রাষ্ট্র সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো নিয়ে সরকারের অবস্থান নেতিবাচক বার্তা দেয়: টিআইবি

ফন্ট সাইজ:

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ যেমন- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যাদেশে সরকারের অবস্থানকে ‘নেতিবাচক বার্তা’Ñ হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তবে অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশকে আংশিকভাবে ইতিবাচক বলেছে সংস্থাটি। তাছাড়া, সরকার মোটাদাগে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেই পেছনে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মনে করছে টিআইবি। সোমবার ঢাকার টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধ্যাদেশ বাতিলের কথা বা প্রতিরোধটা কিছু রাজনৈতিক দল থেকে কিছুটা ভেতর থেকে (সচিবালয়) আসছে। সরকার কিছু কিছু বক্তৃতা দিচ্ছেন, একইসঙ্গে যে দৃষ্টান্তগুলো ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে বিশেষ করে এখন যে অধ্যাদেশ ‘খেলাটা’ হচ্ছে, ‘খেলাই’ বলবো আমি; সেখানে অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধটা আসছে, সেটা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে এবং পোশাকি ও অপোশাকি আমলাতন্ত্র থেকে। টিআইবি বলছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম প্রতিরোধে করা জনগুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটিসহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই আইনে পরিণত না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নতুন করে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয়-বিষয়ক তিনটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিল বা রহিত করতে সুপারিশ করেছে ওই বিশেষ কমিটি। এ নিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু গ্রহণ করার বিষয়টি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে আইনে পরিণত হতে যাওয়া সব অধ্যাদেশের সবই দুর্বলতাহীন নয়, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে৷ যেমন সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ এবং স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত ৪টি সংশোধনী অধ্যাদেশ।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রথমত, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশকে রহিত করার মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি একেবারেই বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। এই তিনটি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি কোনো টাইমলাইনও ঠিক করেনি বা ভবিষ্যতে করা হবে, তার ইঙ্গিতও দেয়নি। দ্বিতীয়ত, মানবাধিকার কমিশন, দুদকসহ ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী করে আনার কথা বলা হয়েছে। যদিও সেই সময়কাল সুনির্দিষ্ট নয়। তৃতীয় ধাপে থাকা পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে এনে পাসের কথা বলা হয়েছে। যদিও এ সব ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটি স্পষ্ট করা হয়নি। টিআইবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বাধীনতার পরিপন্থি সীমাবদ্ধতা এখনো বহাল রয়েছে।
বিশেষ করে সরকারি হিসাবে প্রাপ্য রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি আইন, বিধি ও পদ্ধতি অনুযায়ী সঠিকভাবে নিরূপণ, জমা ও হিসাবভুক্ত হয়েছে কি না তা নিরীক্ষার যথাযথ সুযোগ না থাকায় জবাবদিহি দুর্বল হবে এবং রাজস্ব খাতে অনিয়ম ও করফাঁকি রোধে কার্যকর ভূমিকা বাধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত সংশোধনী অধ্যাদেশগুলোতেও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি দেখছে টিআইবি।
সংস্থাটির মতে, বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের যে ক্ষমতা সরকার পেয়েছে, তা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ভবিষ্যতে নির্বাহী নিয়ন্ত্রণকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন