আদিতমারী সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকতা ডা. রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে করোনাকালীন কর্মচারীদের সম্মানীর ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স, ওয়ার্ড বয়সহ কর্মচারীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় রংপুর বিভাগীয় পরিচালক গঠন করেছে তদন্ত কমিটি। ডা. রাজন কুমার দাস বর্তমানে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার উত্তর মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হন।
অভিযোগে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে জীবন বাজি রেখে আদিতমারী সরকারি হাসপাতালের নার্স, বয়, আয়াসহ কর্মচারী করোনা রোগীদের সেবা দেয়। এ সময় সরকারি হাসপাতালের সেবাদানবকারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ আসে কয়েক দফায়। শেষ পর্যায়ে ওই হাসপাতালের করোনা রোগীদের জন্য ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার অনুদানের টাকা বরাদ্দ আসে। ওই হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহম্মেদ টাকা গ্রহণ করে তালিকা করে সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় পুনরায় ডিডিও অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন। পরবর্তীতে ডা. তৌফিক আহম্মেদ বদলি হওয়ার কারণে বিতরণ বা উত্তোলন করেনি। এ সময় হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা হিসেবে ডা. রাজন কুমার দাস যোগদান করেন। যোগদানের ৩ মাস পর গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বদলি হন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার উত্তর মতলব সরকারি হাসপাতালে। বদলি হয়ে যাওয়ার পূর্বে ১০ই ফেব্রুয়ারি ডা. রাজন কুমার দাস হাসপাতালের অফিস বড় বাবুসহ কয়েকজন কর্মচারীর সহয়তায় কাউকে না জানিয়ে গোপনে ডিডিও অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখার ম্যানেজার মানবজমিনকে বলেন, চলতি বছরের ১০ই ফেব্রুয়ারি ডা. রাজন কুমার দাস ডিডিও অ্যাকাউন্ট থেকে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। টাকা উত্তোলন করে ডা. রাজন কুমার দাস ২০২৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি বদলি হয়ে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার উত্তর মতলব সরকারি হাসপাতালে। উত্তোলন টাকা নার্স, বয়, আয়াসহ অন্য কর্মচারীদের মাঝে বিতরণ না করে ডা. রাজন কুমার দাস আত্মসাৎ করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের নার্স, বয়, আয়াসহ কর্মচারীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শেষে ওই হাসপাতালের সিনিয়র নার্স এস, এস, এন শেফালী বেগমসহ প্রায় ৪০ জন নার্স, আয়া, বয়সহ কর্মচারী রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য ও প.প. পরিচালক নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগকারী সিনিয়র নার্স শেফালী বেগম বলেন, ওই টাকা করোনার সময় সেবাদানকারীদের জন্য আমরাও জানি। কিন্তু কাউকে না জানিয়ে সবার টাকা নিয়ে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক। আমরা টাকা ফেরত চাই।
নার্স লক্ষ্মীরানী দেবনাথ জানান, আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার সময় কাজ করেছি সেই টাকা আমরা ফেরত চাই। টাকা ফেরত না পেলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। নার্স কনা রানী, নমিতা রানী রায়, আরিফ হোসেনসহ অনেকেই জানান, ডা. রাজন কুমার দাস আমাদের টাকা ফেরত না দিলে আমরা কর্মবিরতি পালনসহ কঠোর আন্দোলন করবো।
হাসপাতালের নতুন স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. মো. ইফতেখার হোসেন খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় ব্যাংকে খোঁজ নেই। ব্যাংক স্টেটমেন্ট থেকে জানা গেছে ডা. রাজন কুমার দাস ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন ডিডিও ফান্ড থেকে। ধারণা করা হচ্ছে ওই টাকা করোনাকালীন নার্স, বয়, কর্মচারীদের অনুদানের টাকা।
ডা. ইফতেখার হোসেন খান আরও বলেন, ডা. রাজন কুমার দাসের সঙ্গে মোবাইলে টাকার বিষয় জানালে তিনি তাকে জানান, বিতরণ করতে সময় পাইনি তবে উত্তোলনকৃত টাকা ৮ লাখ ৪০ হাজার গত ঈদের পর দিন ব্যাংকে জমা দেয়ার কথা জানান। টাকা জমা দেয়ার কথা জানালেও ঈদ শেষ হওয়ার ১৪ দিনেও ফেরত দেয়নি। সিভিল সার্জন লালমনিরহাট ডা. আব্দুল হাকিম জানান, করোনাকালীন টাকা না দিয়ে ডা. রাজন কুমারের অন্যায় হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে আরও কেউ জড়িত থাকলে তা জানা যাবে। ডা. রাজন কুমার দাস জানান, অ্যাকাউন্ট আমার ডিডিও তাই টাকা তুলে এনেছি। ওদিকে রংপুর বিভাগীয় (স্বাস্থ্য ও প.প.) উপ-পরিচালক (এডি) ডা. মো. মেশকাতুল আবেদ জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকলে তা তদন্ত করে নেয়া হবে ব্যবস্থা।
আদিতমারী হাসপাতালে করোনাকালীন কর্মচারীদের সাড়ে ৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
মিলন পাটোয়ারী, লালমনিরহাট থেকে
৫ এপ্রিল (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
