আজকের পত্রিকা
‘জুলাই সনদ নিয়ে সংসদে আলোচনা: সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবু অনড় দুই পক্ষই’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে দ্বিতীয় মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনা শেষ হলো সমঝোতা ছাড়াই। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে তারা। সংবিধান সংস্কার হয় না, সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন হয়। তবে বিরোধী দল বলেছে, তারা বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার চায়। তারা সংশোধনের বিরোধী নয়।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গতকাল রোববার সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের তোলা ৬২ বিধির মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলে সরকারি ও বিরোধী দল।
জয়নুল আবদিন ৬২ বিধিতে যে প্রস্তাব তুলেছেন তা হলো, ‘ভবিষ্যতের পথরেখা’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইনকানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জনের বিষয় প্রস্তাব-সংক্রান্ত। যে কারণে ওই জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে সংসদ মুলতবি করে আলোচনা হওয়া প্রসঙ্গে। এর আগে গত ৩০ মার্চ উত্থাপিত একই ধরনের আরেকটি প্রস্তাব আলোচিত হয়েছে বলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদে জানান।
আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সংসদ নেতার পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সরকারি ও বিরোধী দলের ৯ জন সংসদ সদস্য ২ ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনায় অংশ নেন। তবে দুই পক্ষই সনদ বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থানে অনড় ছিল।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রতি ইঙ্গিত করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘সময়সীমা চলে গেলেও মনখোলা রাখলে এখনো রাস্তা বের করা সম্ভব। আমরা সেই রাস্তা বের করে এগিয়ে যেতে চাই। যতটুকু সংস্কার হওয়ার সংস্কার হবে। সেখানে সংশোধন হওয়ার সংশোধন হবে। আমরা সংশোধনের বিরোধী নই। সংবিধান সংশোধন ও আইন রচনায় আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।’
বিরোধী দল সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা কখনো বলেনি জানিয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই সংসদকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমাদের কেউ এ ধরনের মন্তব্য করেননি। আমরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কায়েমের জন্য এই সংবিধানের পরিবর্তন চেয়েছি। ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ ও শাসন পেতে আমরা কথা বলছি। আমরা সংবিধানের বিরোধী নই। সংবিধানের ওই জায়গাগুলো চাইনি—যেটা গত ৫৪ বছরে বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আদেশ মানি। গণভোট মানি। সংস্কার পরিষদ মানি। প্রয়োজন ক্ষেত্রে সংবিধানের সংশোধন মানি। জুলাই সনদও সুন্দরভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি মানি। কোথাও অমান্যের বিষয়টি নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি নির্বাচনের আগে তো কেউ বলেননি, সংসদ নির্বাচন মানি না। অথবা গণভোট মানি না। এখানকার সবাই গণভোটের হ্যাঁ-এর পক্ষে কথা বলেছি।’
সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আসুন আমরা দোষাদোষি আর রেষারেষি ছেড়ে এই দেশের হই। জনগণের হই। আমি বিশ্বাস করি, সকলের অন্তরে দেশপ্রেম আছে। এখানে চরিত্র হননের চর্চা বন্ধ হওয়া দরকার। এই সংসদ পরস্পরের চরিত্র হননের জন্য নয়। এই সংসদ জাতির দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য।’
সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে সংসদে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট আছে, সেগুলো উল্লেখ করে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেন। একজন প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, এমন বিধান বিএনপি প্রস্তাব করেছিল তারেক রহমানের নির্দেশে। কারণ তাঁরা চান না ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারে সংসদীয় স্বৈরাচারের উৎপত্তি যাতে না হয়।
নোট অব ডিসেন্টসহ যেভাবে সই হয়েছে, বিএনপি জুলাই সনদের সব দফা, অঙ্গীকারনামা শতভাগ পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু সার্বভৌম বিচার বিভাগ তাঁরা চান না। কারণ সার্বভৌম হলো জনগণ, সংসদ ও দেশ। এর বাইরে কারও সার্বভৌম কর্তৃত্ব থাকতে পারে না। এই সংসদেই বিচার বিভাগের সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগের আইন পাস করা হবে।
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার হয় না। সংবিধান রহিত হয়, স্থগিত হয়, সংশোধন হয়, বাতিল হয়। সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন হতে পারে।’ এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দল সংবিধানের সংস্কার চায়, সংশোধনী চায় না। পুনর্লিখিত সংবিধান কেউ কেউ চেয়েছিল, যারা বিদেশ থেকে আমদানি হয়েছিল সংস্কার প্রস্তাবসহকারে। আমরা বলেছিলাম পুনর্লিখিত সংবিধান, নতুন সংবিধান, গণপরিষদ—এগুলো একই কথা, সংবিধানে যা কিছু গ্রহণ করতে চায়, তা সংশোধনীতে আনি। তাল ধপ করে পড়িল, নাকি পড়িয়া ধপ করিল, এক কথাই তো। সংশোধনী তো আমরা চাই।’
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যদি স্বাধীনতা যুদ্ধ, সংবিধান ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করি তাহলে ভবিষ্যতে এই জুলাই সনদকে কেউ না কেউ অস্বীকার করবেন। আমরা সে রকম পথ রেখে যেতে চাই না। এ জন্যই আমরা বারবার বলছি, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনীতি করার দরকার নেই। আসুন, আমরা জুলাই সনদের পথ ধরে হাঁটি।’
বিরোধী দলের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা বলছেন সংস্কার পরিষদ। আমরা বলছি, জুলাই সনদ পুরোটা বাস্তবায়ন করব। জুলাই সনদের লাইন ধরে আমরা এগিয়ে যাব। এর পথ ধরে হাঁটব। জুলাই সনদ জনগণের মুক্তির সনদ। এই সনদবলে আমরা সংবিধানকে ধারণ করব। সংবিধানকে সংশোধন করে সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত করব। আমরা সেই পথ ধরে এগোচ্ছি।’
জামায়াতে ইসলামীর গাজী এনামুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পাশ কাটিয়ে এ প্রস্তাব আনা হয়েছে। এতে সংস্কার শব্দটি আনা হয়নি। জনগণের সার্বভৌমত্বকে কবর দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো গণরায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এনসিপির আখতার হোসেন বলেন, ‘যে প্রস্তাবটি এই সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে, সেটা উত্থাপনের যোগ্যই নয়। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের যে স্মৃতিভ্রম হয়েছে, সেটা আমাদের কষ্ট দেয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য কমিশন হয়েছে। সেই আলোচনার ফলাফল আজকে বিএনপি মানতে চায় না।’
বিএনপির শরিক দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে আসবে। সংসদের রীতিনীতি মেনেই এটা আসবে। আমার মনে হয়, এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড় করানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। বিষয়টি এমন যে, আমরা জুলাই চাই না। উনারা যেন জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন।’
বিএনপির মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বাস্তবায়ন আদেশে গলদ রয়েছে। এটা নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়িয়ে জুলাই চেতনার সঙ্গে কতটুকু যায়, তা জানতে চাই। বলা হচ্ছে, বিএনপিকে ফ্যাসিস্ট দলের পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিএনপির সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এসেছে। এসব কথা বলে আমাদের উত্ত্যক্ত-বিরক্ত ও মব কালচাল সফল হবে না।’
বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের বিরুদ্ধে নই। অক্ষরে অক্ষরে এই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই।’
প্রথম আলো
‘রাজস্ব খাত সংস্কারেও পিছু হটা’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজস্ব খাত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা এখনই বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছে না বিএনপি সরকার। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারাবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব খাতের মতো ‘অরাজনৈতিক’ সংস্কারেও পিছু হটছে। যদিও দেশের অর্থনীতির জন্য এ সংস্কার খুবই জরুরি।
রাজস্ব খাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সংস্কার করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারি করে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামো পুনর্গঠন করে দুটি বিভাগ করা হয়। একটি হলো রাজস্ব নীতি বিভাগ, যার কাজ করনীতি তৈরি করা, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, গবেষণা ইত্যাদি। অর্থাৎ করহার নির্ধারণের কাজটি করবে রাজস্ব নীতি বিভাগ। অন্য বিভাগটির নাম রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, যেটি মূলত কর আদায়ের কাজ করবে।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সংস্কার। পাশাপাশি অর্থনীতিবিদেরা একই পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশ এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’। ১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে না তুললে এটি কার্যকারিতা হারাবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। এর মধ্যে ৪টি বাতিল করা ও ১৬টি এখনই সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত একটি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়সংক্রান্ত দুটি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত তিনটি, গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত দুটি এবং দুদকসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত থাকতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রাজস্ব খাত সংস্কারের মতো ‘অরাজনৈতিক’ অধ্যাদেশও সংসদে তুলছে না তারা। এই অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারের অবস্থান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের পরের দুই কিস্তি ও নতুন ঋণ পাওয়া অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইএমএফের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের (বেড়ে সর্বশেষ দাঁড়িয়েছে ৫৫০ কোটি ডলার) কিস্তি গত ডিসেম্বরে পাওয়ার কথা ছিল। তা পাওয়া যায়নি।
এই দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার আগামী জুনে পাওয়ার কথা। পাশাপাশি নতুন সরকার আইএমএফের কাছ থেকে আরও ২০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়ার কথা ভাবছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত রাজস্ব খাত সংস্কার কমিটির প্রধান ছিলেন। তিনি গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, কোনো সরকারই রাজস্ব খাতে এই সংস্কার করেনি। যদিও তা জরুরি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারটি করেছিল। তিনি আরও বলেন, সংস্কারটির আগে এনবিআর নীতি প্রণয়ন করত, করও আদায় করত। তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ ছিল।
আবদুল মজিদ বলেন, বর্তমান সরকার অধ্যাদেশটি পর্যালোচনার কথা বলছে। তিনি আশা করেন, রাজস্ব খাতের এই সংস্কার তারা অব্যাহত রাখবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের একটি সংস্থা এনবিআর, যার কাজ হলো করহার নির্ধারণ এবং তা আদায় করা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যার ৮৮ শতাংশ আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে।
সরকার যখন বাজেট করে, তখন নানা খাতে করহার ঠিক হয়। অভিযোগ আছে, এ ক্ষেত্রে বিবেচনা থাকে বাড়তি টাকা আদায়। এই বিবেচনা সীমিত আয়ের মানুষ, ব্যবসায়ীসহ সবার ওপর চাপ তৈরি করে। রাজস্বের চিন্তা থেকে করহার বারবার পরিবর্তন করা হয়, যা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তায় রাখে।
অর্থনীতিবিদেরা বলে থাকেন, করনীতির ওপর একটি দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, নতুন নতুন খাতের বিকাশ, দ্রব্যমূল্য ইত্যাদি নির্ভর করে। করনীতি হওয়া উচিত এসব বিবেচনায়; রাজস্ব বাড়ানো ও সহজে কর আদায়ের চিন্তা থেকে নয়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই করনীতি ঠিক করা এবং কর আদায়ের দায়িত্ব দুটি আলাদা সংস্থাকে দেওয়ার পরামর্শ ছিল। সেই পরামর্শ কখনো শোনা হয়নি। আইএমএফের শর্তের চাপে রাজস্ব আদায় ও নীতি তৈরির দায়িত্ব দুটি সংস্থাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রথম আলোর গতকালের আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম- যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে দ্বিতীয় বাংলাদেশ।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখন দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্কের কারণে চীনের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের এই উত্থান। যদিও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৮ শতাংশের মতো।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে টপকে বাংলাদেশের শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম রয়েছে শীর্ষ স্থানে। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ কম।
অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ২৭০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম। এই সময়ে তাদের রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এ ছাড়া জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ১৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছিল ১৫০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীন রপ্তানি করেছে ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। গত বছরের একই সময়ে তাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এবার রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ও চীনের রপ্তানি কমলেও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি।
অবশ্য ভারতের রপ্তানি কমে গেছে পৌনে ২৪ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভারত ৭২ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে তাদের রপ্তানি ছিল ৯৬ কোটি ডলার।
গত বছরের ২ এপ্রিল বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক থাকলেও ৮ জুলাই সেটি কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছায় বাংলাদেশ। তাতে পাল্টা শুল্ক কমে ২০ শতাংশে দাঁড়ায়। গত ৭ আগস্ট পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়।
পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করে ৯ ফেব্রুয়ারি। সে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার কমে হয় ১৯ শতাংশ। দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরদিন তা আরও বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নতুন শুল্ক ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
পাল্টা শুল্কের প্রস্তাবে শুরুতে বেকায়দায় থাকলেও পরে প্রতিযোগী দেশের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছায় বাংলাদেশ। তার কারণ, বাংলাদেশের মতো ভিয়েতনামের শুল্ক ছিল ২০ শতাংশ। তার বিপরীতে ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার ৫০ শতাংশ। চীনের শুল্ক আরও বেশি। ফলে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, জুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়তে থাকে। তবে পরে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি: বেশি প্রভাব দশ খাতে’। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এর প্রভাব পড়েছে সব খাতে। ইতোমধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক খাতসহ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা টালমাটাল অবস্থায় আছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সেটিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধের কারণে দেশের অন্তত ১০টি খাতের প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে-বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহণ, শিল্প খাত, কৃষি, আমদানি-রপ্তানি, গৃহস্থালি, সেবা, নির্মাণ, পর্যটন ও বিনোদন এবং টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাত। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। মোট জ্বালানির ৬৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। আবার জ্বালানি মজুদেরও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানির গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বড় সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।
