কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার ও নিজ দলের কর্মী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় একে-অপরের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সোমবার তাদের দায়েরকৃত পৃথক দু’টি অভিযোগপত্র প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। অভিযোগপত্রে আবুল বাশার উল্লেখ করেন, গত ৪ঠা এপ্রিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত থাকলে সেখানে তিনি ও তার দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন।
এ সময় ছাত্রদল পরিচয় দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিথিদের পথরোধ করে সেলফি তুলতে গেলে তিনি বাধা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা বার্ডের নতুন গেস্ট হাউজে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং অশালীন আচরণ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইমুন সরকার হস্তক্ষেপ করেন। তবে একই দিন দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘হত্যার হুমকি’- দেয়ার অভিযোগ এনে পোস্ট করেন এবং সাংবাদিকদের কাছেও মিথ্যা অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে আবুল বাশার বলেন-কথিত ছাত্রদল পরিচয়দানকারী হৃদয় আহমেদ গণমাধ্যমের কাছে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে আমি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছি। তাই আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আমি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।
অপরদিকে মো. হাসান আহমেদ হৃদয় পাল্টা অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আমি বার্ডে যাই। সেখানে তার সঙ্গে দেখা করে কয়েকটি সেলফি তুলি। এতে বাশার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে না জানিয়ে কেন বার্ডে গেছি- সে ব্যাপারে জবাবদিহি করেন। এ সময় তিনি নিজেকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে হৃদয় বলেন-বাশার ভাই একজন সিনিয়র হয়ে আমাকে সেদিন হত্যার হুমকি দেন। নিজে হুমকি দিয়ে উল্টো আমার নামে থানায় ডায়েরি করেন। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আমি এ বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি হতাশায় আছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমি সাহায্য চাই। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য সদর দক্ষিণ থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানান- অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে টিটু কুমার নাথ বলেন- সদর দক্ষিণ থানা থেকে আমাকে অভিযোগের ব্যাপারে জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগপত্র এখনো আমার কাছে পৌঁছায়নি। অভিযোগপত্র পেলে আমরা তদন্ত শুরু করবো।
