কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইট কারখানায় আগুনে পাঁচ শ্রমিক নিহত

কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইট কারখানায় আগুনে পাঁচ শ্রমিক নিহত

ফন্ট সাইজ:

কেরানীগঞ্জের আম বাগিচায় একটি গ্যাসলাইট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত শ্রমিকদের এখনো নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, গতাকল দুপুর ১২টায় কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় মুহূর্তেই পুরো কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কারখানাটি আবাসিক এলাকায় হওয়ায় আশপাশের মানুষ আগুনের শিখা দেখে চিৎকার করতে থাকে। এসময় স্থানীয়রা আগুন নেভাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে দুপুর ১টায় কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট, পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ও সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনে পোড়া একটি ঘর থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে। এদিকে আগুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেরানীগঞ্জ সার্কেল সহকারী কমিশনার ভূমি আফতাব আহমেদ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি ইনচার্জ আলম ও ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও আফতাব আহমেদ জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেয়া হবে। ঢাকা জেলা দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার ফয়সলুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনো সঠিকভাবে কোনো কিছু জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতের পরিমাণও নির্ধারণ করা যায়নি। কেরানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার জানান, কেরানীগঞ্জের ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সদরঘাট ও পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের অক্লান্ত পরিশ্রমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, কারখানার মালিক হাজী আকরাম হোসেন। তবে ওই কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর ১ বছর আগেও এই কারখানায় আগুন লেগেছিল। মহল্লার মধ্যে কারখানাটি হওয়ায় এলাকাবাসীর দাবি কারখানাটি এখানে আর চলতে পারবে না। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগুনে হতাহতের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও ক্ষতি অপূরণীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ অবিলম্বে খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুর্ঘটনার খবর জানার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
দুপুরে কদমতলী চৌরাস্তা আল বারাকা হাসপাতালের পাশে একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন