয় পরিয়ে তার হাতেও সম্মাননা স্মারক এবং চেক তুলে দেন।
কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, ফেরদৌস আরা, অণিমা রায়, চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজদের সমবেত কণ্ঠে ধনে ধান্য পুষ্প ভরা, প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ এবং আমার চ্যানেল আই গানের মধ্যদিয়ে সূচনা হয় এ আয়োজনের। বিভিন্ন ক্যাটাগারিতে পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন পারফরম্যান্সে অংশগ্রহণ করেন- শিল্পী তানভীর আলম সজীব ও তার দল, মেহরীণ ও মাহতিম সাকিব, মো. খুরশীদ আলম, বাপ্পি, লিজা, সাব্বির, লুইপা, শওকত হায়াত খান, ইমরান, কোনাল, অনন্যা, বিউটি, সালমা, আতিয়া আনিসা, শফিক তুহীন, ঝিলিক, কিশোর ও অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এবং অভিনেতা আদর আজাদ। এ ছাড়াও সংগীতের দুই কিংবদন্তী রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিন সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। ২০তম টিএমএসএস চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন রাজু আলীম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন অপু মাহফুজ এবং নীল হুরে জাহান।
১৮টি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আধুনিক গান শ্রেষ্ঠ শিল্পী লিজা (খুব প্রিয় আমার), ইউটিউব থেকে কমপক্ষে এক লাখ বার ভিউ এবং ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত আধুনিক গানে এঞ্জেল নূর (যদি আবার), শ্রেষ্ঠ সুরকার আধুনিক গান বাপ্পা মজুমদার (অবশেষে), শ্রেষ্ঠ গীতিকার আধুনিক গানে তারেক আনন্দ এবং শাহনাজ কাজী (প্রেমবতী মা), শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড মেট্রিক্যাল (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার সেতু চৌধুরী (গণতন্ত্রের ঘুড়ি), শ্রেষ্ঠ দ্বৈত সংগীতশিল্পী ইমরান ও সিঁথি সাহা (প্রেম বুঝি), শ্রেষ্ঠ লোকসংগীতশিল্পী বিউটি (চার চাঁদে দিচ্ছে ঝলক), ইউটিউবে ১ লাখ বার ভিউ এবং ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত লোকসংগীত লটারির মাধ্যমে বিজয়ী শরিফ উদ্দিন দেওয়ান সাগর (মা লো মা), শ্রেষ্ঠ ছায়াছবির গান আতিয়া আনিসা (ছোট্ট সোনা), ইউটিউবে কমপক্ষে ১ লাখ বার ভিউ এবং ১৫০০ লাইকপ্রাপ্ত ছায়াছবির গান লটারির মাধ্যমে বিজয়ী দিলশাদ নাহার কনা (দুষ্টু কোকিল), শ্রেষ্ঠ সুরকার ছায়াছবির গান শওকত আলী ইমন (ছোট্ট সোনা), শ্রেষ্ঠ গীতিকার ছায়াছবির গান রোহিত সাধুখাঁ (বেঁচে যাওয়া ভালোবাসা), শ্রেষ্ঠ মিউজিক ভিডিও নির্মাতা তানভীর তারেক (পাখি আমার নীড়ের পাখি), শ্রেষ্ঠ নজরুল সংগীতশিল্পী শহিদ কবির পলাশ (সৃজন ছন্দে), শ্রেষ্ঠ উচ্চাঙ্গ সংগীতশিল্পী নাশিদ কামাল (সব সখিয়া চলো), শ্রেষ্ঠ নবাগত শিল্পী সভ্যতা (অধিকার), শ্রেষ্ঠ অডিও কোম্পানি বেঙ্গল মিউজিক।
এই আয়োজনে পৃষ্ঠপোষক ছিল, টিএমএসএস, মমোইন পাঁচতারকা হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, এসআর গ্রুপ, এডভান্স ডেন্টাল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল হাসপাতাল, পিউলি, ক্ল্যাসিক্যাল হোম টেক্স, ইমপোরিয়াম প্রোপার্িটজ লি., ধ্রুব মিউজিক স্টেশন। ঢাকা থেকে আড়াই শতাধিক শিল্পী কলাকুশলী এবং বিশিষ্টজনেরা এই আয়োজনে অংশ নেন।
