কমলগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী মণিপুরি “লাই হারাওবা” উৎসবের আয়োজন

কমলগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী মণিপুরি “লাই হারাওবা” উৎসবের আয়োজন

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী আচারিক উৎসব ‘লাই হরাওবা’। আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের তেতইগাঁওয়ের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসব শেষ হবে ১০ এপ্রিল শুক্রবার। তিনদিন ব্যাপী উৎসবের বিষয় তুলে ধরতে আজ সোমবার বিকালে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন আয়োজক কমিটি। এবারের উৎসবে দেশের প্রতিথযশা শিল্পী, গবেষক অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভারতের মণিপুর থেকে একদল শিল্পী কলাকুশলী, গবেষক অংশগ্রহণ করবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
তিনব্যাপি লাই হারাওবা’ উৎসব আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ এর সদস্য সচিব ওইমান লানথই। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্টিয়ারিং কমিটি আহব্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল), সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ)। বাংলাদেশি মনিপুরিদের বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ‘লাই হারাওবা’কে সংরক্ষণ ও লালন বিকাশে এগিয়ে এসেছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে আয়োজিত এই উৎসবটি পরিচালনা করছে লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশ। সহযোগিতায় থাকছে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পৌরৈ অপোকপা মরূপ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধনা বাংলাদেশ।
মণিপুরি লাই হারাওবার এই উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগের অংশ। লাই হারাওবা’ মণিপুরি সম্প্রদায় সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের চেতনায় লালিত বাংলাদেশের বর্ণময় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে আমাদের অবদান প্রদর্শন করে। লাই হারাওবা হলো মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও তাৎপযপূূর্ণ উৎসব। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। এটি সৃষ্টি, দিব্য সত্তা, বিশ্বতত্ত্ব এবং সম্প্রীতির এক গভীর উদযাপন, যা প্রকাশিত হয় জটিল ও অনন্য ধারাবাহিক আচার-অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, মন্ত্র পাঠ (লাইপৌ) এবং মাইবী জাগোই-এর মতো স্বতন্ত্র নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে।
আয়োজক কমিটি জানায়, এই উৎসবে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানাই ঐতিহ্যবাহী উৎসব সকলের উপস্থিতিতে হোক প্রাণবন্ত। উৎসবটি চিরাচরিত রীতি ও প্রথাগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসব মণিপুরি সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরিত হয়।
৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী উৎসবটি “বাংলাদেশের ৮টি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়-ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন” এর আওতায় আয়োজিত হচ্ছে। উৎসবটি সফল করতে এবং মণিপুরিদের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সকলের সহযোগিতা ও উপস্থিতি কামনা করেছেন আয়োজক কমিটি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন