এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কুইক সলিউশন নাই: গভর্নর

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রাইসিস

এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কুইক সলিউশন নাই: গভর্নর

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, গত ১৭ দিন ধরে অফিস করছি। এতে মনে হয়েছে আর্থিক খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকা উচিত নয় এবং চেষ্টা করছি যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না আসে। সহকর্মীদের বলছি, কারও (কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির) কথাই শুনবেন না, যদি শুনতে হয় সেই দায় আমার। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কুইক কোনো সলিউশন নাই। পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম গতিশীল করাও অগ্রাধিকারে রয়েছে বলে জানান তিনি।
রোববার মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট এবং সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার বাণিজ্য সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর। গভর্নরের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছিলেন। ডেপুটি গভর্নররা বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের করণীয়- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ফরেন এডভাইজার মধ্যপ্রাচ্যে সফর করছেন কোনোভাবে সমাধান বের করা যায় কিনা। তবে এই মুহূর্তেই আমাদের কাছে কোনো কুইক সলিউশন নাই। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম এনার্জি সিকিউরিটি দরকার। দ্বিতীয়ত ব্যয়কে কমিয়ে নিয়ে আসা। সরকারও চেষ্টা করছে। তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প চিন্তা করতে হবে।
গভর্নর বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মিটিং করেছি। দেশের লিডিং ইকোনমিস্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। আমরা সেগুলো বিবেচনা করছি।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত নিয়ে তিনি বলেন, অর্থ ফেরত আনার হার বৈশিকভাবে ভালো না। তারপর আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। এটার জন্য আরও কিছুটা সময় লাগবে।

স্টার্টআপের ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর ১% প্রফিট দিয়ে একটা ফান্ড করা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকার।
আগামী জুনের মধ্যে এটা ছাড় করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া এটা নিয়ে থাকলেই হবে না গ্রামীণ অর্থনীতিতে যেতে হবে। সরকারের পলিসি তাই। কৃষি ও এসএমই খাতের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিবো। এ ছাড়া কিছু ফ্যাক্টরি বন্ধ ছিল। সেগুলো চালু করার সহযোগিতা করা হবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তিনি বলেন, এই ব্যাংক যে অবস্থায় পেয়েছি, এখানে আর পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নাই। খুব শিগগিরই আরেকটা এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ সম্পন্ন হবে।

ক্যাশলেস লেনদেন বাধ্যতামূলক: ক্যাশলেস লেনদেন নিয়ে গভর্নর বলেন, রাজস্ব বাড়ানোর একটা বড় ম্যানেজমেন্ট প্রবলেম আছে। সেখানে আমরা যদি ক্যাশলেস ট্রানজেকশনটা বাড়াই রেভিনিউ অটোমেটিক্যালি বাড়বে। তাই ৩০শে জুনের মধ্যে বাংলা কিউআর ম্যান্ডেটরি করে দেয়া হবে প্রত্যেকটা পেমেন্টস পয়েন্টে। যদি তিন চার রকমের কিউআর কোড থাকে সেখানে একরকম কিউআর কোড হবে। জুলাই থেকে এনফোর্সমেন্ট শুরু করবো। কেউ যদি বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার না করে তাকে ফাইন করা হবে। ফলে ফুটপাথেও দেখবেন কিউআর কোডের ট্রানজেকশন হচ্ছে। এতে দুইটা তো লাভ হবে। নোট ছাপানোর কস্ট কমবে। অন্যদিকে রাজস্ব বাড়বে।

সভায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় একগুচ্ছ নীতিগত পদক্ষেপ ও বিকল্প পরিকল্পনা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, যুদ্ধ তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত চললেও আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। কোনোরকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই ডলার বিনিময় হারও স্থিতিশীল রয়েছে এবং বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা কম।
ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে চলতি অর্থবছরে মৌসুমি প্রভাব- বিশেষ করে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে- রেমিট্যান্স ২ থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জুন মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সরকার-থেকে-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে কমদামে বা অনুদান হিসেবে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এ ছাড়া সরকার আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।
রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এতে সরকারের পরিচালন বাজেটেও ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থবহ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের বেশি হওয়া প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈঠকের শুরুতে ইআরএফ’র সেক্রেটারি আবুল কাশেম দেশের অর্থনীতির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরে বলেন, আইএমএফের শর্ত যেন অর্থনীতির জন্য ওভার প্রেসার ক্রিয়েট না করে। ফিসক্যাল পলিসির জন্য যেন মানিটারি পলিসি কমপ্রোমাইজ করা না হয়। আমানতকারীদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করা। উইলফুল ডিফল্টারদের নাম গণমাধ্যমে দেয়ার দাবি জানান।

md.ekram hossain

২ মাস আগে

গভর্নরের পলিসি যুক্তি যুক্ত।সামনে এগিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি

মন্তব্য করুন