মজুতদারিদের চাপে গাড়ির প্রকৃত মালিকরা জ্বালানি থেকে বঞ্চিত

মজুতদারিদের চাপে গাড়ির প্রকৃত মালিকরা জ্বালানি থেকে বঞ্চিত

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের পাম্পগুলো তেল সংগ্রহকারীদের চাপে পাম্প মালিক, কর্মচারী, পুলিশ ও ট্যাগ অফিসারগণ হিমশিম খাচ্ছে। কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছে না জ্বালানি সংগ্রহকারীদের। জ্বালানি মজুত শেষ হয়ে যাবে এ কারণে চাহিদার তুলনায় অধিক জ্বালানি সংগ্রহের প্রতিযোগিতা চলছে বলে মনে করছেন পাম্প মালিকরা। একই গাড়ির মালিক বা চালকগণ একাধিক পাম্প থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে মজুত করার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। একই ব্যক্তি একাধিক বার লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি উত্তোলন করে বাইরে নিয়ে মজুত করে আবার তেল সংগ্রহ করতে আসছে। এদের চাপে প্রকৃত সাধারণ গাড়ির মালিক জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত টানা ১৩ ঘণ্টা জ্বালানি তেল বিক্রি করে পুলিশ লাইন মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশন। একজন সরকারি ট্যাগ অফিসার ও ১৮ জন পুলিশ, পাম্পের প্রতিনিধি ৮ জন কর্মচারী হিমশিম খেতে হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে জ্বালানি একপর্যায়ে মজুত কমে আসলে পাম্পের মালিক গেট বন্ধ করতে ঘোষণা দিলে বাইকচালকরা গেট ভেঙে পাম্পে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। নিরুপায় হয়ে সন্ধ্যা ৭টায় পুলিশ প্রহরার পাম্প বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এই সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে মানবজমিনের প্রতিবেদক মতিউল আলমসহ পাম্পের কর্মচারীরা নিরাপত্তার স্বার্থে রাত ৯টা পর্যন্ত জিম্মি অবস্থায় থাকতে হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশনের মালিক সাইফুল আলম জানান, সরকার পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছে। নিরাপত্তার অভাবে জ্বালানি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গাড়ির মালিক ও চালক একাধিকবার জ্বালানি সংগ্রহকারীদেরকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, পুলিশের আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতি মোটরসাইকেলকে ৩’শ টাকার অকটেন এবং ৫০০ টাকা করে পেট্রোল দেয়া হয়েছে। প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে ১৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ৯ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার পেট্রোল মোট ১৮ হাজার লিটার অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ পান। টানা ১৩ ঘণ্টায় ১২ হাজার লিটার জ্বালানি পুলিশ পাহারার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে ৬ হাজার লিটার তেল মজুত রয়েছে। যা খোলার ৬ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। বাকি বেলা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সকাল থেকে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। মেসার্স সাইফুল ফিলিং স্টেশন ও ময়মনসিংহ টাউন হল সংলগ্ন পাম্প ২টি শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকায় মোটরসাইকেল চালকরা এই ২টিতে তেল সংগ্রহে চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে শহরের অটোরিকশা ও রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির নাম্বারসহ টোকেন সিস্টেম করলে একাধিকবার তেল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে না। ময়মনসিংহ প্রতিটি জ্বালানি পাম্পে এ অবস্থা বিরাজ করছে। এছাড়া কিছু কিছু পাম্পের মালিক রাতের আঁধারে জ্বালানি তেল মজুত করার প্রমাণও মিলেছে। ময়মনসিংহ জেলায় জ্বালানি তেলের ক্রয়-বিক্রয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ও ডিলার ছাড়া খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপর তেল নিয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে। এদিকে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মাটির নিচে ট্যাংক থেকে ২৩ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন প্রশাসন। এ ঘটনায় পাম্প মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত শনিবার (২৮শে মার্চ) দুপুরে উপজেলার পয়ারী রোড আমুয়াকান্দা নামক স্থানে মেসার্স পপি ট্রেডার্স নামীয় পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (২৮শে মার্চ) বিকালে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশন ও অনুমোদিত ডিলারকে প্রতিদিন তেল বিতরণ শুরুর আগে তাদের মজুতের তথ্য দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে। একইসঙ্গে বোতল, ড্রাম বা কন্টেইনারে করে কোনো অবস্থাতেই জ্বালানি তেল বিক্রি বা সংগ্রহ করা যাবে না। তবে সরকারি বা বিশেষ প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনুমোদিত বিশেষ কাগজের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনের ক্ষেত্রে জ্বালানি সংগ্রহের সময় বৈধ কাগজপত্র যেমন ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ট্যাক্স টোকেন-সঙ্গে রাখতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রদর্শন করতে হবে। মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা যাবে। কিন্তু এসব নিয়ম কিছুই মানছে না তেল সংগ্রহকারীরা। এদিকে নেত্রকোণা, পূর্বধলা, শ্যামগঞ্জ, ময়মনসিংহ নগরীর ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলো বন্ধ রয়েছে। তেলের গাড়ি আসলে মালিক কর্মচারী জানান, তেল সরবরাহ নেই রাত ৮টা থেকে তেল সরবরাহ করা হবে। এর আগে তেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ সুযোগে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, সিএনজি পিকভ্যান, সকল গাড়ির ভাড়া দ্বিগুণের বেশি আদায় করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন