মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন ব্যবস্থায়। দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের পাশাপাশি ট্রিপ কমিয়ে দিয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানও। ফলে পারাপারের জন্য যাত্রীদের আগের চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে হাতিরঝিলে ওয়াটার ট্যাক্সির চলাচল শুরু হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) তত্ত্বাবধানে ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনা করছে করিম গ্রুপ। হাতিরঝিল থানার আশপাশের এলাকাগুলোর প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এ সেবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উদ্ভূত বৈশ্বিক সংকটে বিপাকে পড়েছেন ওয়াটার ট্যাক্সি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও এখানকার যাত্রীরা। রামপুরা ব্রিজ থেকে পুলিশ প্লাজা, এফডিসি ও গুদারাঘাট রুটে ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল করে। গুদারাঘাট থেকে পুলিশ প্লাজা, এফডিসি ও রামপুরা ব্রিজ রুটেও ওয়াটার ট্যাক্সি চলাচল করে। আবার এফডিসি থেকেও পুলিশ প্লাজা, গুদারাঘাট ও রামপুরা ব্রিজে যাত্রী পরিবহন করা হয়। ১৫টি বোট সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রী পারাপার করে। এরমধ্যে বড় ৩টি বোটে একসঙ্গে ১২০ জন যাত্রী পারাপার করতে পারে। তেল সংকটের কারণে চলাচলকারী এসব রুটে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ট্রিপ সংখ্যা কমিয়ে দেয়া হয়েছে।
বুধবার সরজমিন ওয়াটার ট্যাক্সির প্রধান কাউন্টার এফডিসি ও রামপুরা ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুর বেলা অল্প কয়েকটি বোট ঘাটে ছিল। রামপুরা ঘাটে দুইটি বোট দেখা গেছে। এফডিসি ঘাটে বেশ কয়েকটি বোট বেঁধে রাখা হলেও একটি বোটে যাত্রী দেখা গেছে শুধু। ওই বোটের যাত্রীরা প্রায় আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করছিলেন।
ওয়াটার ট্যাক্সি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেলে সংকট হলেও পিক-আওয়ারে অর্থাৎ ব্যস্ত সময়গুলোতে বোট সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে কমিয়ে আনা হচ্ছে ট্রিপ। সকালবেলা অফিস শুরুর আগের সময়ে ঘাটে অনেক চাপ থাকে। চাপ সামাল দিতে বোটগুলোর শতভাগ ব্যবহার করা গেলেও এর কিছু সময় পরে তেলের অভাবে বন্ধ রাখা হয় বোট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুপুরের সময়ে ৩ থেকে ৪টি বোট চালানো হয়। সবচেয়ে বেশি ঘটতি পড়ে ওই সময়টায়। ফলে, দুপুর বেলা আসা যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় টিকিট কাটার পর। তবে দুপুরের পর অফিস থেকে ফেরার সময়টায় ট্রিপ সংখ্যা স্বাভাবিক করে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বোট সংশ্লিষ্টরা। রামপুরা ঘাটের টিকিট চেকার মো. ইয়াসিন বলেন, কোম্পানি ঠিকমতো তেল পায় না, তাই অনেক সময় বোট বন্ধ থাকে। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৫টি বোটই চলে। এরপর আধাঘণ্টার মধ্যে অনেকগুলো বোট বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রী থাকে অনেক। কিন্তু আমরা তাদের বলে দেই যাতে তারা বিকল্প ব্যবস্থা নেয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, বোট ছাড়তে দেরি হবে এই বিষয়টি কোনো কোনো কাউন্টার কর্তৃপক্ষ তাদের জানান না। টিকিট কেটে দীর্ঘক্ষণ তাদের বোটে বসে থাকতে হয়। সড়কের বিরক্তিকর যানজটের কবলে না পড়ে সময় বাঁচাতে ওয়াটার ট্যাক্সি বেছে নেন। কিন্তু এখন বোটের টিকিট কেটেও সময় অপচয় হচ্ছে। বুধবার দুপুরের দিকে এফডিসি ঘাটে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই দেখা যায়, ওয়াটার ট্যাক্সি থেকে একজন যাত্রী তেড়ে আসেন টিকিট কাউন্টারের দিকে। তিনি ২৫ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছেন টিকিট কেটে। এরপরও বোট যাত্রা না করায় তিনি পাড়ে উঠে আসেন বোট থেকে। ওই যাত্রী বলেন, টিকিট কাটার সময় তারা একবারও বলেনি এতক্ষণ দেরি হবে। এতক্ষণ সময় লাগবে বললে আমি বিকল্প ব্যবস্থা করতাম। তারা এখন যাত্রীদের বলছে বোটের তেল পরিবর্তন করবে, এরপর ছাড়বে। শহিদুল নামের আরেক যাত্রী বলেন, ২০ জন যাত্রী না হলে ছাড়ছে না। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। রামপুরা ঘাটের যাত্রী হাসান যাবেন গুলশান। তিনি বলেন, টিকিট কাটিনি এখনও। বোটের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে বাসেই আগে যেতে পারবো।
হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সির অপারেশন ম্যানেজার জয়নাল মানবজমিনকে বলেন, ট্যাক্সি চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪শ’ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। এখন ২০০ লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। তেলের কিছুটা ঘাটতি থাকায় দুপুরের সময়টাতে বোট কমিয়ে দেয়া হয়। তবে এরপরও বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। সকালবেলা অফিসে সময়ে যাত্রীরা বোটে উঠলেই সঙ্গে সঙ্গে বোট ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সবাই সময়মতোই যেতে পারছে। দুপুরে ট্রিপ কমিয়ে দিয়ে বিকাল চারটার পর আবার স্বাভাবিক সময়ের মতোই বোট চলছে।

mazhar
২ মাস আগেশপিংমল ,বিপণি বিতানগুলো রাত ৮ টার পর বন্ধ রাখা উচিৎ।