শনিবার রাতে নেভি সিল টিম সিক্স-এর বিশেষ বাহিনী ইরানের পাহাড়ি এলাকায় ঢুকে নিখোঁজ মার্কিন এফ-১৫ বিমানচালককে উদ্ধার করে। তবে এর আগে এই উদ্ধার অভিযান প্রায় শুরুই করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানান, ভূপাতিত এফ-১৫ই বিমানের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছ থেকে একটি রেডিও বার্তা আসার পর প্রথমে মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন এটি ইরানের ফাঁদ হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, বিমান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ওই কর্মকর্তা একটি ছোট ও অস্বাভাবিক বার্তা পাঠান: ‘পাওয়ার বি টু গড।’
এই বার্তা পাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেন, তিনি হয়তো ইতিমধ্যে ইরানের হাতে ধরা পড়েছেন এবং ইরান ‘ভুল সংকেত’ পাঠিয়ে মার্কিন বাহিনীকে ফাঁদে ফেলতে চাইছে। ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে ওই কর্মকর্তার অবস্থান সম্পর্কে ‘বিপিং ইনফরমেশন’ (সংকেতভিত্তিক তথ্য) ছিল, যা ট্র্যাক করা হচ্ছিল, যদিও রেডিও বার্তাটি নিয়ে সন্দেহ বাড়ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তাকে যারা চিনতেন তারা নিশ্চিত করেন যে, তিনি ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন।
শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হয়। ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইরানের ভেতরে মার্কিন কোনো যুদ্ধবিমানের প্রথম নিশ্চিত ক্ষতি। দুইজন ক্রু বিমান থেকে বেরিয়ে যান। পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অস্ত্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কর্মকর্তাকে সঙ্গে সঙ্গে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প বলেন, ‘হাজার হাজার এই বর্বর লোক তাকে খুঁজছিল। এমনকি সাধারণ মানুষও তাকে খুঁজছিল। তাকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, ইরান কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করেছে এবং বলেন, ‘তাদের ভাগ্য ভালো ছিল।’
আহত অবস্থায় ওই ক্রু সদস্য পাহাড়ে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় বেঁচে ছিলেন। এরপর শনিবার বিশেষ বাহিনীর অভিযানে তাকে উদ্ধার করা হয়। ট্রাম্পের মতে, প্রায় ২০০ জন বিশেষ বাহিনীর সদস্য এতে অংশ নেয়। বিমানচালকের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার আগে সিআইএ একটি বিভ্রান্তিমূলক কৌশল নেয়। তারা ইরানের ভেতরে গুজব ছড়ায় যে, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই তাকে খুঁজে পেয়েছে এবং স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য ছিল সময়ক্ষেপণ এবং ইরানের অনুসন্ধান দলগুলোকে বিভ্রান্ত করা। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষায়, সিআইএ তাদের ‘বিশেষ সক্ষমতা’ ব্যবহার করে ওই বিমানচালকের গতিবিধি ট্র্যাক করছিল, যিনি পাহাড়ি এলাকায় চলাফেরা করছিলেন এবং স্থানীয়দের এড়িয়ে যাচ্ছিলেন।
তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণের পর তা হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে শেয়ার করা হয়। এরপর শনিবার রাতে তার কাছাকাছি এলাকায় বিশেষ বাহিনী নামানো হয়। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, নেভি সিল টিম সিক্স কমান্ডোরা এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। শত শত বিশেষ বাহিনীর সদস্য ইরানের গভীরে অভিযান চালায়। মার্কিন বিমানগুলো ইরানি কনভয়কে দূরে রাখতে বোমা ফেলে ও গুলি চালায়, যাতে তারা উদ্ধারস্থলের কাছে পৌঁছাতে না পারে।
তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছেÑ এমন দাবি অস্বীকার করেছে। খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন,
‘যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত উদ্ধার অভিযান- যা দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি থেকে প্রতারণামূলকভাবে চালানো হয়েছিলÑ তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’
নিখোঁজ বিমানচালক উদ্ধার
প্রথমে ইরানিদের ফাঁদ ভেবেছিল যুক্তরাষ্ট্র
মানবজমিন ডেস্ক
৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
