গত কয়েক মৌসুম থেকে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির লড়াই আখ্যা পেয়ে আসছে ‘চ্যাম্পিয়নস লীগ ডার্বি’ হিসেবে। তবে ইউরোপিয়ান শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এর আগের অন্যতম জনপ্রিয় লড়াই ছিল রিয়াল ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার ম্যাচ। ২০২৩-২৪ মৌসুমের সেমিফাইনালের পর প্রথমবার এবারের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই জায়ান্ট ক্লাব। এ ম্যাচকে রিয়াল মাদ্রিদ আখ্যা দিচ্ছে ‘দ্য গ্রেট ইউরোপিয়ান কাপ ক্লাসিক’ হিসেবে। ম্যাচটি শুরু হবে আজ রাত ১টায়। তবে বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে বড়সড় দুশ্চিন্তা নিয়েই খেলতে হবে অল হোয়াইটদের। কেননা, দলের ছয়-ছয়জন তারকার নামের পাশে একটি করে হলুদ কার্ড রয়েছে। এদের কেউ একজন আজ আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই আলিয়েঞ্জ অ্যারেনার দ্বিতীয় লেগে দর্শক হয়ে থাকতে হবে তাকে!
চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২৮ বার একে অপরের মোকাবিলা করেছে রিয়াল ও বায়ার্ন। এবার দু’দলের মধ্যকার ২৯তম ম্যাচে রিয়ালের দুর্ভাবনায় থাকা সেই ছয়জন হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম, অরেলিয়ে চুয়ামেনি, আলভারো কারেরাস ও ডিন হাউসেন। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করে আরবেলোয়াকে কোচের দায়িত্ব দেয়ার পর লস ব্লাঙ্কোসরা কিছুটা মিশ্র মৌসুম পার করছে। লা লিগায় শেষ ম্যাচে মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলের হারে শিরোপা দৌড়ে বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছে তারা। তাই আরবেলোয়ার সব মনোযোগ এখন তাদের প্রিয় টুর্নামেন্টের দিকেই। হাইভোল্টেজ ম্যাচটিকে সামনে রেখে সেদিনের ম্যাচের পর আরবেলোয়া বলেন, ‘লকার রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই তাদের জন্য এই (মায়োর্কা) ম্যাচ শেষ। আমি চাই, খেলোয়াড়রা যাতে বিশ্বাস করে যে তারা মঙ্গলবারের ম্যাচ জিতবে।’
অন্যদিকে, ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে চলতি মৌসুমে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বায়ার্ন। ৪৩ ম্যাচের মধ্যে স্রেফ দু’টিতে হার দেখেছে তারা। জার্মান বুন্ডেসলিগায় বর্তমানে ৯ পয়েন্টের ব্যবধানে চূড়ায় বাভারিয়ানরা। তবে টুর্নামেন্টের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের সমীহ করেই কোম্পানি বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লীগ ইতিহাসের সেরা দল। আমাদের জন্য এটি একটি দারুণ কাজ। আমরা জিততে চাই।’
অল হোয়াইটদের শিবিরে চোট সমস্যা বেশ প্রকট। গোলকিপার থিবো কর্তোয়া এবং ফরোয়ার্ড রদ্রিগো গোয়েজ নিশ্চিতভাবেই থাকছেন না। টুর্নামেন্টের এ মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে (১৩) এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রই আক্রমণভাগের মূল ভরসা। বায়ার্ন শিবিরে শঙ্কার নাম হ্যারি কেইন। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন স্যুর দৌড়ে সবার উপরে থাকা এ ইংলিশ ফরোয়ার্ড (৩১ গোল) পুরোপুরি ফিট না হলে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে নিকোলাস জ্যাকসনকে। এছাড়া লুইস দিয়াজ ও সার্জি ন্যাবরিরা থাকছেন আক্রমণভাগে।
দু’দলের মধ্যকার শেষ ৯ ম্যাচেই জয়হীন বায়ার্ন। এর মধ্যে রিয়ালের জয় ৭টি ও ড্র ২টি ম্যাচে। সাকুল্যে ২৮ ম্যাচেও এগিয়ে অল হোয়াইটরাই (১৩ জয়, ৪ ড্র ও ১১ হার)। ইতিহাস বলছে, শেষ চারবার যখনই রিয়াল বায়ার্নকে বিদায় করেছে, তারাই শিরোপা জিতেছে। এবারও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয় কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
রাতের আরেক ম্যাচে একই সময়ে মুখোমুখি স্পোর্টিং লিসবন ও আর্সেনাল। কারাবাও কাপ ও এফএ কাপ থেকে বিদায়ের পর এখন গানারদের ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ চ্যাম্পিয়নস লীগ। চোট জর্জরিত আর্সেনাল শিবিরে গ্যাব্রিয়েলের হাঁটুর চোটে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তবে স্কোয়াডে ফিরতে পারেন বুকায়ো সাকা ও ডেকলান রাইস। ম্যাচটি ইংলিশ জায়ান্টদের ফরোয়ার্ড ভিক্টর ইয়োকেরেসের জন্য বিশেষ। এবারই প্রথম সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হচ্ছেন এ সুইডিশ তারকা।
