চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, শিশুসহ আহত ৪

চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, শিশুসহ আহত ৪

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দু’গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও গুলির ঘটনায় এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই পথচারী বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, দুই রাউন্ড গুলি এবং দু’টি কিরিচ উদ্ধার করলেও মূল অভিযুক্ত সন্ত্রাসী মো. ফারুক হোসেন পালিয়ে যায়। শনিবার রাতে মিয়াখান নগর ফ্লাওয়ার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ আবু কাউছার (২০), মো. সজীব (১৯), সৈয়দ সুমন (২০) ও মো. বাবলা (১৯)। এ ঘটনায় ১২ বছর বয়সী শিশু ফাহিমসহ বাকি আহতরা হলেনÑ মো. হাসান (২৬), জসিম (২৪), ইসমাইল মিয়া (৫০)। এরমধ্যে একজন সিএনজি চালক, একজন পথচারী ও এক মিল শ্রমিক রয়েছেন। তারা গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাহিমের পায়ের হাঁটুর পুরো অংশে গুলির আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে, তবে জীবনহানির আশঙ্কা নেই। শিশুটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ ছাড়া বাকিদের শরীরে ছররা গুলির আঘাত রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মোরশেদ খান গ্রুপ ও আব্দুস সোবাহান-শওকত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই উত্তেজনার জের ধরেই হঠাৎ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। পুলিশ জানায়, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ দিগি¦দিক ছুটতে থাকে। তবে হামলায় প্রতিপক্ষের কোনো সদস্য আহত না হলেও নিরীহ সাধারণ মানুষই এর শিকার হন। পুলিশি তদন্তে ওঠে এসেছে, মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। নগর পুলিশের প্রণীত ৩০০ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে পুনরায় এলাকায় সক্রিয় হন। তবে এলাকায় ফিরে আসার পর প্রতিপক্ষ সোবাহান ও শওকতের অনুসারীরা তাকে মারধর করে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে। সেই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই মোরশেদ খানের অনুসারীরা এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদিকে, সংঘর্ষের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেনের বাসা থেকে একটি দেশীয় শটগান ও দু’টি কার্তুজ উদ্ধার করে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি শটগান, দুই রাউন্ড গুলি এবং দু’টি কিরিচ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক আসামি মো. ফারুক হোসেনের বাসা থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন