দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘স্বাস্থ্য খাতে সুনজর ছিল না অন্তর্বর্তী সরকারের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যে রোগ নিয়ে কারও কখনো দুচিন্তাই ছিল না, মৃত্যু হতে পারে এমন ধারণাও ছিল না, সে রোগই কেড়ে নিচ্ছে বহু শিশুর প্রাণ। সে রোগই এখন মানুষের দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে কারণ। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, বিশেষজ্ঞদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ। গত ২২ দিনে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সব প্রাণ’। অর্থাৎ বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকা। কিন্তু এই প্রতিপাদ্যের সঙ্গে দেশের বর্তমান অবস্থার বিপরীত। দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা শোচনীয়।
আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত দেড় বছরে স্বাস্থ্য খাতে কোনো নজর দেয়নি বললেই চলে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক প্রকল্পে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যা বর্তমান হাম নিয়ে সৃষ্ট সংকটের প্রধান কারণ। তবে বর্তমান সরকারের নজর এখন হামে। জানা যায়, পরিস্থিতি মোকাবিলার পর ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য দিকেও নজর দেবে সরকার। হামের সংকট উত্তরণে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্যে বিজ্ঞানের সঙ্গে থাকতে বলার কারণ বিজ্ঞান মানুষকে সুস্থতা ও সঠিক জীবন বাতলে দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা প্রতিপাদ্যের বিপরীত। বিশেষ করে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাত বিজ্ঞান থেকে দূরে সরে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্যবিদ রাশেদ রাব্বি বলেন, ‘বর্তমানে হামের যে প্রাদুর্ভাব, এর কারণ কী? এর পেছনে রয়েছে মূলত টিকাবিরোধী প্রচার। এটা শুরু হয়েছে কভিড থেকে। টিকা বিশেষ বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেয়। কিন্তু টিকার বিরুদ্ধে যে প্রচার, তারই প্রেক্ষিতে দেশ স্বাস্থ্যঝুঁকির ভেতরে পড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান কাজের একমাত্র প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। সেখানে গবেষণার ক্ষেত্রে ২, ৩ থেকে ৫ লাখ টাকার বাইন্ডিংস দেওয়া থাকে। গবেষণা কোনো বাইন্ডিংসে হয় না। ২ লাখ টাকায় যদি কাউকে গবেষণা করতে দেওয়া হয়, যেখান থেকে আবার প্রায় ২০ থেকে ২৩ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেওয়া হবে, সেই টাকায় জার্নাল রিভিউ করানো সম্ভব না। ফলে বিজ্ঞানের চর্চা করার তো কোনো সুযোগ নেই।’
স্বাস্থ্য খাতের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষজ্ঞদের মতে কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতি এ চারটি খাতেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মচারী অনেকেই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই বিল উত্তোলন, খালি বাক্স সরবরাহ এবং ব্যবহারহীন যন্ত্রপাতি ক্রয় করে গুদামে ফেলে রাখার ঘটনাও ঘটেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসে। মানুষ নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করে মানুষ। গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। সংশ্লিষ্টরা মনে করে, স্বাস্থ্যে একেবারেই অনভিজ্ঞ এই নারী প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ কোঠায় স্বাস্থ্য উপদষ্টার দায়িত্ব পেয়ে কোনো চমক দেখাতে পারেননি। পরে স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। তবে তিনিও এ খাতকে হতাশ করেছেন।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের নভেম্বরে ১২ সদস্যের ‘স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন’ গঠন হয়। ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে কমিশন ২০২৫ সালের ৫ মে প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৩২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এই প্রতিবেদন তৈরির আগে চালানো হয় কয়েকটি জরিপ। প্রায় পাঁচ মাসের বেশি সময় নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেন কমিশনের সদস্যরা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয় প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন তৈরির আগে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকেও সুপারিশ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের ৯ মাসে স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যত কোনো সংস্কার হয়নি। এমন কি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসেও কোনো অগ্রগতি না দেখে তখন স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক এ কে আজাদ দ্রুত সুপারিশ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দেন। তারপর কেটেছে আরও ছয় মাস। