মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রোববার আক্রমণাত্মক ভাষায় দেয়া পোস্টে হুমকি দেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে হামলা চালাবেন। এর জবাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানের দূতাবাসগুলো তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে জানান যে, এর আগে তিনি একটি ‘অলৌকিক’ অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক চালককে উদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একে ‘মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে সাহসী সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনগুলোর একটি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার হবে পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে এবং ব্রিজ ডে- সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও, তোমরা পাগল বাস্টার্ডস, না হলে নরকে বাস করবে-দেখে নিও! আল্লাহ মহান।’
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান দাবি করে যে তারা এই অভিযান ‘ব্যর্থ করে দিয়েছে’ এবং কয়েকটি বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করে। তবে তারা অস্বীকার করেনি যে মার্কিন বাহিনী তাদের পাইলটকে উদ্ধার করেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৮০ সালের ২৪ এপ্রিল তাবাস মরুভূমিতে পরিচালিত একটি ব্যর্থ মার্কিন উদ্ধার অভিযান ছিল ঈগল ক্ল।
ইরানের দূতাবাস এক্সে লিখেছে, ‘ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে। অপারেশন ঈগল ক্ল’, ইরানের তাবাস মরুভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক সামরিক ব্যর্থতা।’ ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন বাহিনীর তথাকথিত উদ্ধার অভিযানটি ছিল একটি ‘প্রতারণামূলক দ্রুত উদ্ধার মিশন’, যা দক্ষিণ ইসফাহানের একটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি থেকে চালানো হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সময়মতো পৌঁছানোর পর এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়।’
ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যখন মার্কিন সেনাদের প্রশংসা করে এক্সে পোস্ট দেন, তখন ইরান তীব্র কটাক্ষ করে। সইরানের দূতাবাস লিখেছে, ‘এগুলোও যোগ করুন- মিনাব স্কুলের শিশুদের হত্যায় (আপনারা) গর্বিত। হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলায় (আপনারা) গর্বিত। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় সমর্থনে (আপনারা) গর্বিত। এপস্টেন মামলায় (আপনারা) গর্বিত। প্রিয় ব্যবহারকারীরা, ক্যারোলিনকে আর কী যোগ করতে হবে বলুন।’
ওদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। ইসরাইল ও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অবরোধ বন্ধ করতে হবে। ওদিকে ওমান ও ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সহজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেও তেহরানের অনেক বাসিন্দাকে নির্লিপ্ত দেখা গেছে। এএফপি জানিয়েছে, শহরের পশ্চিমে একটি বড় পার্কে তরুণরা পিকনিক করছে, কেউ ফ্রিসবি খেলছে, আবার কেউ মিলাদ টাওয়ারের সামনে ঘুড়ি উড়াচ্ছে।
পাইলট উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মার্কিন সেনা সদস্য ছিলেন একজন অস্ত্র ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কর্মকর্তা। তার কাছে একটি পিস্তল, একটি বিকন এবং নিরাপদ যোগাযোগ যন্ত্র ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে উদ্ধারের জন্য পাঠানো দুটি বিমান ইরানের একটি দূরবর্তী ঘাঁটিতে আটকে পড়ে এবং সেগুলো ইরানের হাত থেকে রক্ষা পেতে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে আরও তিনটি পরিবহন বিমান ব্যবহার করে তাকে ও উদ্ধারকারী দলকে ইরান থেকে বের করে আনা হয়। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি মার্কিন বিমান ধ্বংস করেছে। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই অভিযানে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) প্রকাশিত ভিডিওতে মরুভূমিতে ছড়িয়ে থাকা একটি মার্কিন বিমানের পোড়া ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
