নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রায় ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা খুইয়েছেন। ভুয়া স্বর্ণের বার বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় চক্রের সদস্যরা। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূলহোতাসহ অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তার সুজন মিয়া ও মীনা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী আবু বকর ওরফে শাওন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের কবিচন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০)কে। মামলার বিবরণে জানা যায়, গাজীপুরের টঙ্গীর পাগার এলাকায় ‘মা জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে ভুক্তভোগীর। গত ২২শে মার্চ এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, জুয়েল মিয়ার কাছে স্বর্ণের বার রয়েছে, যা বিক্রি করতে চান তিনি। পরে মোবাইলে স্বর্ণের বারের ভিডিও দেখিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়। তাদের কথামতো গত ২৮শে মার্চ আবু বকর কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাতে তিনি অভিযুক্ত জুয়েল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কথিত স্বর্ণের বার দেখেন এবং ৭০ ভরি স্বর্ণ কেনাবেচার বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। পরদিন নগদ টাকায় লেনদেনের শর্তে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে মোট ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। ৩০শে মার্চ সকালে আসামিদের বাড়িতে গিয়ে নগদ টাকার বিনিময়ে পলিথিনে মোড়ানো স্বর্ণের বার গ্রহণ করেন তিনি। তবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরপরই আসামিরা তাকে গাড়ির কাছে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। এতে তার সন্দেহ হলে স্থানীয় এক স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করান তিনি। তখনই জানা যায়, বারগুলো স্বর্ণ নয়, বরং পিতলের তৈরি। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের বাড়িতে ফিরে গেলেও কাউকে খুঁজে পাননি। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুজন মিয়া (৩০) ও মিনা আক্তার (৪৫) কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। ভুক্তভোগী আবু বকর জানান, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁদে ফেলে ভুয়া স্বর্ণ বিক্রির নামে এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদী মাকসুদ বলেন, ২ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূলহোতাসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কেন্দুয়ায় প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার, মূলহোতাকে খুঁজছে পুলিশ
কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
