নোয়াখালীতে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা ও স্কুলশিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি, লুটপাট

নোয়াখালীতে মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতা ও স্কুলশিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি, লুটপাট

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীতে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা আব্দুর রহিমের (৪৩) ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বিকালে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মানছুরুল হক বাবর (৫৫) ও তার বড় ভাই মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল হক শাহজাহানসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে, গত শুক্রবার ৩রা এপ্রিল উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের কালু মোল্লার মসজিদ ও স্থানীয় মদিনা বাজারে ২ দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার আব্দুর রহিম মুছাপুর বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও একই ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতা এবং সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মুছাপুর ইউনিয়নের ফারুক নামে এক ব্যক্তির জমি দখল করে ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল হক শাহজাহান ও তার ভাইয়েরা মাটি বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন জিকুকে লাঞ্ছিত করে তারা। খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভিকটিম রহিম, জিকুকে দেখতে তার বাড়িতে যায় এবং অন্যের জমি দখল করায় মাটি কাটার প্রতিবাদ করে। পরে তার বাড়ি থেকে ফেরার পথে কালু মোল্লার মসজিদের সামনে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মানছুরুল হক বাবর ও তার বড় ভাই মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হাফেজ আব্দুল হক শাহজাহানসহ শাহজাদা, কাওছার, রুমন, আলমগীর ও আরাফাতের নেতৃত্বে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, একই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে স্থানীয় মদিনা বাজারে ফের বাবর-শাহজাহানের অনুসারীরা তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। তখন তার চাচী স্কুলশিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদাউসকে শ্লীলতাহানি করে তার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। চাচীকে বাঁচাতে তার ভাই আব্দুল আউয়াল (৩৭) ও আব্দুর রহমান (২১) এগিয়ে গেলে তাদের কুপিয়ে ও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক মানছুরুল হক বাবর ও তার বড় ভাই মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আব্দুল হক শাহজাহান বলেন, এ হামলার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। আপনারা মাঠে এসে দেখেন। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম মানবজমিনকে বলেন, এ ঘটনায় দু’টি পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাটিকাটার প্রতিবাদকারী আবদুর রহিমের মামলার মূল আসামি মাহমুদুল হাসান শাহজাদা, মানছুরুল হক বাবর ও কাউছার এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন