পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা আত্মহত্যার শামিল। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং জলজ ও বনজ সম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বিষমুক্ত করা হবে। বুধবার বেলা ১২টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মধু আহরণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। প্রতিটি মৎস্য আড়তে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাছে বিষের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে। কোনো আড়তে বিষাক্ত মাছ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আড়তদারকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং যারা এসব মাছ সরবরাহ করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এ অভিযান বিস্তৃত করা হবে।
মধু আহরণকারীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেজালমুক্ত মধু সংগ্রহ করতে পারলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এর চাহিদা বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মধুতে ভেজাল মিশিয়ে স্বল্পমেয়াদি লাভের চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদের কথা ভাবতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অসৎ পথে উপার্জিত অর্থে কখনোই ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে না।
সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরা রেঞ্জের আয়োজনে অনুষ্ঠানে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার, পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাও. আব্দুর রহমান প্রমুখ।