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অপারেশন প্লানের (ওপি) মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উন্নয়নে যে প্রকল্প পরিচালিত হতো, অন্তর্বর্তী সরকার সেই ওপি বন্ধ করে দেয়। যার নেতিবাচক প্রভাব এখন স্বাস্থ্য খাতে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আগে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় ১৭টি অপারেশন প্ল্যান (ওপি) ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই ওপি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে শুধু হামের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য স্বাস্থ্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী বলেন, ‘স্বাস্থ্যের পলিসিগত একটা বড় চেঞ্জ হয়ে গেছে। ডেভেলপমেন্টাল প্রজেক্ট হিসেবে চার বছর অন্তর অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সেটি চলমান রাখেনি। ওপি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক প্রকল্পে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। সেসব প্রকল্পে বেতন ঠিকমতো নেই। বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
বর্তমান সরকার সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে হামে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওপি বন্ধের কারণে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। হামের এই আউটব্রেক হলো, এটারও কিন্তু একটা বিহাইন্ড কজ হচ্ছে এই ওপি বন্ধ হওয়া। এখন হামের এই জটিল সময়টি পার করতে পারলে আমরা অন্য বিষয়গুলোয় হাত দেব। প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় নির্দেশনায় আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে উজ্জীবিত করতে। আশা করছি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে।’
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো স্বাস্থ্যে বাজেট জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। যা থাকা দরকার ৫ শতাংশ। বার্ষিক ১৫ শতাংশের জায়গায় আছে মাত্র ৫ শতাংশ। একে তো বাজেট কম, আবার তার সিংহভাগ চলে যাচ্ছে দুর্নীতিতে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মান তলানিতে নেমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ১০ বছর ধরে জাতীয় বাজেটের চার থেকে পাঁচ পার্সেন্টের ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমপক্ষে পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ উন্নীত করার কথাও বলেন তারা।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ড. আবু মুহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার তার দৃশ্যমান কোনো সংস্কার করেনি। স্বাধীন স্বাস্থ্য কমিশন, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সার্ভিসের প্রভিডেন্টটা নিচের দিকে নামিয়ে আনা এগুলো করতে পারত কিন্তু করেনি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। আবার মানহীন প্রতিষ্ঠানে মানহীন জনবল তৈরি হচ্ছে। যাতে সামনে আরও সংকট তৈরি হতে পারে। বর্তমানে দেশে ৯০ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখের মতো নার্স রয়েছেন। ডাক্তার ৯০ হাজার থাকলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী নার্স ২ লাখ ৭০ হাজার এবং প্যারামেডিক সাড়ে ৪ লাখ থাকার দরকার। সরকারি হিসেবে প্যারামেডিক আছেন মাত্র ২০ হাজার।
ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ‘বিগত সরকার স্বাস্থ্যের সব জায়গাই নষ্ট করে গেছে। এখন আমরা যদি স্বাস্থ্য খাত ঠিক করতে যাই, প্রতিটা জায়গায় হাত দিতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এসব সংকট উত্তরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরাও এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছি। মেডিকেল শিক্ষা হচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি। বিগত সরকারগুলো এই ভিত্তি একেবারে নড়বড়ে করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও ফেসবুক পোস্ট : বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া এক ফেসবুক পোস্টে দিবসটির তাৎপর্য এবং সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ৭ এপ্রিল বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদযাপিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’। মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকূল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী বা হেলথ কেয়ারার নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ হবেন নারী। এ ছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবীমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে আমরা একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই এবং এই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি।’
প্রথম আলো
