জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী অধ্যাপক দিলারা হাফিজ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে (শাহরুখ হাফিজ ও তাহারাত হাফিজ) এক মেয়ে (শামীমা শাহরীন) রেখে গেছেন।
দিলারা হাফিজের স্বামী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুর সময় স্পিকারসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালেই ছিলেন। দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এবং অন্যান্য হুইপ এবং সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মরহুমা দিলারা হাফিজ একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবী ছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সজ্জন শিক্ষাবিদকে হারালো। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান শোকবার্তায় বলেন, আমি তার (দিলারা হাফিজ) শোকাহত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একজন সহধর্মিণী হিসেবে তিনি পরিবার ও সমাজে যে অবদান রেখে গেছেন, তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমি মহান আল্লাহতাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এই কঠিন শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আজ বাংলাদেশ বিমানে মরহুমের কফিন ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। পরদিন ৩০শে মার্চ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বেলা ১১টায় এবং বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে মরহুমাকে দাফন করা হবে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত ২১শে মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল সিএমএইচ থেকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয় অধ্যাপক দিলারা হাফিজকে। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
দিলারা হাফিজের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২রা জানুয়ারি সুনামগঞ্জে। ছোটকাল থেকে কৃতী শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকেও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল নিয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সম্মান স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন দিলারা হাফিজ। তার কর্মজীবন শুরু সরকারি ইডেন মহিলা কলেজে প্রভাষক হিসেবে। কর্মজীবনে তিনি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
