চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গাছ ও বালুবোঝাই গাড়ি থেকে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদলের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল থেকে উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। পুরো এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আহতরা হলো- সাদ্দাম হোসেন (২৭), পিন্টু (২৫), মো. আনোয়ার (৩০), ধলা মিয়া (৩২), মোহাম্মদ রাসেল (২৮), মো. ফারুক (৩৩) সহ আটজন। জানা গেছে, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি-রামগড় সড়ক হয়ে পূর্বদিক থেকে আসা কাঠবোঝায় ট্রাক থেকে ১ হাজার ও বালুবোঝায় ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে টাকাগুলো তোলা হতো। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে সেখানে যুবদলের নুর উদ্দিন সহ কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে দু’গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিল। মঙ্গলবার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের ওপর হামলা করে আলমগীরের লোকজন। ফারুকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার পক্ষের লোকজন ছুটে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরেস্ট অফিস এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, ট্রাক, বালুর গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, মাদক নিয়ন্ত্রণ সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিএনপি দু’টি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে এলাকায় বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিরসরাইয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