‘সরবরাহ ধরে রাখতে দ্বিগুণ দামে এলএনজি আমদানি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবে দেশেও জ্বালানি সরবরাহ ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে দ্বিগুণ দামে আনা হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। এরপরও গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনসক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অলস বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় বাড়ছে লোডশেডিং।
দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির বড় উৎস কাতার ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এ দুটি দেশ থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহে এ দুটি দেশের সঙ্গে চারটি চুক্তি আছে বাংলাদেশের। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে তারা। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ বন্ধের এ মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
দেশে কয়েক বছর ধরে গ্যাস সরবরাহের সংকট চলছে। দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখন দিনে উৎপাদিত হচ্ছে ১৭০ কোটি ঘনফুট। আর এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৯৫ কোটি ঘনফুট। সব মিলে সরবরাহ করা হচ্ছে ২৬৫ কোটি ঘনফুট। দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে দীর্ঘদিন ধরেই এক খাতে কমিয়ে আরেক খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এলএনজি থেকে দিনে সর্বোচ্চ ১১০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের অবকাঠামো আছে। এর জন্য মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো (জাহাজ) আনতে হয়। এ মাসে আনা হচ্ছে ৯টি কার্গো। এর মধ্যে খোলাবাজার থেকে ৮ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। আর কাতারের সঙ্গে দ্বিতীয় চুক্তির অধীন অ্যাঙ্গোলা থেকে একটি কার্গো আসার কথা রয়েছে। এতে দিনে এলএনজি থেকে গড়ে ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় আছে। তাই সেভাবেই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে বাড়াতে গিয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমানো যাবে না। চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ ধরে রাখতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন করা গেলে এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী নির্দেশনা ঠিকঠাক মানা হলে লোডশেডিং থাকবে না।
আসছে জাহাজ, বাড়ছে ভর্তুকির চাপ
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, এপ্রিলের দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস শুরু করেছে। এর মধ্যে একটি এসেছে ৪ এপ্রিল, অপরটি ৫ এপ্রিল। ১০, ১১, ১৫, ১৮, ২১, ২৪ ও ২৭ এপ্রিল একটি করে বাকি সাতটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী মাসে সরবরাহ ঠিক রাখতে ১১টি এলএনজি কার্গো আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে দুটি কার্গো কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আরও তিনটি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৮ এপ্রিল দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে।
পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০ ডলার। এপ্রিলে প্রতিটি কেনা হয়েছে ২০ ডলারের বেশি দামে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ২৮ ডলারে কেনা হয়েছে একটি কার্গো। এতে পেট্রোবাংলার লোকসান বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে গ্যাস খাতে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা আছে। প্রথম ৯ মাসে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে পেট্রোবাংলা। আর শুধু এপ্রিলেই সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দাবি করছে তারা। তার মানে ইতিমধ্যেই ভর্তুকির চেয়ে তিন হাজার কোটি টাকা বাড়তি খরচ হয়ে গেছে। আগামী দুই মাসে আরও ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি লাগতে পারে। একই সঙ্গে এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এলএনজি আমদানি করতে ১৪০ কোটি ডলার চাহিদা ছিল পেট্রোবাংলার। এটি এখন বাড়ছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘কূটনীতির নতুন পরীক্ষা শুরু’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পালটে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে। বৃহৎ শক্তিগুলো যেখানে নানা শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, সেখানে সব দেশকেই এখন বিদ্যমান বাস্তবতায় তার ‘কৌশলগত’ অবস্থান স্পষ্ট করতে হচ্ছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে বাংলাদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির সফল বাস্তবায়ন ছাড়াও পর্দার আড়ালে বলবৎ আছে ওয়াশিংটনের নানা চাপও। দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চলে চীনের কোনো আধিপত্যও দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক ঘিরে ভারতসহ অপরাপর শক্তিধর দেশগুলোও যার যার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্নে অটল।
