ধর্মপাশা পাউবো কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

পিআইসি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি

ধর্মপাশা পাউবো কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ধর্মপাশা উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ নেয়া ও কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সোমবার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বানারশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কৃষক মো. মজিবুর রহমান মজুমদার। জানা যায়, টাকার বিনিময়ে ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজের বরাদ্দ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত টাকা না দিলে বরাদ্দ কমিয়ে কার্যাদেশ দেয়ার মতো অনিয়ম করে আসছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীসহ স্থানীয়রা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরে ধর্মপাশা উপজেলার সাতারিয়া-পাখারিয়া হাওরের একটি প্রকল্পে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কার্যাদেশে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৭ টাকা বরাদ্দ উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ে একই প্রকল্পে ১৭ লাখ ২১ হাজার ৪১ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির সঙ্গে জটিলতার পর ৪১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় বিল হিসেবে ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৪১ টাকা ছাড় দেয়া হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জেনে-শুনে একজন সাজাপ্রাপ্ত অযোগ্য ব্যক্তিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্তও করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, প্রকল্পে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বাঁধটি অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

যে কোনো সময়ে হাওরে পানি ঢুকে কৃষকের কষ্টের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর আলম ধর্মপাশা উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পিআইসি সভাপতি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দেড় লাখ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে প্রকল্প দিয়েছেন। প্রতি বিলে টাকা ছাড় করার সময় যেসব পিআইসি সভাপতি বেশি টাকা দিয়েছেন, তাদের বিল দ্রুত ছাড় দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় তিনি একটি দালাল চক্রও গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগকারী কৃষক মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম পিআইসি’র নামে ব্যাপক অনিয়ম করছেন। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৪১ নম্বর প্রকল্পে ১৭ লাখ ২৯ হাজার ৪১ টাকা বিল ছাড় দেয়া হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন- এ বিষয়টি আমি অবগত নই। যদি কোনো অভিযোগ পাই তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন