সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শনিবার রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর মোড়ের দিকে যায়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গণভোটে প্রাপ্ত জনমত উপেক্ষা করে সরকার একক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

এ সময় বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন বিপ্লবকে অস্বীকার করা। আজকে যারা এমপি হয়েছেন তা হয়েছে শুধুমাত্র জুলাই বিপ্লবের কারণে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করার মাধ্যমে সরকারি দল ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সমস্ত ক্ষমতা দিতে চায়। আমাদের আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা যদি দুঃস্বপ্ন দেখেন জোর করে ক্ষমতায় থাকবেন, তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। জুলাই বিপ্লবে যারা রক্ত দিয়েছিল, তারা পরিবর্তনের জন্য রক্ত দিয়েছে। গণভোটের রায়কে মেনে নিলে জনগণ আপনাদের শ্রদ্ধা করবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে যেগুলো সরকারের ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে সেগুলো বিএনপি’র খুব পছন্দ, আর যেগুলো জাতির কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সেগুলো তাদের অপছন্দ। তিনি অভিযোগ জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তলে তলে বিএনপি সারা দেশে গণভোটে না এর পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছিল। নতুন বাংলাদেশে সুবিধাবাদী ও মুনাফেকের রাজনীতি বাংলার মানুষ সহ্য করবে না। ৭০ শতাংশ মানুষের বিপক্ষে গিয়ে ক্ষমতার মসনদে টিকতে পারবে না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাদের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীরা ২৮শে আগস্ট রক্ত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণের রায়কে মেনে নিন না হলে আমরা রাজপথ ও সংসদে মোকাবিলা করবো।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, আমরা ভাবতে পারিনি আমাদের রাজপথে নামতে হবে। বিএনপি গণভোটের রায়কে অস্বীকার করছে। বিএনপি যে পথে হাঁটছে এটা জনগণের বিরুদ্ধে পথ, ফ্যাসিবাদের পথ। বিএনপিকে দাবি মেনে নেয়ার জন্য বাধ্য করতে হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একইদিনে দুটি ভোট হয়েছে। গণভোট হয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য। বিএনপি শুধুমাত্র সংসদের শপথ নিয়েছেন কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। তারা গণভোটকে অমান্য করে জাতিকে অবজ্ঞা করেছে। তিনি বলেন, সরকার যদি জনস্বার্থের পক্ষে কাজ করে তাহলে তারা সহযোগিতা করবেন কিন্তু এর বিরুদ্ধে গেলে রাজপথ ও সংসদে প্রতিবাদ করবেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ বাদ দেয়া হয়েছে। এখন পাঁয়তারা করছে সংস্কার না করে সংশোধনী বিল আনার। এটার জন্য জুলাই বিপ্লব হয়নি। ফ্যাসিবাদ যদি কায়েম করতে চান ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। যতক্ষণ পর্যন্ত সংস্কার পরিপূর্ণ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো।

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, দ্বিচারিতা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবে না। সংস্কার পরিষদের কথা নতুন কোনো কথা নয়। দুই-তৃতীয়াংশ সিটের ক্ষমতার জোরে তারা সেটাকে অমান্য করার পাঁয়তারা করছে। দেশ পরিচালনা করতে সংবিধান লাগবে কিন্তু সে সংবিধান ৭২-এর মুজিববাদী সংবিধান না। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রক্ষমতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, গণভোট মেনে নেয়া হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ স্বচ্ছ হবে, কারও একক কর্তৃত্ব থাকবে না এবং পিআর পদ্ধতিতে উচ্চ কক্ষ গঠিত হবে, অন্তর্বর্তীমূলক কাঠামো আসবে- এ কারণেই গণভোট মানা হচ্ছে না। সরকারে পতন নয় সুন্দর পদক্ষেপের অপেক্ষা করছি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির জয়েন্ট সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা ও জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

A N M Habibullah

২ মাস আগে

বিগত ১৭ বছর আর্থিক লুট পাট ও বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থা দেশ খুব ই সংকটে পড়েছে। আমাদের কার্যক্রম এটা মাথায় রেখে করতে হবে। অন্যথায় আপনি আমি ও দেশ সবাই ভয়াবহ বিপদে পড়বো।

Bad mouth

২ মাস আগে

বুরকিনা ফাসো অভ্যুথান নেতা ইব্রাহিম জিন্দাবাদ।

Abdul Matin Sikder

২ মাস আগে

এরা দেশবিরোধী, দলের নাম যাই থাকুক এরা সবাই ভারতপন্থি গুপ্তলীগ, এদের করা অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতেই জনগন বিএনপিকে ভোট দিয়েছে, সরকার দলের সকল নেতার এই কথা ভাবতে হবে। সময় গেলে সাধন হবেনা, আপনারা যদি রাজনিতীর নামে এদেরকে যা খুশি তাই বলতে দেন, করতে দেন তাহলে জনগন কোথায় বিচার চাইবে, কার কাছে বিচার চাইবে? জনগনের ম্যান্ডেটকে কেন আপনারা এখনো মুল্যায়ন করতেছেন না? এবার অন্তত কঠোর হন।

মন্তব্য করুন