ফরিদগঞ্জে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব চরমে

ফরিদগঞ্জে দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব চরমে

ফন্ট সাইজ:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। মৃত নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর প্রতিষ্ঠিত সোনালী আঁশ গ্রুপে তিনি জীবিত থাকাকালীন তার ভাইদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী তার বাবার জীবদ্দশায় কিছু জমি ক্রয় করেন। বাবার মৃত্যুর পর তার ভাই মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী ওই জমির একটি অংশে বাড়ি নির্মাণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, পৈতৃক অংশের বাইরে অতিরিক্ত জমি দাবি করেন মোতাহার হোসেন। তবে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করায় জোরপূর্বক জমি দখল করে সেখানে ইটের দেয়াল নির্মাণ করা হয়।
এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর ছেলে জাফর আহমেদ পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, জমির সুনির্দিষ্ট বণ্টন না থাকলেও তার চাচা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিয়ে দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখল করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কোম্পানিতে কর্মরত থাকাকালে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হলে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পৌরসভার মেয়র খায়ের পাটোয়ারীর প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী জমি দখল করেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সক্ষমতা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া, সাবেক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে জাফর আহমেদ পাটওয়ারীকে বাড়িছাড়া করার চেষ্টা করা হয়। গত ২৩ মার্চ বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার বাড়ির পানি ও সুয়েজ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়, যা ২ এপ্রিল ভুক্তভোগী পক্ষ ভেঙে জমি পুনরুদ্ধার করে। জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আজকে সাত বছর মাপজোপের চেষ্টা করেছি। তারা শুনেনি। তার বাবার সাথেও তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়াই উত্তম।”

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন