তেল পাচার বন্ধে সিলেট সীমান্তে কড়া নজরদারি
রাজধানীতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন্ল - নিজস্ব ছবি

তেল পাচার বন্ধে সিলেট সীমান্তে কড়া নজরদারি

ফন্ট সাইজ:

জ্বালানি তেল নিয়ে সিলেটে এখন পর্যন্ত তেমন হুলুস্থুল নেই। প্রশাসন ও পাম্প মালিকদের সমন্বয়ে নেয়া পদক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মিতব্যয়ী গ্রাহকরা। তবে সিলেটের শান্ত পরিবেশে যাতে কোনো প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে সে কারণে প্রশাসন আরও বেশি সতর্ক। বিশেষ করে সিলেটের সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। স্তরে স্তরে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ছকও সাজানো হয়েছে। সিলেট পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- সিলেট নগর এলাকা থেকে সীমান্ত এলাকার যেসব সংযোগ সড়ক রয়েছে সেসব রোডে এক বা একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে। সন্দেহ হলেই করা হচ্ছে তল্লাশি। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজন জানিয়েছেন- বড় আকারে সীমান্ত এলাকা থেকে তেল পাচার করা হয় না। কিছু কিছু অভিযোগ রয়েছে দুর্গম এলাকায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভারতের কিছু কিছু এলাকায় বেশি দামে বাংলাদেশ থেকে জ্বালানি তেল পাচার হয়। তবে সেটি কেবল ওই এলাকার মানুষের ব্যবহারের জন্য। এতে করে বাংলাদেশের বাজারেও কোনো প্রভাব পড়েনি, কিংবা অতীতে কোনো সময়ই এ নিয়ে হুলুস্থুল পড়েনি। এবারের সংকট বৈশ্বিক। এ অবস্থায় জ্বালানি পাচার রোধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। হিসাব করেই জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে। সংকট আছে। পরিস্থিতি সব পক্ষই সামাল দিচ্ছেন কৌশলে। ফলে এবার যতটুকু তেলই পাচার হবে ততটুকুর টান পড়বে সিলেটের বাজারে। এতে পড়তে পারে এর প্রভাবও। এজন্য পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিলেটের প্রশাসনের সব পক্ষই সরব।

সিলেট শহরতলীর হরিপুর। সেটি হচ্ছে সীমান্তবর্তী তিন থানার প্রবেশ মুখ। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চোরাচালান রোধ করতে হরিপুরের পার্শ্ববর্তী গ্যাস ফিল্ড এলাকায় স্থায়ী চেকপোস্ট বসায় সেনাবাহিনী। এতে কাজও হয়। চোরাচালান অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমানে হরিপুরের ফতেহপুর সড়কের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। জৈন্তাপুর থানা পুলিশ ওই এলাকা ছাড়াও তামাবিল সড়কে আরেকটি চেকপোস্ট বসিয়েছে। ওই পোস্টের অবস্থান জৈন্তাপুর বাজারে। ওই বাজার পাড়ি দিলেই ডিবি’র হাওর এলাকা। ওই স্থান সীমান্তের কাছাকাছি। জাফলংয়ের গেটওয়ে। ওখানে রয়েছে বিজিবি’র একটি স্থায়ী চেকপোস্ট। তেল পাচার রোধে ওই চেকপোস্টে বিজিবি’র সদস্যরা আরও বেশি সক্রিয় হয়েছে। রাতের আঁধারে সীমান্তবর্তী এলাকা সহ কয়েকটি এলাকায় তাদের টহল জোরদার রয়েছে। গোয়াইনঘাটের পুলিশও সোমবার থেকে সদরের বড় ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়েছে। চোরাচালান রোধে পূর্বে পুলিশ কিছু সময় চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করতো।

জেলার এসপি’র নির্দেশে এখন ২৪ ঘণ্টাই চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে। তাদের তল্লাশির কারণে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানও কমে এসেছে। জাফলং, হাজীপুর, প্রতাপপুর, পান্থুমাই, বিছনাকান্দি, লোভাছড়া, দয়ারবাজার এলাকায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে চেকপোস্ট বসিয়েও তল্লাশি করা হচ্ছে। ভোলাগঞ্জের ধলাই ব্রিজের পাশেই কালা সাদেক বিজিবি ক্যাম্প। ওই ক্যাম্প এলাকায়ও রয়েছে বিজিবি’র একটি স্থায়ী ক্যাম্প। তেল পাচার রোধে ওই ক্যাম্পের সদস্যরা এখন সব সময়ই সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি করছেন। সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক, সিলেট- কানাইঘাট সড়ক, সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কেও রয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। সিলেটের ৪৮ রাইফেল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হক সোমবার সিলেটের সাংবাদিকদের কাছে সীমান্তে নজরদারির ব্যাপারে ব্রিফ করেছেন। এ সময় তিনি জানিয়েছেন- বিজিবি’র পক্ষ থেকে ডিপো এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তেল পাচার রোধে সিলেটের সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি জায়গায় জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল সংকটের এবারের বিষয়টি বৈশ্বিক। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে পাম্পে পাম্পে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে সবক’টি সীমান্ত রোডে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। সন্দেহ হলেই পুলিশ যানবাহন তল্লাশি করছে বলে জানান তিনি।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন