পাবনার চাটমোহরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর স্বামী সবুজ মণ্ডলকে (৩২) কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত বুধবার দুপুরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনিষা মণ্ডল নামের ওই গৃহবধূ। রাতেই এ ঘটনায় মৃত গৃহবধূ মনিষা মণ্ডলের বাবা উপেন সরকার স্বামী সবুজ মণ্ডলসহ চারজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সকালে একই উপজেলার ফৈলজানা খ্রিষ্টানপাড়া গ্রামের সুবল মণ্ডলের ছেলে সবুজ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। মামলা ও স্বজনদের অভিযোগে জানা গেছে, মনিষা ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখান থেকে সম্প্রতি স্বামী তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এ সময় তিনি (মনিষা) চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে মনিষার পেটে লাথি মারা হলে তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এমনকি ভিডিও কলে আত্মীয়-স্বজনদের ওই নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এরপর তাকে গ্রামের বাড়িতে প্রায় পাঁচদিন একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এ সময় মনিষা মণ্ডলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও কোনো ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বুধবার সকালে তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার মূহূর্তে মারা যান মনিষা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সবুজের বাবা সুবল মণ্ডল বলেন- দাম্পত্য কলহের জেরে মনিষা তিন মাস আগে ঢাকায় চলে যান। সেখানে একটি বাসায় কাজ করার একপর্যায়ে সবুজ তাকে নিয়ে আসে। মনিষা নিজেই গর্ভপাতের জন্য ওষুধ সেবন করেছিলেন। তারপরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন- এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ হেফাজতে রাখা সবুজকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
চাটমোহরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে কারাগারে স্বামী
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
