আরেকবার মাঠের বাইরের বিতর্কে নাম জড়ালো নেইমার জুনিয়রের। রেফারিকে উদ্দেশ্য করে ‘সেক্সিস্ট’ বা লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যের জেরে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন তিনি। এমনিতেই কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় সান্তোসের পরের ম্যাচে সেলেসাও তারকা নিষিদ্ধ। এরপর এই বড় শাস্তি কার্যকর হলে আসন্ন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
ব্রাজিলিয়ান শীর্ষ লীগ সিরি-আতে গত বৃহস্পতিবার রেমোর মুখোমুখি হয় সান্তোস। ম্যাচটিতে সান্তোস ২-০ ব্যবধানে জয়ের দিন দু’টি গোলেই অবদান রাখেন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। তবে ৮৬তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ফাউলের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এর ফলে ফ্ল্যামেঙ্গোর বিরুদ্ধে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে দর্শক হয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ সামলাতে না পেরে রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইওরের কড়া সমালোচনা করেন নেইমার। তিনি বলেন, ‘রেফারির আচরণ রীতিমতো অশ্রদ্ধার পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। সে ম্যাচের তারকা হতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার আচরণ মোটেও সম্মানজনক নয়। কারও কথা শুনতে চায় না। সবখানে আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।’ এক পর্যায়ে আক্রমণ করেই নেইমার বলেন, ‘সাম্পাইও এমনই, মনে হচ্ছে তার পিরিয়ড চলছে।’ ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের এমন মন্তব্য অত্যন্ত লিঙ্গবৈষম্যমূলক এবং কুসংস্কার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ব্রাজিলের ‘কোড অব স্পোর্টস জাস্টিস’-এর ২৪৩-জি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি লিঙ্গ, বর্ণ বা শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনো বৈষম্যমূলক বা জঘন্য মন্তব্য করেন, তবে তিনি ৫ থেকে ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন। সম্প্রতি একই অপরাধে রেডবুল ব্রাগান্তিনোর ডিফেন্ডার গুস্তাভো মারকুইস ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান। নারী-সম্পৃক্ত বিষয়কে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচিত হচ্ছেন নেইমার।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা করতে হলে খেলোয়াড়দের শতভাগ ফিট থাকতে হবে এবং নিয়মিত খেলার মধ্যে থাকতে হবে। আগামী ১৮ই মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার কথা রয়েছে। এখন নেইমার যদি ৫-১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েন, তবে আনচেলোত্তির কাছে নিজের ফিটনেস প্রমাণের জন্য তার হাতে কোনো ম্যাচই বাকি থাকবে না।
মাঠের পারফরম্যান্সে ছন্দ ফিরতে থাকলেও, মেজাজ আর বেফাঁস মন্তব্যে নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন এখন খাদের কিনারায়। বিশ্লেষকদের মতে, এমন আচরণ শুধু মাঠের শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাতেও নেইমারকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
