লাহোরের আকাশ মেঘলা থাকলেও গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের ২২ গজ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের আলোকছটায়। শুক্রবার পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) বৃষ্টির বাগড়ায় ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ২০ রানের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাহোর কালান্দার্স। এই জয়ে কালান্দার্সের নায়ক দুই টাইগার ক্রিকেটার। দলের হয়ে এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। এরপর বল হাতে দুই উইকেট শিকার করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাতেই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে উইকেটসংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ‘দ্য ফিজ’। টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৫ রানের পাহাড় গড়ে লাহোর। রান তাড়ায় ৫ উইকেটে ১৬৫ রানে থামে মুলতান। এই পথে চূড়ায় জায়গা করেন মোস্তাফিজ। যাকে নিজের আদর্শ বলে মানেন, পাকিস্তানের সেই মোহাম্মদ আমিরকে সরিয়েই সিংহহাসন নিজের করলেন তিনি। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে মোস্তাফিজের উইকেট এখন ৪১৬টি। ৪১৪ উইকেট নেয়া আমিরের (৩৫৬টি) চেয়ে ম্যাচও বেশ কম খেলেছেন মোস্তাফিজ (৩২৫টি)। পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) এবারের আসর শুরুর আগে এ তালিকার তিনে ছিলেন এ টাইগার পেসার। দ্বিতীয় ম্যাচে করাচি কিংসের বিপক্ষে ১ উইকেট নিয়ে ছাড়ান আরেক পাকিস্তান পেসার ওয়াহাব রিয়াজকে (৪১৩)। সে পথ ধরে এবার চূড়ায় উঠে গেলেন মোস্তাফিজ। জয়ের পর লাহোর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেন, আমাদের দলে কয়েকজন বিশ্বসেরা রয়েছেন। আমাদের ফিজ (মোস্তাফিজ) আছে এবং হারিস (রউফ)। তারা টপ কোয়ালিটি বোলার।’চলমান আসরে প্রথম দুই ম্যাচে চারে নেমে থিতু হতে পারেননি পারভেজ। তবে মুলতানের বিপক্ষে টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার প্রতিদান দেন ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েই। প্রথম ৯ বলে ৭ রান নিয়ে শুরুটা ধীরেসুস্থেই করেন তিনি। তবে এরপর ধারণ করেন রুদ্রমূর্তি। মোহাম্মদ নেওয়াজকে টানা দুই ছক্কা ও এক চার মেরে ডানা মেলেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর ফয়সাল আকরামকে হ্যাটট্রিক ছক্কায় উড়িয়ে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দেন তিনি। মোহাম্মদ ইসমাইলের বলে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়ায় ব্যক্তিগত ফিফটি থেকে ৫ রান দূরে থাকতেই থামতে হয় পারভজেকে। সাজঘরে ফেরার আগে ১৯ বলে ৪৫ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি। ৫ ছক্কা ও ২ চারে সাজানো এই বিধ্বংসী ইনিংসটি স্রেফ ১৩ ওভারে লাহোরকে ১৮৫ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়তে সাহায্য করে।
মুলতানের রান তাড়ার সময় দৃশ্যপটে আসেন মোস্তাফিজ। নিজের প্রথম ওভারেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সাজঘরে ফেরান গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাহিবজাদা ফারহানকে (২৪)। দলীয় ষষ্ঠ ওভারে স্রেফ ৫ রান দিয়ে লাহোরকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন দ্য ফিজ। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে কিছুটা খরুচে হলেও, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নিতে ভুল করেননি এ বাঁহাতি পেসার। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা শান মাসুদকে (১৮ বলে ৪৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে মুলতানের জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা দেন তিনি। শেষ ওভারে দুটি ছক্কা হজম করলেও, ৩ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার মোস্তাফিজই। আসরে এটিই তার প্রথম জোড়া উইকেট শিকার। লাহোরের হয়ে ২৮ বলে সর্বোচ্চ ৬০ রান করে ম্যাচ সেরা হন মোহাম্মদ নাঈম। শেষ দিকে মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার ২২ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললেও তা দলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
পারভেজের টর্নেডোর পর মোস্তাফিজের রেকর্ড
স্পোর্টস ডেস্ক
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
