বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। গত ৬ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের দায়ে একে অবৈধ দাবি করে আসছিল ক্লাবগুলো। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ই মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সেই সময়সীমা মেনেই গতকাল দুপুর ১২টায় এনএসসি কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অনুপস্থিত থাকায় তাঁর সচিব এটি নেন। বহুল আলোচিত এই প্রতিবেদনে সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। ঢাকার অধিকাংশ ক্লাব অবৈধ পরিচালনা পর্ষদের অধীনে লীগ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় দেশের ক্রিকেটে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। তদন্তের বিষয়ে কমিটির প্রধান আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সংক্ষিপ্তভাবে আমরা কাউকে অভিযুক্ত না করে, আমরা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত যা পেয়েছি সে সম্বন্ধে রিপোর্ট দিয়ে গেলাম।’ এখন প্রতিবেদন জমা পড়ার পর সবার দৃষ্টি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দিকে। তারা পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়। এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন আইসিসি’র সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। তদন্ত কমিটি ৩৪ পৃষ্ঠার একটি সারসংক্ষেপ জমা দিয়েছে। নথিপত্র ও সাক্ষীদের রেকর্ড মিলিয়ে সব মিলিয়ে এই প্রতিবেদনের আকার হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়েছে। তদন্তের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে কমিটি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাদের ডাকা হয়েছে। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি। যা ঘটেছে এবং যা ঘটেনি, তার প্রকৃত চিত্র প্রতিবেদনে আছে। বিসিবির নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত করতে এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। দোষীদের শাস্তির বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ইঙ্গিত নেই। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এই রিপোর্ট একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে। তদন্তের ধরন নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি করি নাই। কোন আমরা একিউজ করি নাই, কোন চার্জ ফ্রেম করি নাই। সিস্টেম অনুযায়ী যা আছে, সেভাবে যা হয়েছে কি হয়নি, সেটুকু আমরা রিপোর্ট করার চেষ্টা করেছি।’ এই প্রতিবেদনটি বোর্ডের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছিল। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রচুর খবরও প্রকাশিত হয়। তদন্ত কমিটি এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘উনাকে সময় দিয়ে ডাকা হয়েছিল উনি আমাদের কাছে আসেন নাই।’ অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দিকেও অভিযোগের তীর ছিল। প্রার্থীর বৈধতা ও কাউন্সিলর মনোনয়ন যাচাইয়ের দায়িত্ব তাদেরই ছিল। পুরো কমিশনকেও তলব করেছিল কমিটি। কমিশন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা চেষ্টা করেছি নিয়ে এসে তাদের সাথে কথা বলার জন্য। উনারা উত্তর দেন নাই। আমাদের লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।’ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। অভিযুক্তরা সরাসরি হাজির না হওয়ায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে কমিটি তাদের প্রাপ্ত প্রমাণাদির ওপর ভিত্তি করেই সুপারিশমালা সাজানো হয়েছে। বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের অনেক ত্রুটি তদন্তের সময় ধরা পড়েছে। গঠনতন্ত্র সংশোধন না হলে বোর্ডের নির্বাচন প্রভাবমুক্ত করা অসম্ভব। ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বোর্ডের সংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কিনা, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি।’ গতকাল প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আগে তিনি আইসিসি’র সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, প্রতিবেদনটি বিশদভাবে পর্যালোচনার পর আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট
‘অভিযুক্ত নেই কেউ’, বিসিবি’র গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সুপারিশ
স্পোর্টস রিপোর্টার
৬ এপ্রিল (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
