অসহায় সিসিডিএম চেয়ারম্যান, সম্বল শুধু ‘বিশ্বাস’

অসহায় সিসিডিএম চেয়ারম্যান, সম্বল শুধু ‘বিশ্বাস’

ফন্ট সাইজ:

ক্রিকেট অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কবে মাঠে গড়াবে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ? বিসিবি নির্বাচনে পট পরিবর্তনের পর থেকেই দেশের ক্লাব ক্রিকেটে অচলাবস্থা চলছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ক্লাবগুলোর অস্বীকৃতিতে ক্রিকেটাররা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। খেলোয়াড়দের রুটি-রুজি হুমকির মুখে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন শেষ লড়াই করে যাচ্ছেন। তিনি এই তীব্র সংকট, পরিচালকদের পদত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। অতীতে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট ছাড়া ক্রিকেট কখনো বন্ধ থাকেনি। অথচ এখন বোর্ড প্রস্তুত থাকলেও ক্লাবগুলো মাঠে নামছে না। খেলোয়াড়দের দাবি-দাওয়া আদায়ে আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার পরিষ্কার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ৮িএপ্রিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সভার দিকে তাকিয়ে আছেন সবাই। সংকট সমাধানে তিনি ঠিক কীভাবে এগোচ্ছেন, পদত্যাগের হিড়িক, খেলা মাঠে গড়াবে কি না, এ নিয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যান যেন অসহায়। তার এখন একমাত্র সম্বল কেবল ‘বিশ্বাস’ যে—ক্লাবগুলো শেষ পর্যন্ত লীগে অংশ নেবে। তার কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: কোনো কারণ ছাড়াই লীগ বন্ধ কেন?
দীপন: বাংলাদেশের ইতিহাসে লীগ বন্ধ হয়েছে মাত্র তিনবার। ২০০৪ সালে মাঠের অভাব, ২০১৪ সালে জঘন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর ২০১৯ সালে করোনার কারণে। এগুলো ছাড়া খেলা কখনো থামেনি। আপনাদের সমস্যা থাকলে বোর্ডে জানান, আপত্তি দিন। কিন্তু খেলা বন্ধ রেখে সাধারণ খেলোয়াড়দের জিম্মি করবেন কেন? এটাই আমার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান প্রশ্ন।
প্রশ্ন: ক্লাবগুলো না খেললে বিকল্প কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
দীপন: সিসিডিএম একা ফান্ড দিয়ে লীগ চালাতে পারে না। এটি সম্পূর্ণভাবে বোর্ডের নিজস্ব বিষয়। বোর্ড যদি এ ব্যাপারে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটা পুরোপুরি বোর্ডের ব্যাপার।
প্রশ্ন: খেলোয়াড়দের সংগঠন কোয়াব ক্লাবগুলোকে কিছু বলছে না কেন?
দীপন: খেলোয়াড়দের চিঠি আমরা পেয়েছি। বোর্ড কিন্তু পুরোপুরি প্রস্তুত, মাঠ ও আম্পায়ার রেডি আছে। আমরা কাউকে জোর করতে পারি না। ক্লাবগুলো যদি না খেলতে চায়, তবে কোয়াবের উচিত তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
প্রশ্ন: ক্রিকেটাররা কি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে?
দীপন: আমার কাছে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমি মনে করি, নিজেদের দাবি আদায়ে সাধারণ খেলোয়াড়দের নিজেদেরই এগিয়ে আসা উচিত। কারো কথায় আটকা পড়লে নিশ্চিতভাবেই তাদের রুটি-রুজির চরম ক্ষতি হবে।
প্রশ্ন: আপনারা কি খেলোয়াড়দের চিঠির আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছেন?
দীপন: না, এখনো তাদের সঙ্গে বসিনি। তবে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আমরা ঠিকই কাজ করছি। আগামী ৮ তারিখে প্রিমিয়ার লীগকে ডেকেছি। এরপর পরবর্তী করণীয় ঠিক করবো। বোর্ড সভাপতি সব ক্লাবকে দাওয়াত দিয়েছেন। আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে চাই। সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও ক্লাবগুলোর সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলছেন। এর বাইরে আমাদের আর কী করার আছে?
প্রশ্ন: জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে কি আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন?
দীপন: আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে মাননীয় সভাপতির সঙ্গে এই সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা ৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।
প্রশ্ন: ক্লাবগুলোর সঙ্গে কি ব্যক্তিগতভাবে আপনার কোনো কথা হয়েছে? তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
দীপন: আমি সবার সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। সত্যি বলতে, কিছু জায়গা থেকে বেশ ইতিবাচক এবং কিছু জায়গা থেকে নেতিবাচকÑ মিলেমিশে প্রতিক্রিয়া আসছে।
প্রশ্ন: বোর্ড কি চাপে আছে? সবশেষ মিটিংয়েও পরিচালকরা পদত্যাগ করেছেন।
দীপন: ওই মিটিংয়ে দুজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন, এরপর বাকিরা। একে অশনিসংকেত হিসেবে দেখার কোনোই কারণ নেই। পদত্যাগপত্রে তারা পরিষ্কারভাবে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। যেকোনো পরিচালক ব্যক্তিগত কারণে চাইলেই পদত্যাগ করতে পারেন।
প্রশ্ন: কিন্তু পদত্যগের কারণ হিসেবে শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন কাজের পরিবেশ নেই। আপনার মন্তব্য কী?
দীপন: অসন্তোষ থাকতে পারে। সেটা সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। আমি না থাকার সময় অফিশিয়াল চিঠিতে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিলাম। তিনি আসলে কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন, সেটা তাকেই সরাসরি প্রশ্ন করা ভালো।
প্রশ্ন: আপনার হঠাৎ ফেরা নিয়ে গুঞ্জন ছিল, শেষ পর্যন্ত ফিরলেন কেন?
দীপন: আমি গর্বিত বাংলাদেশি এবং নির্বাচিত পরিচালক। না ফেরার কোনো কারণ নেই। গুজবে কান দেয়া মোটেও উচিত নয়। নিজের দায়িত্ব পালন করতে আমি আসবোই।
প্রশ্ন: আপনারা শেষ পর্যন্ত লড়বেন, শক্তির জায়গা কী?
দীপন: আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে এসেছি। বোর্ড দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা সরাসরি কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই, আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাসী।
প্রশ্ন: আপনি কি এখনো আশাবাদী যে লীগ শুরু হবে?
দীপন: আমি সবসময় ভীষণ আশাবাদী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যারা ক্লাব চালান তারা সবাই ক্রিকেটকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। বোর্ডে আসা মুখ্য নয়, বরং ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্বার্থে ক্লাবগুলো দ্রুত মাঠে ফিরবে। আমাদের বিশেষ কিছু করার বাকি নেই। খেলা নিশ্চিতভাবেই হবে। মাঠে ক্রিকেট তার আপন গতিতেই চলবে। আমরা কোনো গাফিলতি করছি না। সিসিডিএম হিসেবে আমরা চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখছি না। সংকটময় মুহূর্তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার রক্ষায় লীগ মাঠে গড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। শিগগিরই আমরা দারুণ সুখবর পেতে যাচ্ছি। ধন্যবাদ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন