মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় কৃষকরা সেচকাজে ব্যবহৃত ডিজেল না পেয়ে তেলের খালি টপ ও ড্রাম নিয়ে হাজির হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সরজমিন মহম্মদপুরের একমাত্র ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে সাধারণ জনতার সুদীর্ঘ লাইন। তবে পাম্পে ডিজেল সরবরাহ নেই এবং কৃষকরা ডিজেল না পেয়ে ফিরছেন হাতে খালি টপ নিয়ে। তিনটি দোকানে কৃষকদের মাঝে ডিজেল দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও কৃষকরা সেসব ডিলারদের দোকানে ভোর থেকেই সাপের মতো আঁকাবাঁকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর লাইনের মাধ্যমে ভিড় করলেও সরবরাহ না থাকায় তাদের ডিজেল দেয়া হয়নি। দোকান ও পাম্পে ডিজেল না পেয়েই কৃষকরা সংঘবদ্ধ হয়ে খালি টপ হাতে নিয়ে ডিজেলের জন্য ইউএনও অফিসে হাজির হয়ে ভিড় করতে দেখা যায়। কৃষকরা জানান, পাম্পে কাকডাকা ভোর থেকেই তারা ড্রাম হাতে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও পাম্প থেকে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে ডিজেল নেই। তারা ক্ষোভ ও দুঃখ নিয়ে বলেন, জমি চষে রেডি করে রেখেছি সেচ দিয়েই পাটের বীজ বোনার জন্য। কিন্তু তেলের অভাবে ইঞ্জিন চলছে না। সময়মতো সেচ দিয়ে বীজ বপন না করতে পারলে কৃষকের সারা বছরের আয়ের স্বপ্ন শেষ। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে জানা যায়, এবার উপজেলায় ৫৪ হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ ছাড়া, এখন পাট চাষের ভরা মৌসুম। এ বছর উপজেলায় ৮০ হাজার বিঘা জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। প্রতিদিন এই বিশাল অঞ্চলের জন্য প্রায় সাত থেকে আট হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন বা চাহিদা রয়েছে। অথচ চাহিদা অনুপাতে কোনোভাবেই মিলছে না ডিজেল। কৃষকদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা কৃষি অফিসার পীযুষ রায় বলেন, বোরো ধান এবং পাট আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই মুহূর্তে সেচ ব্যবস্থা চালু রাখা কৃষকদের জন্য জীবন-মরণ সমস্যা। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষিনির্ভর আমাদের এই দেশে উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান মানবজমিনকে বলেন, ডিজেলের গাড়ি না আসায় এবং সরবরাহ না থাকায় কৃষকরা তেল না পেয়ে আমার নিকট এসেছেন। আমি ডিলার এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।
পাম্পে মিলছে না ডিজেল ইউএনও’র কার্যালয়ে কৃষক
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
৩ এপ্রিল (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
