সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় ২২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করেছেন সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান মামুন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে ৬ মাস গুম করে নির্যাতন করা হয়েছিল। আমি এখন হাঁটতে পারছি না। আমার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। গতকাল দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের কাছে তিনি এ অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকেও অভিযুক্ত করা হয়। তবে সবার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মশিউর রহমান জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দু’বার গুম হয়েছিলেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। গুম, নির্যাতনের কারণে তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। তিনি বলেন, আমি প্রথম দফায় ২০১৩ সালে গুম হয়ে ৫ দিন বন্দি ছিলাম। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি তিনি গুমের শিকার হন। ওইদিন ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকক যাওয়ার পথে সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। হাতে হাতকড়া ও চোখে ব্লাইন্ড ফোল্ডেড অবস্থায় তাকে ছয় মাস আটকে রাখা হয়। একই বছরের ২৩শে আগস্ট ডিবি হেফাজতে গারদে নেয়া হয়। এর দু’-একদিন পর আদালতে তুলে দুই দফা রিমান্ড শেষে প্রায় দুই বছর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন তিনি। এরপর উচ্চ আদালতের জামিনে বের হয়ে আসেন এই নেতা। অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমাকে টানা ৬ মাস অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি এখন হাঁটতে পারছি না। এক সময় প্রতিদিন পাঁচ মাইল দৌড়াতাম, খেলাধুলা করতাম। এখন আমি অন্যের ওপর নির্ভরশীল। চিকিৎসার প্রয়োজনে এখন লন্ডনে থাকতে হচ্ছে। কারণ আমার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। যুবদলের সাবেক এই নেতা বলেন, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম এখনই পরিষ্কার করতে পারছি না। এরই মধ্যে অনেকে দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। আর যারা আছেন, নাম প্রকাশিত হলে তারাও হয়তো পালিয়ে যাবেন। বর্তমানে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মামুন। ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেন। ২০০১-এর বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্য ছিলেন বলে জানান তিনি।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুনসুরুল হক দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন। তবে এদিন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ করতে পারেননি। এ মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১২ই এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