সংকট মোকাবিলায় সরকার মার্কেট খোলা রাখার সময় কমিয়ে আনা, বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ানো, অফিস সময় এগিয়ে আনা এবং জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি সব উদ্যোগের মূল কথা হলো-চাহিদা কমানো। কিন্তু সরবরাহ বাড়াতে তেমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ। তাদের মতে, ইরান যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিতে বড় দুর্বলতা তৈরি করেছে এমন নয়। দেশের অর্থনীতি আগে থেকেই দুর্বল ছিল। ইরান যুদ্ধ সেটার প্রকাশ ঘটছে।
জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি এমন একটি পণ্য, যার সঙ্গে দেশের সবকিছুর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি খাতে যে সংকট চলছে, তা অর্থনীতিকে অত্যন্ত খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিগগিরই যুদ্ধ না থামলে সামনে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঋণের ফাঁদে পড়েছে দেশ। কারণ বর্তমানে বিদেশি ঋণ রয়েছে ১১৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়াও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে। যার অন্যতম একটি কারণ হলো-বড় অঙ্কের সুদ পরিশোধের চাপ। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে পরিচালন ব্যয় কমাতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে অবশ্যই বিকল্প পথে জ্বালানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। পালটা পদক্ষেপ হিসাবে তেল পরিবহণের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশে তেলের সংকট দেখা দেয়। এতেই বহুমুখী সংকট তৈরি হয়। বর্তমানে তেলের জন্য পেট্রোলপাম্পগুলোতে একরকম যুদ্ধ চলছে। মালিক ও ক্রেতাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হচ্ছে। তবে সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়কমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত আছে।
তিন ধরনের জ্বালানি বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়। এগুলো হলো-তেল, গ্যাস এবং কয়লা। এর মধ্যে তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গ্যাসের আমদানি তুলনামূলকভাবে কম। আবার কয়লার আমদানি বেশি। আর জ্বালানি হিসাবে তেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে সব খাতে প্রভাব পড়েছে। এই সংকট ক্রমেই জাতীয় সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিনটি খাত কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এছাড়াও জাতীয় বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব পড়তে পারে। তবে ১০টি খাতে বেশি প্রভাব পড়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন: বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল (ডিজেল), গ্যাস ও কয়লার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেল ও গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানির অভাবে শনিবার পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ ছিল। অন্য কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় লোডশেডিং বাড়িয়েছে সরকার। এতে দেশের প্রায় সব শিল্প ও সেবা খাতে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে আবাসিক ভবনগুলোতে জেনারেটর চালানো হয়। এই জেনারেটরের মাধ্যমে এসি, ফ্যান এবং লিফট পর্যন্ত চলে। কিন্তু তেলের সংকটে সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে।
কালের কণ্ঠ
‘জ্বালানিসংকটে বাড়ছে লোডশেডিংও’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জ্বালানি তেল সংকটে যখন চারপাশে চরম অস্থিরতা চলছে, তখন নতুন ভোগান্তি হয়ে এসেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরম শুরু হতেই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের তীব্রতাও। ভাপসা আবহাওয়ার মধ্যে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। জ্বালানি সরবরাহে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সামনে সেচ ও গ্রীষ্মকাল, তখন বিদ্যুতের চাহিদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া, ভর্তুকির ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত—সব মিলিয়ে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন গভীর আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এদিকে গতকাল থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুন সময়সূচিতে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কিছুটা সংশোধন করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাড়িয়ে ৭টা করা হয়েছে।
যদিও অন্য দিনের মতো গতকালও পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য ভোক্তাদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানি গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির মজুদও ফুরিয়ে আসছে।
ফলে দেশে প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে তা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা না এলে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, দেশে গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠছে।
যদিও গত মার্চে গড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেগাওয়াটের মতো। চাহিদা বাড়ায় এখন এক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ বেশি। কিছু কিছু উপজেলা শহরে দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ৭৫৫ থেকে ৭৬০ মেগাওয়াটে নেমেছে। যদিও আদানির দুটি কেন্দ্র চালু থাকলে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এখন লোডশেডিংয়ের এটিও একটি কারণ হিসেবে বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তেল আমদানিতে এক মাসেই বড় অঙ্কের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা ভর্তুকির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এলএনজি আমদানি করে এক মাসেই ঘাটতি হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। ভর্তুকির চাপ সামলাতে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে অর্থ মন্ত্রণালয়। দ্বিগুণ দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের ওপর চাপ বাড়ছে। এপ্রিল ও মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তেই থাকবে। দুই মাসে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ করতে হলে বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাই বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সর্বোচ্চ চাহিদার সময় দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণেরও আহবান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি অফিস টাইম কমানোসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সংকটে কমেছে যান চলাচল, বেড়েছে ভাড়া’। খবরে বলা হয়, দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন খাতে। ডিজেল সরবরাহে ঘাটতির কারণে সড়কে প্রাইভেটকার, বাস, মিনিবাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাসের চলাচল কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অফিস শুরু ও ছুটির সময়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। পণ্য পরিবহন ভাড়া তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। কমেছে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার। নৌযান চলাচল কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেকেই বাস না পেয়ে বিকল্প হিসেবে রিকশা বা রাইড শেয়ারিং সেবার দিকে ঝুঁকছেন, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ। কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। চালক-শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। অনেকেই বেকার হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংগ্রহের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
সকালে পল্টন এলাকায় গাজীপুরের বাসের জন্য অপেক্ষমাণ এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, আগে ৫ থেকে ১০ মিনিটে বাস পেতাম, এখন সেখানে আধা ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে, না হলে বাসে ওঠাই যায় না।
কাকরাইল মোড়ে রামপুরার বাসের জন্য অপেক্ষমাণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ক্লাসে ঠিক সময়ে পৌঁছানো এখন খুব কঠিন হয়ে গেছে। বাস কম, আর যেগুলো চলছে সেগুলো এত ভিড় থাকে, ওঠা যায় না।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে পড়েছে দূরপাল্লার পরিবহনেও। দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম ট্রিপ দিচ্ছে। অনেক পরিবহন সংস্থা সীমিত সংখ্যক ট্রিপ পরিচালনা করছে। ফলে জেলা-জেলা যোগাযোগে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক রুটে বাস ছাড়ার সংখ্যা কমে গেছে। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
শুক্রবার গাবতলীতে রংপুরগামী যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, আগে এক ঘণ্টা পরপর বাস পাওয়া যেত, এখন একটা বাস ধরতেই দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টিকিটের দামও আগের চেয়ে বেশি চাওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সায়েদাবাদে বরিশালগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, জরুরি কাজে বাড়ি যেতে হবে, কিন্তু বাসের সংখ্যা কম। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক মালিক বাধ্য হয়ে যানবাহন কম চালাচ্ছেন। ডিজেলের সরবরাহ সংকটের কারণে দৈনিক পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে অনেক রুটে ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেত্রে যেখানে জ্বালানি খরচ বেশি।
ইত্তেফাক
‘আন্দোলনে উসকানি দিলে যেতে পারে সরকারি চাকরি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির জারিকৃত বিভিন্ন অধ্যাদেশ অনুমোদনে সংসদে বিল পাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গতকাল রবিবার সংসদে কোনো সংশোধনী ছাড়াই ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাশ হয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর বিল দুটি আইনে পরিণত হবে।
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল’ পাশ হওয়ায় ছুটি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে এবং কোনো ধরনের আন্দোলনে উসকানি দিলে সরকারি চাকরিজীবীরা চাকরি থেকে বরখাস্তও হতে পারেন। অন্যদিকে, পাশ হওয়া দ্বিতীয় বিল অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা হবে সর্বোচ্চ ৩২ বছর।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরো শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়। গতকাল পাশ হওয়া বিল দুটির বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, যেন অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই হুবহু অনুমোদন করা হয়। সংসদ সেভাবেই হুবহু অনুমোদন দিয়েছে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী পৃথকভাবে বিল দুটি পাশের জন্য সংসদে তোলেন। দুটি বিলের কোনোটিতেই কোনো সংশোধনীর প্রস্তাব ছিল না। ফলে বিল দুটি নিয়ে কোনো আলোচনাও হয়নি। উত্থাপনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পৃথকভাবে বিল দুটি পাশের প্রস্তাব ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের সদস্যরা নীরব ছিলেন। তারা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনোটিই বলেননি। বিল দুটি পাশে সময় লাগে মাত্র আট মিনিট।
গতকালের অধিবেশনের পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচিতে বিল দুটি উত্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে বিল দুটি উত্থাপন করা হয়। বিষয়টি চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সম্পূরক কার্যসূচিতে কিছু বিল আনা হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিশেষ কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কিছু অধ্যাদেশ ল্যাপস (বাতিল) করা হয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং জুলাই চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে চাই। আজ উত্থাপিত বিলের কোনো কপি তাদেরকে দেওয়া হয়নি। যে কারণে তারা কণ্ঠভোটে অংশ নিতে পারেননি।
এ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, কোনো বিল উত্থাপনের তিনদিন আগে সব সদস্যের কাছে বিলের কপি পৌঁছানোর নিয়ম রয়েছে। তবে, বিশেষ কারণে স্পিকার এই সময় কমিয়ে আনার এক্তিয়ার রাখেন। স্পিকার জানান, বিশেষ কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ পাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘চাকরির বয়সসীমা ৩২ বছর’। খবরে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ এবং সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে শাস্তির পরিধি বাড়িয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর মধ্যে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফিন্যান্সিয়াল করপোরেশন ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আইন, ২০২৬’- এই দু’টি বিল বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বিল হিসেবে এগুলো পাস হতে সময় লেগেছে মাত্র তিন মিনিট ৩৫ সেকেন্ড। বিলের ওপর কোনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি এবং বিরোধী দল ভোটদানে বিরত ছিল।
শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর আইন
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের চার ধরনের কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- অনানুগত্য প্রদর্শন বা কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা বিঘিœত করা; যৌক্তিক কারণ ছাড়া একক বা সমবেতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা; অন্য কর্মচারীদের কাজে বিরত থাকতে উসকানি দেয়া এবং কোনো কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করা।
আইনে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড ‘শৃঙ্খলাভঙ্গজনিত অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি কিংবা বেতন গ্রেড হ্রাসের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
এ ছাড়া নতুন সংযোজিত ধারা ৩৭ (ক)-তে জনসেবার কার্যক্রম ব্যাহতকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বৈধ নির্দেশ অমান্য করা বা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাধা দেয়াও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের মে ও জুলাই মাসে জারি করা সংশোধিত অধ্যাদেশের ভিত্তিতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে পাসের সুপারিশ করেছিল, যার অংশ হিসেবেই এই আইনটি সংসদে উত্থাপিত ও পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, অধ্যাদেশ জারির পরদিন সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে সরকারি কর্মচারীরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছিলেন।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বাংলাদেশের অতিরঞ্জিত জিডিপি কেবল সরকারকে ঋণ নিতে সহায়তা করছে’। খবরে বলা হয়, আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ নাইজেরিয়া। জনসংখ্যা, অর্থনীতির ধরন ও বৈদেশিক বাণিজ্যের আকারের দিক থেকে দেশটির সঙ্গে অনেক সামঞ্জস্য রয়েছে বাংলাদেশের।
তবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকারে দুই দেশের চিত্রটা ভিন্ন। প্রায় ২৪ কোটি মানুষের নাইজেরিয়ার জিডিপি বর্তমানে ২৮৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের যেখানে জিডিপি ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার বলে দাবি করা হচ্ছে।
একইভাবে জনসংখ্যা ও অর্থনীতির কাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় আরেক দেশ পাকিস্তান। প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি মানুষের এ দেশটির জিডিপি ৩৪০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। অথচ দুই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের (আমদানি ও রফতানি) আকার কাছাকাছি। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারেও বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে গেছে পাকিস্তান।
বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশের জিডিপিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকে ভুয়া বা অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়েছে। এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণ ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে গিয়েই মূলত ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে জিডিপির আকার। বিপরীতে প্রকৃত অবস্থা থেকে কম দেখানো হয়েছে মূল্যস্ফীতির হার। জিডিপির অতিরঞ্জিত এ আকার কেবল সরকারের জন্য বাড়তি ঋণ সুবিধাই সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশের জিডিপির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সরকার ঋণ নেয় ২১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। প্রতি ডলারের দর ১২২ টাকা হিসাবে সরকারের নেয়া এ ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৭৬ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে বাংলাদেশের ডেট টু জিডিপি রেশিও বা ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে সরকারের এ ঋণের হিসাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেয়া ঋণের তথ্য যোগ করা হয়নি। সেটি যোগ করলে এর স্থিতি সাড়ে ২৩ লাখ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
দেশী-বিদেশী বিভিন্ন নথিতে পাওয়া তথ্য এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের জিডিপির প্রকৃত আকার পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ার সমপর্যায়ের। সেক্ষেত্রে দেশের জিডিপির আকার হতে পারে ৩০০ থেকে ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। কিন্তু গত দেড় দশকে এটিকে টেনে প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার যে শ্বেতপত্র কমিটি গঠন করেছিল, তাদের প্রতিবেদনেও বিবিএসের ভুয়া তথ্যের বিষয়টি উঠে আসে। ওই সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বহুবার অতিরঞ্জিত জিডিপির বিষয়টি বিশ্বমহলে তুলেও ধরেছিলেন। একই সঙ্গে জিডিপির ভুয়া তথ্য সংশোধনের কথাও বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়নি। এখন জিডিপির হিসাব সংশোধন করলে ঋণ-জিডিপির অনুপাত ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে সরকারের ঋণ নেয়ার সক্ষমতা অনেক কমে যাবে। আর বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারকে আর খুব বেশি ঋণ দিতে আগ্রহী হবে না।
জিডিপির অতিরঞ্জিত পরিসংখ্যান তৈরিসহ গত দেড় দশকে অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোর ভুয়া তথ্য ও জরিপ তৈরি করেছে বিবিএস। সরকারি এ সংস্থার কাঠামোগত সংস্কারে একটি স্বাধীন টাস্কফোর্সও গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে বিবিএসের নাম পরিবর্তনসহ বেশকিছু সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই কমিটির সদস্য ছিলেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
দেশ রূপান্তর
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে ফের বাহাস’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে ফের বাহাস হয়েছে। গতকাল রবিবার সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। নোটিসে বলা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ ‘ভবিষ্যতের পথ রেখা’ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যা সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন, সংযোজন পরিমার্জনের বিষয়ে প্রস্তাব সংক্রান্ত।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বলেন, জুলাই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সদন বাস্তবায়ন করাই এখন একমাত্র কাজ। এখানে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গণভোটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জবাবে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সেটি অবশ্যই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় করতে হবে। নয়তো আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এই সংসদ। তাই জুলাই যোদ্ধাদের দাবির বিষয়ে সরকারকে আরও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’ নয়, বরং সংবিধানের রীতিনীতি মেনেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশে একটি “কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল” (আধা-সাংবিধানিক) পরিস্থিতি ছিল। কারণ আমাদের সংবিধানে বলা নেই যে প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেলে কী করতে হবে। সংবিধানে গ্যাপ ছিল বলেই অনেক কিছু করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই।’