এই যখন অবস্থা, তখন বাংলাদেশও এই ঘেরাটোপের বাইরে নেই। ঢাকাকেও তার জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করাসহ নতুন সরকারের ঊষালগ্নে অনেক কিছু আমলে নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে বিএনপি সরকারের ইতিবাচক অবস্থান বেশ স্পষ্ট। যদিও ভারতের দিক থেকে নির্বাচনের আগেই বিএনপিকে অনেকটা আপন করে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার জানাজার দিন জিয়া পরিবারকে সমবেদনা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এমনকি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এছাড়া বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এমন স্বস্তিদায়ক পরিবেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রথমবার ভারত সফরে যাচ্ছেন। আজ তিনি দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন। ফলে এ সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের জনগণ ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক দেশের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। সূত্রমতে, যদিও বলা হচ্ছে, ঢাকা এ সফরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেবে, তা সত্ত্বেও দেশ দুটির জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় প্রাধান্য পাবে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও এমনটি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইমতিয়াজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন নির্বাচিত সরকারের অংশ। এ সরকারের প্রতিশ্রুতি হলো ‘প্রথম বাংলাদেশ’। দিল্লি নিশ্চয়ই তার কাছে জানতে চাইবে বিএনপি সরকার এটি কীভাবে বাস্তবায়িত করবে। এখানে পেশাদারির বিষয় আছে। তাদের বোঝাতে হবে বাংলাদেশ কখনো অন্য দেশকে এমন কোনো সুবিধা দেবে না, যেটা ভারত, চীন বা অন্য দেশের বিরুদ্ধে যায়।
তিনি বলেন, দুটি বিষয় এই সময়ে খুব জরুরি। প্রথমত, জ্বালানি নিরাপত্তা। এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা হওয়ার কথা ভারত সফরে। আমাদের সংকট ডিজেল নিয়ে। আসাম থেকে পাইপলাইনে এবারও ডিজেল এসেছে। যুদ্ধ চলতে থাকলে জ্বালানি সমস্যা বাড়তে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো। ক্রুড অয়েল ভারত রিফাইন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও স্যাংশনের বিষয়ে নমনীয় এখন। সে জায়গায় বাংলাদেশ কীভাবে লাভবান হতে পারে, সেটি দেখা উচিত। দ্বিতীয়ত, ভিসা ইস্যু। বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা যেন আবার চালু হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করে সুপার পাওয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কোন্নয়ন খুব সহজ হবে না। যদিও এই কঠিন পথেই ঢাকাকে তার ক্যারিশম্যাটিক ডিপ্লোমেসি এগিয়ে নিতে হবে। মূলত ড. খলিলুর রহমানের জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষা। শক্তিশালী প্রতিবেশী হিসাবে তাকে ভারতের যৌক্তিক দাবিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তবে এখানে উভয় দেশের মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কও নিশ্চিত করতে হবে। এর পরে রয়েছে-উন্নয়ন সহযোগী অন্যতম দেশ হিসাবে চীনের স্বার্থকে বিবেচনায় নেওয়া। এছাড়া সবার স্বার্থের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে ব্যালেন্স করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরীক্ষাটা পদে পদে বেশ বিপৎসংকুল।
কালের কণ্ঠ
‘হামে শিশুমৃত্যুর দায় ইউনূস সরকারের’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের মানুষের মধ্যে এখন ভীতি-আতঙ্ক চরমে। প্রতিরোধী টিকার সংকটে হাম রূপ নিয়েছে মহামারিতে। এর মধ্যে ৫৬ জেলার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। চোখের সামনে ছোট ছোট শিশুসন্তানকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখে তাদের মা-বাবার আর্তচিৎকারে ভারী হচ্ছে আকাশ-বাতাস।
তথ্য-উপাত্ত ও বিশ্লেষণ বলছে, এ পর্যন্ত ১৩৮ শিশুর সান্ত্বনাহীন এমন অসহায় মৃত্যুর মূল কারণ স্রেফ বিদায়ি অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের রাষ্ট্রীয় অবহেলা, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, একগুঁয়েমি মনোভাব ও অদূরদর্শিতা। বাচ্চাদের টিকার সংস্থান রাখার চিরায়ত ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করে যথাসময়ে টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা না করে তা বাতিল করা, সময়মতো রাজস্ব খাত থেকে টিকা কেনার বরাদ্দ নিশ্চিত না করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টিকার ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা না দেওয়া, সর্বোপরি বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব না দিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে উপদেষ্টার অপেশাদারসুলভ আরচণই এখন কাল হয়েছে। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ওই সরকার চলে গেছে, কিন্তু এখন স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুরচিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর ওই সরকারটির রাষ্ট্রীয় অদক্ষতার বলি হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ।
অন্তত ৯ হাজার হাম আক্রান্ত রোগী এখন বাঁচা-মরার দোলাচলে। এই রোগ ভয়াবহ রূপ নিলে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, টিকা কেনার নেপথ্যের ধাপ বা ঘটনাপরম্পরা, প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ঘটনা, তা পেতে কার্যকর পদক্ষেপ ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এসব দিকে মনোযোগই দেয়নি। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এসব বিষয়ে একেবারেই নির্লিপ্ত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে টিকা সংগ্রহের যে স্বাভাবিক ধারা ছিল, তাতে দুর্নীতির অজুহাত তুলে তা বাতিল করা হয়। অথচ ওই প্রক্রিয়ায় ৬০ শতাংশ অর্থায়ন করত বিদেশি সংস্থা, আর ৪০ শতাংশ আসত সরকারের পক্ষ থেকে। সেটি বাতিল করার পর বিদেশি উৎস থেকে আর অর্থায়ন চাওয়া হয়নি। এমনকি টিকা কেনার জন্য রাজস্ব খাত থেকে যে বরাদ্দ নিতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা টিকা কেনার ক্ষেত্রে মনোযোগ দিতে হবে, সেটিও করা হয়নি। যার ফলে টিকার সংকট তৈরি হয়েছে এবং সময়ের পরিক্রমায় এখন হামের মহামারি রূপ দেখা দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘মহামারি’ হিসেবেই অভিহিত করে বলছেন, গত দুই বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে ফাঁক তৈরি হওয়াই হামের বিস্তার বৃদ্ধির মূল কারণ। একই সঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের হটকারী পদক্ষেপ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকেও দায়ী করছেন তাঁরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকরা সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, টিকা কেনার ক্ষেত্রে সরকারের অদূরদর্শিতা আজ সাধারণ মানুষকে মূল্য দিতে বাধ্য করেছে।
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছরে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়ায় এবং টিকার মজুদে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে শিশুরা প্রাণঝুঁকিতে পড়েছে।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকার দাতা সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করে। এই কর্মসূচি শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদানসহ স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনা করত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে নিজস্ব অর্থায়নে টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ২০২৫ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করা হয়। সেক্টর প্রোগ্রাম হচ্ছে সরকার ও বিদেশি সংস্থার যৌথ সহায়তায় পরিচালিত একটি টিকা কর্মসূচি।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘এক উপাচার্যের ৫৪৭দিনে ৪২৫ নিয়োগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ৫৪৭ দিন উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এই সময়ে ৪২৫ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এই ভিসির আমলে পাঁচটি সিন্ডিকেট বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয় এসব নিয়োগ প্রতিটি সিন্ডিকেট গড়ে ৮৫ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরে দায়িত্ব পালন করা অন্য ২০ উপাচার্যের কেউই অল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক নিয়োগ দেননি। জাতীয় নির্বাচনের আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে উপাচার্য ভেঙেছেন প্রথাও। সিন্ডিকেটের বৈঠক ডেকেছেন শুক্রবার। সর্বশেষ বৈঠক করেছেন তিনি একুশে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় বন্ধের দিনেও।
সদ্য বিদায়ী উপাচার্য ইয়াহইয়া আখতারের অনেক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পছন্দের লোক দিয়ে নিয়োগ বোর্ড সাজিয়ে এক উপ-উপাচার্যের মেয়ে, আরেক উপ-উপাচার্যের গবেষণা সহযোগী, রেজিস্ট্রারের ভাই, এক প্রভোস্টের স্ত্রী এবং আরেক প্রভোস্টের ছেলেকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলা বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি 'শিক্ষক লাগবে না' বলে সুপারিশ করার পরও তিনি একসঙ্গে সাতজন শিক্ষক নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। আবার প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে ক্রিমিনোলজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে। পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে কলা অনুষদে ফলাফলের গ্রেড কমিয়ে পরিবর্তন আনা হয় নীতিমালায়।
একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে একাধিকবার চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) নিয়োগ-সংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করে। এতে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, 'আমরা কমিশন বরাবর রিপোর্ট জমা দিয়েছি।'
ইত্তেফাক
‘খেলাপি ঋণ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থিতিভিত্তিক ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আর বর্তমান সংসদ সদস্যদের কারো কারো ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক এবং ফাইন্যান্স কোম্পানিতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।
গতকাল সোমবার সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে এই তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
ফেনী-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বৈশ্বিক অস্থিরতা, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক লেনদেনে চাপ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং অতীতের বিভিন্ন অনিয়মসহ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতিকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও গতিশীল করতে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার প্রশ্নে জানতে চান, দেশে এই মুহূর্তে প্রকৃত খেলাপি ব্যাংকঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের ব্যাংকঋণ এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত।
জবাবে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে প্রথম চারটিসহ মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এস আলমের। দুটি সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান। অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান হলো—এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি., এস আলম ভেজিটেবল অয়েল লি., এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লি., এস আলম কোল্ড রোলেড স্ট্রিলস লি., সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইস্পাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লি., ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কর্ণফুলি ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড। অথর্মন্ত্রী খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তবে, শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম জানালেও ঋণের পরিমাণ জানাননি মন্ত্রী।
ফেনী-২ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি জয়নাল আবদিনের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদকে জানান, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উত্স থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ‘বাজেট সাপোর্ট’ গ্রহণসহ নানা সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘বিদেশী ঋণে মেগা প্রকল্প যেভাবে বেড়ে যায় ব্যয়’। খবরে বলা হয়, ঢাকার মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু সম্প্রসারণ ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র- সব ক’টিতে নেয়া বিদেশী ঋণ কি সত্যিই স্বচ্ছ এবং দেশের জন্য ঝুঁকিমুক্ত? অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চরম অস্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ের আশঙ্কা।
বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারণশীল অবকাঠামো খাতে বিদেশী ঋণ একটি বড় অঙ্গ। মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতু সম্প্রসারণ এবং নতুন গ্যাস-বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোটি কোটি ডলারের ঋণ নেয়া হয়েছে। কিন্তু ঋণদাতাদের সাথে চুক্তির শর্তগুলো কতটা স্বচ্ছ এবং দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি কতটা- এটি এখনও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কিছু প্রকল্পের চুক্তিতে এমন শর্ত থাকা যা অর্থনৈতিক বোঝা তৈরি করতে পারে এবং সংসদ বা তত্ত্বাবধায়ক কমিটি পর্যবেক্ষণের বাইরে রাখা হয়েছে।
মেগা প্রকল্প : ঋণের শর্ত ও চুক্তি
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশী ঋণ গ্রহণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২০২৫ সালের মধ্যে মোট ১৫টি বড় প্রকল্পে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নেয়া হয়েছে।
* পদ্মা সেতু সম্প্রসারণ প্রকল্পে জাপানিজ এক্সিম ব্যাংক থেকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার
* ঢাকা মেট্রোরেল প্রজেক্টে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (অউই) থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার
* নতুন গ্যাস-বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চীনা ব্যাংক থেকে ২.১ বিলিয়ন ডলার
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের মধ্যে এই প্রকল্পের অংশ অনেক বড় এবং শর্তগুলোতে অস্বচ্ছতা ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশে বড় অবকাঠামো প্রকল্পে নেয়া বিদেশী ঋণের শর্ত এবং মেয়াদ দেশের বাজেট এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রকল্পভিত্তিক চুক্তি অনুযায়ী সুদের হার সাধারণত ১.৫ শতাংশ থেকে ৩.৫ শতাংশ পর্যন্ত থাকে এবং ঋণের মেয়াদ ১৫-২০ বছর। তবে অনেক চুক্তিতে রয়েছে মুদ্রামানের ওঠানামার ধারা, যা বিদেশী মুদ্রার মূল্যের পরিবর্তনের সাথে প্রকল্প ব্যয় দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারে।
প্রিমিয়াম এবং বিশেষ ছাড়ও লক্ষণীয়। উদাহরণস্বরূপ, পদ্মা সেতু সম্প্রসারণ চুক্তিতে প্রিপেমেন্ট জরিমানা আছে, যা ঋণ আগেই পরিশোধ করলে অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে। চীনা ঋণে কিছু গোপন ছাড়ের শর্ত রয়েছে, যা সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এসব ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ এবং স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চুক্তি সংসদীয় কমিটিতে আলোচিত হলেও মূল শর্তগুলো বাইরে রাখা হয়। এক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা গোপন নাম প্রকাশের শর্তে জানিয়েছেন, কিছু শর্ত অননুমোদিতভাবে নথি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করে এবং ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করার গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
বণিক বার্তা
‘মে মাসের নির্ধারিত পাঁচ এলএনজি কার্গোও আসছে না কাতার-ওমান থেকে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারী দেশ কাতার ও ওমান থেকে আগামী মে মাসে নির্ধারিত পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আসছে না। মে মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের জন্য নির্ধারিত ওই পাঁচ কার্গোর সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে দুই কার্গো ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল থেকে তিন কার্গো আসার কথা ছিল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ফোর্স মেজর বলতে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ দিতে না পারার আইনি অবস্থা বোঝায়।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি কার্গো পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এসব কার্গো সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে দুটি কার্গো স্পট থেকে কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি কার্গো অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার দ্বিগুণেরও বেশি দাম দিয়ে স্পট থেকে এলএনজি কিনছে। এতে উচ্চ দামে এলএনজি কিনতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে। চলতি এপ্রিলে এলএনজি কিনতে ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা চেয়ে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। আর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতার ও ওমানের এলএনজিসহ জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে তেল-গ্যাস চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর জন্য ফোর্স মেজর ঘোষণা করছে সরবরাহকারীরা। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ এখনো আসেনি। কবে নাগাদ এলএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সেই পরিস্থিতিও এখন জানাতে পারছে না কাতার-ওমান।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গতকাল প্রথমবারের মতো কাতার থেকে এলএনজিবাহী দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটির গন্তব্য ছিল চীন। তবে শেষ পর্যন্ত ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং পুনরায় আগের দিকে ফিরে যেতে শুরু করে। প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বা নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই জাহাজগুলো শেষ মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ওমানের ওকিউ ট্রেডিং (ওকিউটি) থেকে মে মাসের জন্য নির্ধারিত তিন কার্গো এলএনজির ওপর ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ৭, ১১ ও ১৮ মের জন্য নির্ধারিত তিন কার্গো এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না ওকিউটি। গত ৩১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক নোটিসের মাধ্যমে পেট্রোবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি এলএনজির উৎস দেশ কাতার আগামী মে মাসের জন্য নির্ধারিত দুটি কার্গোর ওপর ফোর্স মেজর ঘোষণা দিয়েছে। ৫ ও ১২ মে কার্গো দুটি সরবরাহ করার কথা ছিল কাতার এনার্জির। ফোর্স মেজর ঘোষণার নোটিস গত ২৬ মার্চ পেট্রোবাংলাকে জানায় সরবরাহকারী কোম্পানিটি।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বেশি, থেমে নেই সংক্রামক রোগও’। খবরে বলা হয়, বিংশ শতাব্দীর শেষে (১৯৯৯ সাল পর্যন্ত) বাংলাদেশে জীবাণুঘটিত সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। অন্যদিকে একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদ্রোগের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে দেশে অসুস্থতায় মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ঘটে অসংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে। এর সঙ্গে বিভিন্ন সময় সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবও দেখা দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই সমান্তরাল রোগের উপস্থিতিকে ‘ডাবল বার্ডেন অব ডিজিজ’ বা ‘রোগের দ্বৈত বোঝা’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বহু ওষুধ প্রতিরোধী (এমডিআর) জীবাণুর বিস্তারের বিষয়টিও।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে রোগের অবস্থার রূপ বদলেছে। তিন দশক আগে যেসব সংক্রামক রোগ জনস্বাস্থ্যের প্রধান হুমকি ছিল, টিকা কর্মসূচির সফলতায় সেগুলোর বেশির ভাগই এখন নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে দ্রুত বেড়েছে অসংক্রামক রোগ। তবে মাঝেমধ্যে সংক্রামক রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে বলে একসঙ্গে দুই ধরনের রোগের চাপ রয়েছে।
সংক্রামক রোগপ্রতিরোধে অগ্রগতি
সংক্রামক রোগপ্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। একসময় শিশুমৃত্যুর প্রধান কারণ ডায়রিয়া এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কলেরা হ্রাস পেয়েছে। টাইফয়েড ও শিগেলোসিস বিদ্যমান থাকলেও নিয়ন্ত্রিত। যক্ষ্মা (টিবি) নির্মূল না হলেও শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা বেড়েছে। ম্যালেরিয়া মূলত পাহাড়ি এলাকায় সীমিত। কালাজ্বর নির্মূল হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির ফলে ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিটেনাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পোলিও নির্মূল হয়েছে। হেপাটাইটিস ‘এ’ ও ‘ই’ কিছুটা কমেছে। র্যাবিসের প্রকোপ কমেছে।
অন্যদিকে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে ডেঙ্গু ও হাম। চিকুনগুনিয়া নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। বাদুড়বাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ এখনো খুব সীমিত হলেও প্রাণঘাতী।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বহু ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার। বিষয়টি চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে ২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় (১৯৮৬-২০০৬) দেখা যায়, চাঁদপুরের মতলবে মৃত্যুর ধরনে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। সংক্রামক তথা পরজীবীঘটিত রোগ থেকে সমস্যা অসংক্রামক ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে রূপ নিয়েছে। সে সময় হৃদ্রোগ ও মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগে মৃত্যু ৩,৫২৭ শতাংশ এবং ক্যানসারে মৃত্যু ৪৯৫ শতাংশ বেড়েছিল। গবেষকেরা একে মহামারি পর্যায়ের রূপান্তর হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে মোট মৃত্যুর মাত্র ৮ শতাংশ ছিল অসংক্রামক রোগে। আর সংক্রামক রোগে মৃত্যু ছিল ৫২ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে অসংক্রামক রোগে মৃত্যু বেড়ে হয় ৪১ শতাংশ। ২০০৬ সালে মোট মৃত্যুর ৬৮ শতাংশই হয় অসংক্রামক রোগে। আর সংক্রামক রোগে মৃত্যু নেমে আসে ১১ শতাংশে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী গ্লোবাল সায়েন্স রিসার্চ জার্নালসে ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ‘ডাবল বার্ডেন অব ডিজিজ’ বর্তমানে বাংলাদেশসহ অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের জন্য বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ। আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, দুর্বল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং বংশগত প্রবণতা অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগের দ্বৈত বোঝা মোকাবিলার মূল কৌশল হলো জীবনচক্রজুড়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র—সব স্তরে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা। বাংলাদেশ এখন এই রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্যজনিত সমস্যা কমে ধীরে ধীরে অসংক্রামক রোগ প্রধান সমস্যা হয়ে উঠছে। আবার সংক্রামক রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন ও পুনরুত্থিত সংক্রমণের ঝুঁকিও রয়ে গেছে।
সহযোগীদের খবর
স্বাস্থ্য খাতে সুনজর ছিল না অন্তর্বর্তী সরকারের
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
২ মাস আগে
৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৯ঃ১৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
