ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিত্যক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংসকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ধ্বংস কার্যক্রম চলাকালে ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেয়া হয় এবং ধ্বংসকৃত মালামালের সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতেও অনীহা প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকালে হাসপাতাল চত্বরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পরিত্যক্ত সরঞ্জাম পোড়ানো হয়। তবে বিধি অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখা যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেয়া হয়। উপস্থিতদের দাবি, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীরের নির্দেশেই ভিডিও করতে নিষেধ করা হয়। এ ঘটনায় আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পরিত্যক্ত সরঞ্জামের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তবে ঠিক কী কী ধ্বংস করা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত কথিত কমিটির স্বাক্ষরিত তালিকাও দেখানো হয়নি। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার নিছার আলী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তবে সেখানে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি তিনি দেখেননি এবং কী কী মালামাল পোড়ানো হচ্ছে সে বিষয়েও তিনি অবগত নন। অন্যদিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, হাসপাতালের পরিত্যক্ত মালামাল নিয়ম অনুযায়ী পোড়ানো হচ্ছে। কোন কোন মালামাল ধ্বংস করা হবে তা পূর্বনির্ধারিত। পুরনো বিষয় হওয়ায় নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, কার্টন ভর্তি করোনাকালীন ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক, বেডসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে কনডেমনেশন কমিটির তালিকা অনুযায়ী এসব মালামাল ধ্বংসের কথা। তবে বাস্তবে তালিকা যাচাই ছাড়াই তড়িঘড়ি করে সরঞ্জাম পোড়ানোয় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।
ফরিদপুর মেডিকেলে পুরাতন সরঞ্জাম ধ্বংসে অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদপুর প্রতিনিধি
৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