সংস্কার ও সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জবাবে পার্থ বলেন, ‘সংস্কার আর সংশোধনের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আমরা চাচ্ছি জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানের ভেতরে থেকেই আসবে এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনেই আসবে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে অন্য কিছুর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’
আইন না বুঝে গণভোট বা সংবিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করে আন্দালিব পার্থ একটি রূপক গল্প শোনান। তিনি বলেন, ‘এক আইন ছিল অতিথি পাখি মারলে ১০ বছর জেল। এখন একজনের বাড়ির মুরগি প্রতিবেশী জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। সেই প্রতিবেশী মামলা ঠুকে দিল ১০ বছরের জেলের দাবিতে, কারণ তার যুক্তি মুরগিও তো এক প্রকার পাখি আর অন্যের বাড়িতে সে ছিল অতিথি! যারা আইন বোঝেন না, তাদের এভাবে বারবার বোঝানো বৃথা।’
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘শর্ত সাপেক্ষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’। খবরে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আমলে নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বিএনপি সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যাচাইবাছাই করে বেশ কয়েকটি সংযোজন ও বিয়োজন করবে। সরকার গঠনের পর বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ আলোচনা হয়। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়াও বৈঠকে সংবিধান সংস্কার, জ্বালানিসহ চলমান সংকট সমাধানে গুরুত্বারোপ করা হয়। নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয় উঠে আসে।
বৈঠক সূত্র জানায়, জুলাই সনদ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। সেটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। কিন্তু কিছু নোট অব ডিসেন্ট ছিল বিএনপির। তার অর্থ এটা না যে, এই নোট অব ডিসেন্টও বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতে হবে। সূত্র আরও জানায়, দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতি জোরদার করতে দীর্ঘ ১০ বছর পর জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার গঠনের পর এবার দল পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক ভিত্তি চাঙা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করতে চান নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি স্বল্পসময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বৈঠকে গত ৪৭ দিনের সরকারের কর্মসূচি, দেশের চলমান পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ইস্যু, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ও সারা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরে কাউন্সিল করার বিষয়ে মত প্রদান করেন। কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতেও এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষক কার্ডসহ কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় তারা নির্বাচনের বাকি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দ্রুতই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে মতামত দেন।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনের কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে বিএনপি সরকারের কার্যক্রম ঠিকঠাক মতো চলে। সরকারের ওপর জনগণের বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে। দল ও সংগঠনের পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড জোরদার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়ন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করার মতো সময় নেই বলে বেশির ভাগ সদস্য মতামত দেন। সূত্র আরও জানায়, সংরক্ষিত আসনে সংসদ-সদস্যদের বিষয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিলের পর এ বিষয়টি আবার আলোচনা হবে।
স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক নেতা বলেন, সরকার ও রাজনীতিকে পৃথকভাবে গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। বৈঠকে নতুন সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে। সরকারের এই অল্প সময়ের কর্মকাণ্ডকে ভালো হিসেবে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া অনেক কিছু বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বৈঠকে সরকারের ৪৭ দিনের কাজের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিদ্যমান সংকট, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় উত্তরণের পথ খোঁজা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে যেসব কমিটমেন্ট বিএনপি করেছে, তার সবই বাস্তবায়ন করা হবে। তবে যেগুলোতে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ ও গুম কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে গুম কমিশন বাতিল করা হবে। আদতে বিষয়টি সেরকম নয়। আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে এতে কিছু সংশোধনী আনা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ দিয়েছিল, তার বেশির ভাগই অটো (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) পাস হয়ে যাবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করে ভবিষ্যতে কীভাবে দলকে দ্রুত কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সেই বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
